একটোপিক প্রেগন্যান্সি: সময়ের হিসাব যখন মিনিটে আর সেকেন্ডে

0

ডা.ফাহমিদা শিরীন নীলা:

কেস-১

মাঝরাতে এক রোগী এলো, পেটে প্রচণ্ড ব্যথা। প্রশ্ন করতেই জানা গেল, কয়েকদিন আগে মিস করেছিল পিরিয়ড। রোগীর সাথে কথা বললাম।

-একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট করান।

-আমি প্রেগন্যান্সি টেস্ট আগেই করিয়েছি, নেগেটিভ এসেছে,আমি পিরিয়ড হওয়ার জন্য ওষুধ খাচ্ছি এবং এখন আমার একটু একটু পিরিয়ড শুরুও হয়েছে।

-রিপোর্ট কই?

-নেই সাথে।

-আচ্ছা,টেস্টটা আবার করান। এটা খুবই জরুরি।

নার্সকে জরুরি ভিত্তিতে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে বললাম। কিছুক্ষণ বাদে নার্স আমাকে জানালো, রোগীর লোক তাকে জবরদস্ত গালি দিচ্ছে, মূর্খ বলে। এমন স্টাফ হাসপাতালে কে চাকরি দিয়েছে, এ নিয়ে নাকি তার বিস্ময়ের সীমা নেই। পিরিয়ড চলাকালীন কোনো মেয়েকে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয় না, এটা তো পাগলেও বোঝে!

যা হোক, আমি এবার রোগীর লোককে ডাক দিলাম। ওনাকে বুঝিয়ে বললাম। অনেকক্ষণ কাউন্সেলিংয়ের পরেও উনি এমন মুখ করে থাকলেন যেন আমার মতো গাধা ডাক্তার পৃথিবীতে আর একটিও নেই।

রোগী ব্যথায় কাতর। আমি ব্যস্ত-সমস্ত হয়ে ওটি রেডি করতে বললাম। টেস্টের রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম না। বেশ বুঝতে পারছি, আমার হাতে সময় কম। রোগীর পেটের ভেতরে ক্ষরিত রক্ত ডায়াফ্রামকেও ডিস্টার্ব শুরু করেছে। রোগী উপরের পেটে হাত দিয়ে চিৎকার করছে, শুতেও পারছে না, বসতেও পারছে না।

রোগীর লোক ওটির দরজায় দাঁড়িয়ে মেয়েকে শাসিয়ে গেল, ‘রিপোর্ট আসলে ওটি করার আগে আমাকে আগে জানাবে’। ওটি রেডি করতে করতে রিপোর্ট এলো, প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ। রোগীর বাবাকে সেটা দেখিয়ে তারপর ওটি শুরু করলাম। বলাই বাহুল্য, পেট খুলতেই রোগীর পেটের পুরনো রক্তে নিজেও বেশ খানিকটা মাখামাখি হলাম। দেখলাম, আশঙ্কা সঠিক, রোগীর বাম টিউবে বাচ্চা ছিল, ওটা ফেটে রক্তক্ষরণ হচ্ছে পেটের ভিতরে।

কেস-২

রোগীর অনুযোগ, মাত্র দেড় মাসের বাচ্চা নষ্ট করেছে সে এমআর করে। কিন্তু তার কিছুদিন পর থেকেই পেটে ব্যথা, পেট ফুলে যাচ্ছে, স্বস্তি পাচ্ছে না কিছুতেই। আলট্রাসনোগ্রাফি সাথে নিয়ে এসেছে, পেটের ভেতরে কিছু তরল পদার্থ জমা আছে। এক্ষেত্রে প্রেগন্যান্সি টেস্ট করে লাভ হবে না বিধায় রোগীকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে রক্তের পরীক্ষা সিরাম বিটা-এইচসিজি করতে দিলাম। রিপোর্ট আসতে দেরি হবে। এদিকে রোগীর কন্ডিশন খারাপ হচ্ছে। রোগীর পার্টিকে কাউন্সেলিং করে পেট খুললাম। যা ভেবেছিলাম তাই। পেট খুলতে না খুলতেই লাল-কালো রক্তে ভেসে গেল ওটি। না, রোগীর জরায়ু অক্ষত, কিন্তু টিউব ফেটেছে অনেক আগেই।

কেস-৩

মাত্র ১৪ বছরের মেয়ে, হাতে সনোগ্রাফি রিপোর্ট, পেটের ডান সাইডে একটা সিস্ট। রোগের ইতিহাস শুনলাম, হঠাৎ প্রচণ্ড পেট ব্যথায় কিছুক্ষণ জ্ঞান ছিল না। তারপর একটা ওষুধ পায়খানার দ্বারে দিতেই ব্যথা শেষ। ওষুধ বের করে দেখালো, ডাইক্লোফেনাক সাপুজিটরি।

আমি রোগীর সাথে খানিকটা কৌতুকও করলাম, কী এমন ব্যথা তোমার যে এক ওষুধেই পালিয়ে গেল! মুখে যাই বলি, মাথার মধ্যে কিরকির করছে কিছু একটা। রোগীর শরীরে হাত দিয়ে পরীক্ষা করলাম। খুবই আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম, তার কোন টেন্ডারনেশ নাই অর্থাৎ আমি হাত দিয়ে টিপাটিপি করলেও সে পেটে কোনো ব্যথা অনুভব করলো না। বিটা এইচসিজি রিপোর্ট তারা করাতে পারবে না, গরীব মানুষ। প্রেগন্যান্সি টেস্টের রিপোর্ট উইকলি পজিটিভ। কিন্তু রোগীর চোখমুখ পুরোই পেপার হোয়াইট।

ভয়ে ভয়ে পেট খুললাম। কিন্তু এখানেও আশঙ্কা সত্যি করে দিয়ে বেরিয়ে এলো কালো রক্ত। দেখলাম, টিউব ফেটে গেলেও বাচ্চাটা সেখানেই আছে। ওমেন্টাম এসে সেটাকে ঢেকে রক্ত আপাতত বন্ধ করেছে।

একটোপিক প্রেগন্যান্সি, সাধারণ মানুষের কাছে যেটা টিউবে বাচ্চা বলেই বেশি পরিচিত, যদিও টিউব ছাড়াও ডিম্বাশয় বা প্রজনন তন্ত্রের অন্য যেকোনো অংশেও ভুলক্রমে আটকে যেতে পারে ভ্রুণ। নিষিক্ত ডিম্বানুর স্বাভাবিক বিছানা, জরায়ু ছাড়া অন্য যেকোনো স্থানে বেড়ে উঠাকেই আমরা বলি একটোপিক প্রেগন্যান্সি। এসকল এক্টোপিক স্থানের মধ্যে টিউবে আটকানোর সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি, এ কারণে এটা সাধারণের কাছে কিছুটা হলেও পরিচিত।

উপরের তিনটা কেস ছাড়াও প্রতিনিয়ত এরকম অসংখ্য কেসের সাক্ষী হচ্ছেন এদেশের গাইনি ডাক্তাররা। এবং মজার বিষয় হচ্ছে, এই কেসগুলোর প্রেজেন্টেশনও বৈচিত্র্যময়। এর পাশাপাশি এটি নিয়ে উদ্বিগ্নতার মূল কারণ হলো, এই কেসগুলোর কিছু ভয়ঙ্কর দিক রয়েছে।

প্রথমতঃ এসব কেসে খুব অল্প সময়ের মিসড পিরিয়ডের হিস্ট্রি থাকে। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে সেটাও থাকে না। যেমন ধরুন, রোগী বলতে পারে আমার পিরিয়ডের ডেট আরও দুদিন পরে। কিংবা এইতো দুদিন আগে ডেট ছিল, হয়নি।

সুতরাং বুঝিয়ে বললেও একটা বৃহৎ জনগোষ্ঠী আমাদের কথা বিশ্বাস করে না যে, এটা গর্ভজনিত জটিলতা হতে পারে। একথা বলামাত্র তারা এমনভাবে আমাদের দিকে তাকায় যেন, এইমাত্র তারা ভিন্নগ্রহের কোন প্রাণী দেখেছেন।

দ্বিতীয়তঃ এসব কেসে হুট করেই উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন ধরুন, বলা নেই, কওয়া নেই, তীব্র ব্যথা হয়েই রোগী অজ্ঞান। কিংবা, হুট করেই পেটে এমন তীব্র ব্যথা যে রোগী স্থির থাকতে পারছে না।

তৃতীয়তঃ কিছু কনফিউজিং উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন, তীব্র ব্যথার সাথে পিরিয়ড শুরু হয়েছে। কিংবা, তলপেটের তীব্র ব্যথার পরে উপরের পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। এমনকি এমনও রোগী পেয়েছি যে প্রথমেই উপর পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে এসেছে যা অনেকটাই গ্যাস্ট্রিক পেইনের মতো।

চতুর্থতঃ এই কেসগুলোতে রোগী এবং ডাক্তার উভয়ের হাতে সময় থাকে খুব কম। উপসর্গ দেখা দেয় একেবারে এমন ষ্টেজে যখন রোগী খুব দ্রুত খারাপ হতে থাকে। একবার কল্পনা করুন, পেটের ভেতরে একটা টিউব ফেটে গিয়ে প্রবল বেগে রক্তক্ষরণ হচ্ছে, কী ঘটতে পারে? সহজ ভাষায় যদি বলি, মুহূর্তে রোগী রক্তশূন্য হয়ে মারা যেতে পারে। ফলে এসব কেস ধারণা করলে আমরা সময়ের হিসাব করি শুধু মিনিটে নয়, সেকেন্ডে।

পঞ্চমতঃ ডায়াগনোসিসের সাথে সাথেই এইসব রোগীর অপারেশন করতে হয় অতি দ্রুতগতিতে। এবং অপারেশন করতে হলে হাতে রক্ত থাকা খুব জরুরি। আর সেটা হওয়া উচিত ফ্রেশ রক্ত। আমাদের দেশে জরুরি ভিত্তিতে ফ্রেশ রক্ত জোগাড় করা কতোটা কঠিন তা এদেশের ডাক্তাররা ছাড়া আর কে জানে! রোগীর শত শত উদগ্রীব লোকজন হঠাৎ আবিষ্কৃত রোগে উত্তেজিত হয়ে আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলেও নিজ শরীর থেকে রক্ত দিতে এরা খুবই শারীরিক দুর্বলতা অনুভব করে। যেমন ধরুন, স্বামী বলবে, আমাকে তো অনেক কাজ করতে হয়, আমার পক্ষে রক্ত দেয়া সম্ভব নয়। শাশুড়ি বলবে, না না আমার ছেলেদের শরীর এমনিতেই দুর্বল। এরা রক্ত দিতে পারবে না।

এখন আসি, এসব ভয়ংকর ঘটনার পেছনের সেই অঘটনঘটনপটিয়সীর রহস্য। যতোটা জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি ইনি করেন, ততোটা জটিল কিন্তু এর রহস্য নয়। একটু পেছনে গেলে দেখি, ডিম্বানু নিষিক্ত হয় মূলতঃ জরায়ুর উপরের দিকে কানের মতো ঝুলে থাকা দুটি টিউবের একটিতে। নিষিক্ত ডিম্বানু এরপর সাঁতরাতে সাঁতরাতে এসে জরায়ুতে ঢুকে সেখানেই প্রতিস্থাপিত হয়, এবং ধীরে ধীরে বড় হয়ে মানব আকৃতি ধারণ করে। এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

এখন এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি যদি কোনভাবে বাধাগ্রস্ত হয়! ধরুন, নিষিক্ত ডিম্বানুটি কোনো কারণে টিউব থেকে জরায়ুতে আসতে পারলো না, তাহলে ঘটনা কী ঘটবে? একটু চিন্তা করুন তো! এই ফাঁকে আমরা বরং জেনে নিই, বাঁধা প্রাপ্তির কারণ কী হতে পারে? খুব সহজভাবে যদি বলি, তাহলে বলতে পারি দুটো কারণে নিষিক্ত ডিম্বানু বা ভ্রুণ স্বাভাবিক গতিতে স্থানান্তরিত হতে পারছে না।
এক, টিউবের ভেতরের যে পথ বেয়ে সাঁতরে ভ্রুণ জরায়ুতে আসে সেটা কোন কারণে নষ্ট হয়ে গেলে। দুই, বাইরের কোন প্রভাবে টিউবের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে গেলে। হতে পারে সেটা ইনফেকশন, বড় টিউমার, এন্ডোমেট্রিয়োসিস ইত্যাদি ইত্যাদি যেটা ভ্রুণের গতিপথটা বদলে দেয় বা বাঁধাগ্রস্ত করে।

যে কারণেই হোক না কেন, সময়মত ভ্রুণটি জরায়ুতে প্রতিস্থাপিত হতে না পারলে সে ঐ টিউবের মধ্যেই বড় হতে থাকবে। কিন্তু টিউব তো জরায়ুর মতো স্ফীত হতে পারে না, সুতরাং নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার সাথে সাথেই সেটা ফেটে যাবে। শুরু হবে পেটের ভেতরে প্রবল রক্তক্ষরণ।

মজার বিষয় হলো, ভ্রুণ তৈরি হবার সাথে সাথেই জরায়ু তার ভেতরে ভ্রুণের জন্য বিছানা পাততে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সে বিছানা পেতে অপেক্ষা করার পর যখন ভ্রুণের দেখা পায়না তখন বিছানা সরিয়ে ফেলে সেডের আকারে, অর্থাৎ স্বাভাবিক পথেই শুরু হয় রক্তপাত যা অনেক ক্ষেত্রেই রোগীর মাসিক পিরিয়ডের ডেটের সাথে মিলে যায়। ফলে রোগী এটাকে স্বাভাবিক পিরিয়ড বলেই ধরে নেয়। আর এখানেই রোগ নির্ণয়ে আরও জটিলতার সৃষ্টি হয়।

একটা বিষয় মনে রাখা খুবই জরুরি, সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ করার পরেও কিন্তু এক্সিডেন্টাল প্রেগন্যান্সি হতে পারে। কারণ প্রতিটা পদ্ধতিরই একটা নির্দিষ্ট শতাংশ ফেইলিউর রেট আছে। এবং কিছু কিছু পদ্ধতির ফেইলিওর কেসে একটোপিকের সম্ভাবনা বেশি থাকে। সুতরাং আমার প্রেগন্যান্সির কোনো সম্ভাবনাই নেই, আমার তো মাসিক হচ্ছেই, আমার তো প্রেগন্যান্সি টেস্ট নেগেটিভ ইত্যাদি বিষয়ে অতিমাত্রায় আত্মবিশ্বাসী হবেন না।

আর একটা কথা তো বলে রাখা ভালো, প্রেগন্যান্সি টেস্ট কোন স্পেসেফিক টেস্ট না। অর্থাৎ প্রেগন্যান্সি হলেও এটা নেগেটিভ দেখাতে পারে, প্রেগন্যান্সি ছাড়াও এটা পজিটিভ দেখাতে পারে। এই ফাঁকে একটা মজার কথা বলে নিই। আপনারা হয়তো জানেন না, ছেলেদের এক ধরনের টিউমারেও প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হয়।

এখন আসি আসল কথায়, কীভাবে প্রতিরোধ করবো এ ধরনের ভয়াবহ ইনসিডেন্ট? সত্যি বলতে কী, এই ইনসিডেন্ট প্রতিরোধ আসলেই কঠিন। তবে একটোপিকের ক্ষেত্রে কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর কাজ করে যেগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে কিছুটা প্রতিরোধ সম্ভব।

আসুন,জেনে নিই কি সে রিস্ক ফ্যাক্টর। রোগী বা তার স্বামী কিংবা সেক্স পার্টনারের একের অধিক সেক্স পার্টনার বা অবাধ যৌন মেলামেশা, ধূমপান করা, বারবার বাচ্চা নষ্ট করা, তলপেটে ইনফেকশন, এমার্জেন্সি জন্মনিয়ন্ত্রণক পিলের যথেচ্ছ ব্যবহার, পূর্বে টিউবে কোন অপারেশনের ইতিহাস ইত্যাদি থাকলে একটোপিক প্রেগন্যান্সি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। উল্লেখিত প্রতিরোধযোগ্য বিষয়গুলো এড়িয়ে যাওয়া ছাড়াও, প্রেগন্যান্সি প্ল্যান করার আগেই একজন গাইনি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ কমিয়ে দিতে পারে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত একটোপিক প্রেগন্যান্সির হার।

ইন্সিডেন্ট প্রতিরোধ যদি নাও করা যায়, অন্ততঃ এই বেজায়গায় বেড়া ওঠা ভ্রুণ যেন এক্সিডেন্ট ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজন সাধারণ জনসাধারণের সচেতনতা। কিন্তু কীভাবে?

এক, প্রেগন্যান্সি টেস্ট পজিটিভ হলেই খুশীতে টগবগ করে না উঠে, অতি সত্ত্বর একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অবশ্যই একটা স্ক্যান করে দেখে নিন, আপনার ভ্রুণ তার উপযুক্ত বিছানায় সময়মতো পৌঁছেছে কিনা!

দুই, মিসড পিরিয়ড থাকুক বা না থাকুক, পেটে তীব্র ব্যাথা অনুভব করার সাথে সাথেই কিংবা হঠাৎ ব্যাথায় অজ্ঞান হলেই রোগীকে যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী হাসপাতালে বা ক্লিনিকে নিয়ে যান।

একটা কথা মনে রাখা খুবই জরুরি, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে টিউবে বাচ্চা বা একটোপিক প্রেগন্যান্সির জটিলতায় রোগী খুব দ্রুত মৃত্যুপথে ধাবিত হয়। পরিশেষে একটা কথা, একটোপিক প্রেগন্যান্সির ক্ষেত্রে ওভার ডায়াগনোসিস ইজ বেটার দ্যান মিস ডায়াগনোসিস। অর্থাৎ এই একটা ক্ষেত্রে একটু বেশি বেশি ধারণা করা ভালো। আমার ম্যাডাম প্রফেসর মেরিনা খানম বলতেন, রিপ্রোডাক্টিভ এজ গ্রুপের (সন্তান ধারণের বয়সকাল) যেকোনো রোগী প্রচণ্ড পেটে ব্যথা নিয়ে আসলে প্রথমেই একটোপিক প্রেগন্যান্সি মাথায় নিয়ে আসবে, হোক সে অবিবাহিত, ডিভোর্সি বা বিধবা। এই কথার মর্মার্থ হচ্ছে,কোনভাবেই যেন একটি কেসের ডায়াগনোসিসও মিসড না হয়।

বাস্তবতা এই যে, আমাদের দেশে বিবাহিত ব্যতীত অন্যান্য রোগীদের ক্ষেত্রে গর্ভজনিত এই জটিলতা একদিকে যেমন ধারণা করা মুশকিল, অন্যদিকে একবার ডায়াগনোসিস করার পর পার্টিকে বলা এবং ম্যানেজমেন্ট করাও বেশ জটিল। সুতরাং, প্রতিরোধই এক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

আমাদের দেশের মানুষের অসচেতনতা এবং এই রোগের বৈচিত্র্যময় প্রেজেন্টেশন একটোপিক প্রেগন্যান্সির ডায়াগনোসিস আরও জটিল করে তুলেছে। আর আমি প্রথমেই বলেছি, এই সকল কেসে আমরা সময়ের হিসাব করি মিনিটে-সেকেন্ডে অর্থাৎ এখানে মিনিট আর সেকেন্ডের ব্যবধানে আমরা হারাতে পারি একটি মায়ের মূল্যবান জীবন। সুতরাং একটাই অনুরোধ, প্লিজ প্লিজ প্লিজ সচেতন হোন। প্রেগন্যান্সি প্ল্যান করার পূর্বেই নিজের সুস্থতা যাচাই করে নিন, হঠাৎ প্রেগন্যান্সি হলে জানার সাথে সাথেই ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন, যেকোনো অসুস্থতা দেখা দিলে সঠিক সময়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

প্রথম এবং শেষ কথা, যেকোনো মূল্যে সুস্থ থাকুন, আপনার অমূল্য জীবনের মূল্যায়ন করুন।

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অবস)
ফিগো ফেলো(ইটালী)
গাইনী কনসালটেন্ট,
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার,বগুড়া।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 1.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1.7K
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.