ঘৃণার চাষাবাদে ধর্ষণ উচ্ছেদ? 

0

অনুপম সৈকত শান্ত:

এক

ফেসবুক- ব্লগে- পোর্টালে সস্তা স্যাটায়ার, ট্রল, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করার একটা বড় সুবিধে বোধ হয় এই যে, এখানে সুবিধেবাদীর মতো মনের মাধুরি মিশিয়ে প্রতিপক্ষের মুখে কল্পিত কথাবার্তা তুলে দিয়ে তামাশা করা যায়, প্রতিপক্ষকে এক হাত দেখে নেয়া যায়, এমনকি বিরুদ্ধমত ধারণকারীকে যা ইচ্ছে তাই বানিয়ে ফেলা যায়! সেকারণেই বলা যায়- আমাদের অনলাইনের স্যাটায়ার- ট্রলগুলোর একটা বড় অংশই মিথ্যায় পূর্ণ, এর লেখকরা সরাসরি যুক্তি তর্কে তাই “লোড” ফিল করেন বলে এরকম অসৎ পন্থায় আগ্রহী হোন, এতে হাততালি, বাহবাও বেশ মেলে বৈকি।

সম্প্রতি ধর্ষক রনিকে গণপিটুনির বিরোধিতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে একজন ফেসবুক-যোদ্ধা এক স্যাটায়ার লিখেছেন, সেটি দেখে ব্যাপারটা ভালো করে বুঝতে পারলাম। অভিযোগের ডালি- কল্পিত “মানবতাবাদী”র বিরুদ্ধে! কেননা তারা ধর্ষককে গণপিটুনির বদলে পুলিশে সোপর্দের কথা বলেন। কিন্তু সেই স্যাটায়ারে- কল্পিত মানবতাবাদীদের বরাত দিয়ে যেসব টিউটোরিয়াল রচিত হলো- সেগুলোর কোনটি কবে কোন মানবতাবাদী বলেছে- স্যাটায়ারে সেসব না বললেও যে চলে।

আরো দু একটি লেখাতেও দেখলাম, গণপিটুনির “গণ” তুলে দিয়ে- স্বয়ং ভিক্টিম পিটুনি দিতে পারবে না কিনা, কিছু করবে কিনা, ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকবে কিনা- এসব অর্থ করা হচ্ছে! অথচ আত্মরক্ষার্থে অপরাধীকে পালটা আক্রমণ করা আর ধৃত-নিরস্ত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিকে উন্মত্ত মবের হাতে তুলে দেয়া যে এক না- সে কথাটি বারেবারে বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না!

দুই

আরেক নামকরা ফেসবুকার, যিনি ধর্ষকের গণপিটুনির বিরুদ্ধে, ধর্ষক রনির প্রকাশিত আলোচিত ভিডিও দেখেই বলে দিয়েছিলেন- ভিডিওতে থাকা দুই নারী নাকি যৌনকর্মী! তার স্ট্যাটাসের মাঝে প্রচ্ছন্নভাবে ধর্ষক রনির পক্ষে দাঁড়ানো একটা অবস্থান আছে। কিন্তু এই অবস্থান কি সেই ফেসবুকার এবং তাকে সমর্থনকারীদের একান্ত নিজস্ব নয়? সেই অভিযোগে কি আর সকলকে, যারা ধর্ষককে (যেকোনো অপরাধীকেই) গণপিটুনির বিরোধিতা করছে- তাদের উপরে দেয়া যায়? যেখানে গণপিটুনির বিরুদ্ধে থাকা অসংখ্যজন (আমি সহ)- এরকম ভিক্টিম ব্লেমিং এর, ধর্ষকের দায়মুক্তি দেয়ার প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে!

আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে- স্যাটায়ার- ট্রল রচিত হয় কল্পিত “মানবতাবাদী”দের নিয়ে, যেখানে এরকম ভিক্টিম ব্লেমিং এর মতো বিষয়টা কোন আলোচ্য বিষয়ই থাকে না …  তর্ক-বিতর্ক (যতখানি চলতে থাকে) হতে থাকে- ঐরকম গণপিটুনি দেয়াকে আলোর ছটা বলা হবে না কেন- সেটা নিয়ে। এবং, শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত টানা হয়, গণপিটুনির বিরুদ্ধে কথা বলা হচ্ছে “ধর্ষকের পক্ষে লাইনের পর লাইন এলিজি রচনা”!

দেখুন, এতো ডালপালা না ছড়িয়ে কেবল মূল বিষয়েই কি আলোচনাটা সীমাবদ্ধ রাখা যেতো না, যায় না? কেননা অন্যান্য বিষয়ে তো আমাদের মাঝে দ্বিমত নেই। ভিডিও’র দুই নারীকে যৌনকর্মী বলে রায় দেয়া ভয়ানক অপরাধ, ভিক্টিমকেই চরিত্র খারাপ, এতো রাতে একা কী করে, কাপড় ঠিক নেই- এরকম নানাধরনের ব্লেমিং করা- ভয়ানক অপরাধ- এসব ব্যাপারে তো আপনাদের সাথে দ্বিমত নেই!

কেবল দ্বিমতের জায়গাটি হচ্ছে- একজন ধৃত-নিরস্ত্র ধর্ষককে ন্যাংটো করে গণপিটুনি দেয়া কতখানি সঠিক, মানবিক, নৈতিক? এমনকি ধর্ষককে নিরপরাধ প্রমাণের চেষ্টা, তাকে দায়মুক্তি দেয়া চেষ্টা যে প্রতিহত করা উচিৎ- সে প্রসঙ্গেও তো দ্বিমত নেই। বিচার-প্রমাণের আগেই অভিযুক্তকে অপরাধী সাব্যস্ত করে সাজা প্রদানের মানে এই না যে- বাদীপক্ষও তাকে অপরাধী বলতে পারবে না, বা ভিক্টিম ধর্ষককে আদর করে ভাইয়া ভাইয়া ডাকবে, এর মানে এই না যে- ধর্ষককে নিবৃত্ত না করে, প্রতিহত না করে, পর্যুদস্ত না করে, ধৃত না করে- থানা পুলিশ আইন আদালত উকিল নিয়ে ব্যস্ত হতে হবে! ফলে, এভাবে একটা কথাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করে, ভুল ইন্টারপ্রেট করে, ডিসটর্ট করে কেবল আপনাদের অসততাই প্রকাশ করতে পারেন, এর বেশি কিছু এতে অর্জিত হতে পারে বলে মনে হয় না।

তিন

মুশকিলটা হচ্ছে- আপনারা যেটাকে (জনৈক ধর্ষককে ন্যাংটো করে গণপিটুনি দেয়া) আলোর ছটা বলছেন- সেটাকে আমি আলোর ছটা বলতে পারছি না … আমি একান্তভাবেই দুঃখিত … ধর্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ জরুরি … কিন্তু সেটা যদি মনে করেন- এরকম গণপিটুনির মাধ্যমে সম্ভব, তাহলে আসলেই একমত হতে পারছি না।

যে সমাজে অধিকাংশ পুরুষই নারী নিপীড়ক, সেই সমাজের পুরুষদের কাছে আপনি আশা করছেন- ধর্ষকদের পিটিয়ে মারা! বড়ই ভুল উপায় ভাই … গণপিটুনি- ক্রসফায়ার এগুলো- আইনের শাসনের অনুপস্থিতিকেই কেবল নির্দেশ করে, এসবের পক্ষে সাফাই গাওয়া বিচারহীনতার পরিবেশকেই কেবল পাকাপোক্ত করে।

আপনারা যখন স্বীকার করছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ধর্ষকদের পিটিয়ে মারা সম্ভব হয় না, বরং ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারীকেই মারা হয়- তখন, বুঝতেই পারছেন- এখানে ক্ষমতার সম্পর্ক কত বড় প্রভাব বিস্তার করছে … পুরুষ ক্ষমতাশালী, ধর্ষকরা প্রভাবশালী … সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধে, প্রভাব-প্রতিপত্তির বিরুদ্ধে আপনি ক্ষমতাধর পুরুষকেই পাশে আশা করছেন- ভাবছেন ক্ষমতাধরেরা ধর্ষকদের গণপিটুনি দিয়ে ধর্ষণ নির্মূল করবে? সম্ভব?

আজ যে বিচারহীনতাকে আপনারা বৈধতা দিচ্ছেন (বাংলাদেশের বিচারহীনতার সংস্কৃতির দোহাই তুলে), সেটা কি ব্যাকফায়ার করবে না, নিশ্চিত? গ্রাম্য সালিশের নামে, পারিবারিক নিষ্পত্তির নামে, ভিকটিম-আসামীর মিউচুয়াল (ভেতরে ভেতরে থাকে ভয়ভীতি, লেনদেন)- ইত্যাদি নানারকম বিচারহীনতার আয়োজন যে সমাজে বিদ্যমান; সেগুলোকেও কি লেজিটেমেসি দেয়া হচ্ছে না? আজ এক জায়গায় আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার পক্ষে সাফাই গাওয়ার পরে- আর সব ক্ষেত্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি তুলতে পারবেন? বিচার দাবি করার মতো নৈতিক অবস্থান থাকবে তখন?

গণ প্রতিরোধ মানে যদি আপনাদের এই বিচারহীন গণপিটুনি হয়- তাহলে কোনমতেই একমত হতে পারছি না … যৌন নিপীড়ন- ধর্ষণের মতো অপরাধকে আলাদা বলে যদি সেটার ক্ষেত্রে গণপিটুনিকে ইনডেমনিটি দিতে চান, বাস্তবে আপনাদের অন্যসব ক্ষেত্রে বিচারহীন হত্যার বিপক্ষে থাকার ঘোষণায় কিছু যায় আসে না – কেননা, আপনারা প্রকারান্তরে বিচারহীনতার পক্ষেই দাঁড়িয়েছেন।

আইনের শাসন, সামাজিক প্রতিরোধ, নারীর ক্ষমতায়ন ও ভয়েস রেইজ, “সম্ভ্রম” কেন্দ্রিক ঠুনকো ধারণার নির্বাসন- এসব ছাড়া তো সম্ভব না … এখন, ততদিন কি নারীরা নিপীড়িত- নিগৃহীত হয়েই যাবে? আসলেই তাই, যেমনই লাগুক- এসব যতদিন না হচ্ছে– ততদিন তো নারীর নিপীড়ন-ধর্ষণ বন্ধ হবে না … এটাই বাস্তবতা, কেননা অন্য আর যে কোন উপায় নেই।

আপনারা যেটাকে আপদকালীন সমাধান ভাবছেন- সেই গণপিটুনি কোনদিনই নারী নিপীড়ন- ধর্ষণ বন্ধ করতে পারবে না … কেননা সমাজে জংলী অবস্থা যখন জারি করবেন, সেটা প্রকারান্তরে আর সব জংলীপনাকেই উৎসাহিত করবে … কেমনা, এইসব জংলীপনাই সমাজে ধর্ষকদের জন্ম দেয় ।

চার

প্রচণ্ড একটা অসহিষ্ণু, ঘৃণার সমাজে বাস করছি আমরা, নির্মল বিনোদনের বিশ্বকাপের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া থেকে শুরু করে প্রগতিশীল হিসেবে পরিচিত বন্ধু বান্ধবদের তর্ক-বিতর্ক, সর্বত্রই একই অবস্থা … “বমি”টাই এই সমাজে, এই সময়ে খুব সস্তা … নিদেনপক্ষে ভিন্নমত শোনার মতো মানসিক স্থিরতা এখানে কম, ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দিয়ে, বমি উগড়ে দিয়ে, ব্লক/ রিমুভ করে- কেবল স্বমতের চাটুকারদের স্তুতিই প্রত্যাশা করি আমাদের স্ট্যাটাসে।

এ এমন এক পরিস্থিতি, ভিন্নচিন্তা, ভিন্নমতকে খণ্ডন করা একটা লেখাতেও আমরা কেবল- স্বমতকেই স্থান দিতে চাই … যে মতকে আমি খণ্ডিয়ে পোস্ট দিলাম, মনের মাধুরি মিশিয়ে সত্য-মিথ্যা মিশিয়ে নানা গল্প ফেঁদে ঘৃণা ছড়ালাম; সেই মতকে ডিফেন্ড করতে কেউ এলে – সেই লোড নিতে পেরে ব্লক/ রিমুভ করার পথ নেই।

সব জায়গাতেই এই অবস্থা … রাষ্ট্র, সমাজ, সরকার ব্যবস্থা- দিনে দিনে এই অবস্থা তৈরি করেছে, করছে … সংসদে আমরা গৃহপালিত, চাটুকার বিরোধী দল পুষি … রাজপথে মিনিমাম বিরোধিতাকেও আমরা একদম গুড়িয়ে দিতে চাই … একই অবস্থা আমাদের ফেসবুক বিচরণেও।

অভ্যস্ত হয়ে ওঠার চেষ্টা করছি … কিন্তু, যাদের প্রগতিশীল হিসেবে দেখে ও চিনে এসেছি, বিভিন্ন সময়েই যারা ন্যায়ের পক্ষে সাহস নিয়ে দাঁড়িয়েছে, যাদের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা ধারণ করি- সেই তাদেরই যখন এরকম দশা দেখি- তখন হতাশ না হয়ে পারি না।

যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন নেই, অপরাধীরাই সমাজে মুক্তভাবে কেবল ঘুরে বেড়ানো না, প্রভাবে- প্রতিপত্তিতে রাজত্ব বিস্তার করে, সেই সমাজে এমন ঘৃণার চর্চা হবেই … আর রাষ্ট্র নিজেই বাস্তবে এমন ঘৃণার চর্চায়, ঘৃণার ফেরিতে উদ্যোগী ভূমিকা রাখে … এতে করে, তাদের অপরাধের রাজত্ব বজায় রাখতে সুবিধে হয় বৈকি!

আমরা অনেক সময় এই সহজ সমীকরণ ভুলে গিয়ে- ঘৃণা দিয়েই অপরাধীকে দমন করতে চাই, স্বপ্ন দেখি- এরকম ঘৃণার চর্চায় হয়তো অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।

সেজন্যে ক্রসফায়ারেরও এতো সমর্থক পাওয়া যায় … গণপিটুনিতে উদ্যোগী হয় মব, গণপিটুনির সমর্থনে ফেসবুকে, ব্লগে, পোর্টালে থিসিস রচিত হতে থাকে- যেখানে গণপিটুনির বিরোধিতাকারী, আইনের শাসনের পক্ষে থাকাদের নিয়ে ঘৃণা, ট্রল- এসব চলতে থাকে … গণপিটুনির বিরুদ্ধে থাকাদের বানিয়ে দেয়া হয়- ধর্ষণের সমর্থক, ধর্ষকের আত্মীয়-স্বজন … দুদিনের তর্ক-বিতর্কে এমনই ঘৃণা প্রত্যক্ষ করলাম, যেন বা গণপিটুনির বিরোধিতা করাটা ধর্ষণের মতোই, ধর্ষণের সম পর্যায়ের, কিংবা তার চাইতেও বড় কোনো অপরাধ, পারলে- এদেরকেও গণপিটুনির আওতায় আনা হতো।

এইরকম ঘৃণার মুখে দাঁড়িয়েও একটা ব্যাপার স্বীকার করি, এই ঘৃণার উৎপাদন তো, এই রাষ্ট্রের, এই সমাজ ব্যবস্থার … পুরা দেশ যে ধর্ষণের মহোৎসবে মেতেছে, সর্বত্র যৌন নিপীড়ন যেখানে নৈমিত্তিক ঘটনা, বিপরীতে প্রতিকার, প্রতিরোধ, ধর্ষক-নিপীড়কের গ্রেফতার ও সাজার ঘটনা যেখানে প্রায় শূন্যের কোঠায়, এমনকি মামলা করতে গিয়েও যেখানে ভিকটিমকে হয়রানির শিকার হতে হয়, মামলার প্রতি পদে পদে যেখানে ভিক্টিমকে অপদস্থ হতে হয়- সেখানে সমাজে এমন ঘৃণার বাস্তব উপাদান বিদ্যমান … যেখানে রাষ্ট্র বিচার করতে পারে না, সেখানেই তো আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার মতো ঘটনা ঘটে … সেখানেই তো আমরা ফেঁসে যাই, অপরাধীদের সব ক্রসফায়ারে মেরে ফেলার ব্যাপারে সমর্থন জোগাই … সুযোগ বুঝে নিজেরাই অপরাধীর বিচার করতে উদ্যত হই … এই করতে গিয়ে আমরা ভুলে যাই- আমরা আসলে রাষ্ট্রযন্ত্রের সেই ফাঁদেই পা দিয়ে ফেলছি …।

ভুলে যাই, গণপিটুনিতে, ক্রসফায়ারে কিছু চুনোপুটিকে মারা সম্ভব, কিন্তু অপরাধের রাজত্বটা তো ঐ চুনোপুটিদের না। সেইখানে আছে ক্ষমতার খেলা … প্রভাব-প্রতিপত্তির দৌরাত্ম্য … যে প্রভাবশালী, ক্ষমতাধরদের জন্যে এইরকম বিচারহীন ঘৃণার পরিবেশ পরম আকাঙ্ক্ষিত। কেননা এরকম পরিবেশেই তাদের অভয়ারণ্য গড়ে তুলতে সুবিধে হয় যে।

লেখা সংশ্লিষ্ট আরও কিছু লেখা:

https://womenchapter.com/views/27279

https://womenchapter.com/views/27266

https://womenchapter.com/views/27277

https://womenchapter.com/views/27272

https://womenchapter.com/views/27262

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 49
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    49
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.