‘স্যাটায়ারমূলক’ একটি পোস্ট এবং বিতর্ক-৩

কুঙ্গ থাঙ:

ধর্ষণের শিকার হলে কী করবেন (মানবতাবাদী টিউটোরিয়াল পোস্ট)।

এই পৃথিবীতে ধর্ষণ একটি নৈমিত্তিক ঘটনা৷ আপনি একজন মানবতাবাদী ৷ অন্যদের মতো আপনিও যেকোনো সময় ধর্ষণের শিকার হতে পারেন৷ মানবতাবাদী হওয়ার কারণে আপনার কেস একটু জটিল, তাই সাবধানে হ্যান্ডেল করতে হবে৷ আসুন ধর্ষণের ক্ষেত্রে একজন মানবতাবাদীর করণীয় কী, সে বিষয়ে পয়েন্ট বাই পয়েন্ট দৃষ্টি দেয়া যাক:

১৷ ধস্তাধস্তির সময় ভুলেও ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করবেন না৷ এতে লোকজন জড়ো হয়ে ধর্ষককে প্যাঁদানি দিতে পারে৷ ধর্ষকও মানুষ৷ তার মানবতা যাতে লঙ্ঘিত না হয়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে৷

২৷ ধর্ষকের গায়ে হাত তুলবেন না, এটা মানবতার লঙ্ঘন৷ যথাসম্ভব কন্ঠস্বর নিচু করে ‘ছেড়ে দিন ছেড়ে দিন’ বলতে থাকুন৷ শাবানা স্টাইলে ‘ছেড়ে দে শয়তান’ বলে তুইতোকারি করতে যাবেন না৷ ধর্ষকও মানুষ৷ ভদ্রতা বজায় রাখুন৷

৩৷ ধর্ষককে গালি দেবেন না৷ আমাদের অধিকাংশ গালিই সেক্সিস্ট ও মানবতাবিরোধী, কাজেই গালি থেকে বিরত থাকুন৷ নিতান্ত মেজাজ কন্ট্রোল করতে না পারলে ‘দুষ্টু’ বলতে পারেন৷

৪৷ ধর্ষণ শেষ হলে ধর্ষককে ‘বসুন ভাইয়া’ বলে চেয়ারে বসতে দিন৷ বাসায় লেবু থাকলে লেবুর শরবত বানিয়ে খাওয়ান৷ শরবত ক্লান্তি দূর করে৷

৫৷ এরপর আপনাকে যেতে হবে একাধিক পত্রিকা অফিসে৷ সেখানে নিউজ করতে বলুন৷ আজকাল ডাবল ভেরিফিকেশন ছাড়া ধর্ষণের কথা কেউ বিশ্বাস করে না৷

৬৷ তারপর নিকটস্থ থানায় খবর দিন৷ ধর্ষককে যে বসিয়ে এসেছেন চাইলে তা জানাতে পারেন, নাও জানাতে পারেন৷ সবার মানবতাবোধ সমান থাকে না৷

৭৷ সাবধান কোর্টে প্রমাণ হবার আগে ফেসবুকে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল করবেন না৷ আপনি লিখতে পারেন যে, একজন আপনার সাথে ইয়ে করেছে তা কোর্টে বিচারাধীন৷ নাম ‘উহ্য’ রাখুন৷ ধর্ষকেরও পরিবার থাকে, হিজাবী বউ বা কিউট বাচ্চাকাচ্চা থাকে, সামাজিক মর্যাদা থাকে৷ সেদিকে খেয়াল রাখুন৷

৮৷ রেপের ঘটনা শুনলেই একদল লোক ‘বিচার চাই’,’বিচার চাই’ বলে হাউকাউ করতে থাকে৷ অনেকে শাহবাগে হাট বসিয়ে ফেলে৷ ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে লাইন ধরে দাঁড়ায়৷ তাদেরকে নিবৃত্ত করুন, বোঝান যে কোর্টের রায়ের আগে এসব করা ঠিক নয়৷ তাদেরকে নিরপেক্ষ থাকতে বলুন৷

৯৷ কোর্টে ধর্ষণ প্রমাণিত হলে ভাল৷ না হলে বেশি ভালো৷ ইন কেইস ধর্ষকের ফাঁসির আদেশ হয়ে গেলে তার প্রতিবাদ করুন৷ কারণ ফাঁসি কোন সমাধান নয়৷ এই পৃথিবীতে ফাঁসি দিয়ে কখনও খুন, ধর্ষণ আটকানো যায়নি৷

১০৷ ধর্ষকের শরীর স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখা আপনার কর্তব্য৷ ধর্ষকও মানুষ৷ তার অসুখ-বিসুখ হলে ডাব খেঁজুর আঙ্গুর আপেল ঝুলিয়ে দেখতে যান৷ অসুখ গুরুতর হলে ধর্ষকের জন্য ফান্ডরাইজিং করুন৷ সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে কিংবা ফার্মগেট ব্রিজের নিচে থালা বিছিয়ে বুকে চাপড় দিতে দিতে ধর্ষকের জন্য দশ টাকা ভিক্ষা চান৷

এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লেখা:

https://womenchapter.com/views/27272

https://womenchapter.com/views/27262

https://womenchapter.com/views/27266

https://womenchapter.com/views/27277

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.