হাইলাইট ফ্রম এ কেইস

0

ইসাবেলা রোজ:

বাঙালী মেয়েদের জন্ম হয় সংসার করার জন্য। তারা সব কিছু সহ্য করতে রাজী আছে। নিজের ক্যরিয়ার বিসর্জন দিতে হবে? অবশ্যই ক্যরিয়ার দিয়ে কী হবে সংসার যদি না টেকে? যে কোনো মূল্যে সংসার টেকানোর দায়িত্ব বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মেয়েদের উপর বর্তায়।

স্বামী অন্য নারীতে আসক্ত? যে ভাবেই হোক স্বামীকে ঘরে ফেরাতেই হবে। বাচ্চাদের দোহাই সবচেয়ে বেস্ট স্বামীকে ঘরে ফিরিয়ে আনার জন্য। যত রকম অত্যাচার স্বামী করুক তিনি দেবতা। তাকে নিয়ে ঘর করার জন্যই মেয়েদের জন্ম হয়েছে। সব দোষ অন্য মহিলার। একজন মেয়ে হয়ে আরেকটি মেয়ের সর্বনাশ করছে। কী খারাপ মেয়ে মানুষ! বেশ্যা, মাগী, খানকি, ছিনাল এসব মেয়ে, পুরুষদের একটু-আধটু স্বভাবগত দোষ থাকবেই, তাই বলে অমুক কেন জেনে শুনে এগিয়ে এলো?

যখন কোনভাবেই স্বামীকে ধরে রাখা যায় না, তখন জ্বলে উঠে প্রতিশোধের আগুন। শত হলেও স্বামী সন্তানের বাবা। তাকে ত কিছু বলা বা করা যাবে না। কিন্তু অমুক মহিলা শয়তান মাগীকে আমি দেখে নেব। হ্যাঁ।

নারীবাদীরা কে কোথায় আছেন? আমার স্বামী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে ওই ডাইনির কাছে। আপনারা এর বিচার করেন।

১) আপনাকে যে লোকটা ভালবাসে না তার জন্য আপনি এতো কান্নাকাটি কেন করছেন?
২) যে সন্তানের দোহাই দিয়ে স্বামীকে হাতছাড়া করতে চাইতেন না সেই সন্তানের প্রতি আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন কি? নাকি স্বামীর ঝাল বাচ্চার উপর মেটাচ্ছেন?
৩) আপনি আপনার স্বামীকে চেনেন? কতটুকু চেনেন? তাহলে অমুক মহিলাকে গালি দিচ্ছেন কেন? জাস্ট বিকজ সে আপনার স্বামীর গার্ল ফ্রেন্ড বলে?
৪) পরকীয়া করা মহা পাপ। যখন আপনি জানতে পারলেন আপনার হাজবেন্ড অন্য কাউকে ভালবাসে, তখন তাকে নিয়ে বসে সমস্যা কীভাবে সমাধান করা যায়, অথবা তার কী ইচ্ছে, কেন জানতে চাননি?
৫) যত কিছুই করেন হয়তো বা এই যাত্রা আপনার সংসার টিকে গেল, এখন আপনার কী করণীয়? আগের মতো সংসার চালিয়ে যাওয়া? নাকি নিজেকে কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেই চিন্তা করা? নাকি স্বামীকে ২৪ ঘন্টা নজরে রাখার সুব্যবস্থা করা?

সত্যি বড় অদ্ভুত আমাদের বাঙালি নারীদের মন। সংসারে যখনই তৃতীয় ব্যক্তির আগমন ঘটে নিজের মান সম্মান নিয়ে মাথা উঁচু করে বেরিয়ে আসা শিখবে কবে এরা?

এই যে আপনি। জ্বী আপনার কথা বলছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রী আছে আপনার। আপনার হাজবেন্ড নিজ মুখে বলেছে আপনাকে সে অন্য নারীর প্রেমে পড়েছে। আপনি কী করলেন? হাজবেন্ডের ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে নালিশ করে বিচার চাইলেন। সবাই তাকে একঘরে করে দিল। তারপর কী করলেন? প্রতিশোধ হিসাবে ব্ল্যাক মেইলিং শুরু করলেন। আপনি নিজেও যে এর মধ্যে প্রেম করলেন একজনের সাথে, সেটা কিন্তু স্বীকার করলেন না। ভেবেছিলেন আপনার বয়ফ্রেন্ডকে দেখে জেলাস হয়ে আপনার হাজবেন্ড ফিরে আসবে। তিনি তো আসলেন না। এবার চাইলেন বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালান্স, আর্থিক নিরাপত্তা, এসব না দিলে ডিভোর্স দেবেন না।

একটি বারও মনে হয় না আপনাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে? কম হোক, তবু নিজস্ব একটা আয়ের উৎস নিজে বের করতে? আপনি ভিকটিম বুঝলাম। নিজেকে ভিকটিম সাজিয়ে আর কতদিন মানুষকে বোকা বানাবেন?

আর আপনি অমুক খারাপ মহিলা। আপনি কি দুনিয়ার আর মানুষ খুঁজে পাননি? নিজে স্বাবলম্বি ঠিক আছে, তাই বলে বিবাহিত পুরুষের সাথে আপনাকে প্রেম করতে হবে? প্রেম সংসার ছাড়া দুনিয়াতে অনেক কিছু করার আছে। সেটা তো অজানা থাকার কথা নয়। কী দরকার নিজেকে বিতর্কে জড়িয়ে? মানুষের কল্যাণে জীবনটা পার করে দেয়া যায় না?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 374
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    374
    Shares

লেখাটি ২,৩১০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.