‘দেশকে ভালবেসে ওরা লড়ে যায়’

0

ইমতিয়াজ মাহমুদ:

দলগত যে কোনো খেলায় বাংলাদেশের সেরা সাফল্য কী? আমার সাধারণ জ্ঞান কম, খেলাধুলার রেকর্ডপত্র খুব বেশি জানি না। যতটুকু মনে করতে পারি এশিয় পর্যায়ে আর কোনো দলগত খেলায় আমরা কোনদিন কোনো শিরোপা জিততে পারি নাই। মেয়েদের ফুটবলে সাফল্য আছে- কিন্তু সেগুলি সম্ভবত বয়সভিত্তিক খেলাগুলিতে।

এই প্রথম আমরা এশিয় পর্যায়ে কোন দলগত খেলায় শিরোপা জিতেছি, আর সেটা আমাদের দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটে। আর এই শিরোপাটা আমাদেরকে এনে দিয়েছে আমাদের মেয়েদের দল। আমাদের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় দলগত সাফল্য- সেটা আমাদের মেয়েদের।

আফসোস, এই খেলাটা আমি দেখতে পারিনি। আমাদের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল কি দেখিয়েছে আজকের খেলাটা? জানি না।

আমাদের মেয়েরা হারিয়েছে ভারতকে। ভারতীয় টিমকে ওরা দুইবার হারিয়েছে এই টুর্নামেন্টে। একবার লীগ পর্যায়ে, আর আজকে ফাইনালে। তুলনা করাটা সবসময় ঠিক না জানি, তবু তুলনা চলে আসে। ভারতীয় মেয়েদের ক্রিকেটে যেসব তারকা খেলোয়াড় আছেন, ওরা কিন্তু ওদের দেশে মোটামুটি তারকা খ্যাতি উপভোগ করেন। না, বিরাট কোহলিদের মতো না বটে, কিন্তু তবুও নেহায়েত কমও না। আমি ইন্ডিয়ান বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ওদের মেয়েদের টিমের প্লেয়ারদেরকে দেখেছি। ওরা বেশ তারকা হিসেবেই বিবেচিত হয়। আর আমাদের মেয়েদেরকে আমরা কী সম্মানটা দিয়েছি?

আজ থেকে কয়েক বছর আগে আমাকে একজন পাকিস্তানী এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানের একটা ইউটিউব লিঙ্ক পাঠিয়েছিল। সেখানে পাকিস্তানের কমেডিয়ানরা আমাদের সেসময়ের ক্যাপ্টেন সালমা খতুনকে নিয়ে হাসাহাসি করছিল। আজকে বলতে ইচ্ছে করছে, দেখ শালারা, আয় দেখি তোদের হাসিটা এখন কোন দিক দিয়ে বের হচ্ছে দেখি। পাকিস্তানও এই টুর্নামেন্টে ছিল, ওরা সেমিতে হেরেছে ভারতের কাছে।

আমাদের মেয়েদেরকে সেলাম। আমরা তোমাদেরকে প্রাপ্য মর্যাদাটা দিইনি, তোমরা কিন্তু তোমাদের কাজটা ঠিকই করে দেখিয়েছো। তোমাদেরকে সেলাম। এই জয়টা যদি আজকে ছেলেরা জিতে আসতো, তাইলে কোটি টাকা করে একেকজন পুরস্কার ফুরস্কার পেতো। জানি মেয়েরা এর ভগ্নাংশও পাবে না। আর পাবে না যে সেটা সম্ভবত ওরাও জানে। নিতান্ত খেলাটাকে ভালোবেসে, দেশকে ভালোবেসে ওরা লড়ে যায়। মেয়েদেরকে সেলাম।

আরেকটা কথা বলি। বাংলাদেশের যে কোনো সাফল্য দেখলেই কথাটা আমার মনে হয়। তিনি সবসময়ই স্বপ্ন দেখেছেন, বিশ্বের দরবারে সকল ক্ষেত্রে বাঙালী মাথা উঁচু করে নিজের অবস্থান ঘোষণা করবে। বাঙালিকে নিয়ে গর্ব করার, অহংকার করার তৃষ্ণা তাঁর চেয়ে প্রবল সম্ভবত আর কারো ছিল না। আহা, লোকটা যদি আজ দেখতেন যে তাঁর মেয়েরা এই সাফল্য বয়ে এনেছে!

আমি জানি বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে যাবে। আমরা যারা অসহায় হতদরিদ্র ভিখিরি বাংলাদেশকে দেখেছি ছোটবেলায়, আমরা হয়তো সেই সুদিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবো না। এই যে আজকে আমাদের মেয়েরা একটা শিরোপা এনে দিল আমাদের জন্যে, একটুখানি যে মাথা উঁচু করে অহংকার ভরে টেবিল চাপড়ে, বুক ঠুকে নিজের দেশকে নিয়ে কথা বলার একটু সুযোগ করে দিল, তার জন্যে তোমাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা তো মেয়েরা।

তোমাদের এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 91
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    91
    Shares

লেখাটি ১৫৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.