হালের এই আমল আর সেই আমল

0

নাদিরা সুলতানা নদী:

১৭ জুলাই ২০০৯ দেশ ছেড়ে প্রবাস জীবন বেঁছে নিয়েছিলাম। এই প্রায় ৯ বছরে বাংলাদেশ গিয়েছি মাত্র দুইবার, ২০১১ এবং ২০১৬!!!

আমার শৈশব, কৈশোর এবং তারুণ্যের দেখা বাংলাদেশ যে বদলে যাবে সেটা তো স্বাভাবিক। ২০০৯ এ রেখে এলাম যে বাংলাদেশ ২০১৬ তে যেয়েই নিজেকে খাপ খাওয়াতে অনেক জায়গায় হিমশিম খেতে হচ্ছিলো।

বদলে যাওয়া বাংলাদেশ বলতে, আমি মূলতঃ সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় আবহের কথা বলছি (বিস্তারিত ভাবনা, অভিজ্ঞতা, সময় করে বলবো অন্যদিন)।

আজ আসলে সরল মনে, একটা সরল বিশ্বাসের কথা বলে ফেলি…

আমি যখন রোকেয়া হলে থাকি (১৯৯৩-৯৮) তখন পর্যন্ত পোষাক পরিচ্ছদে ধর্মীয় পরিচয়টা উঠে আসতো না… হলে প্রায় এক/দেড় হাজার মেয়ের মাঝে মূলত ২/৩ ধরনের মেয়ে ছিলো।

এক, অন্য জেলা থেকে আসা, উচ্চবিত্ত পরিবার থেকে, যাদের আচার আচরণে একটা আভিজাত্য ছিলো এবং সেই আমলে তাদেরই কাউকে কাউকে দেখতাম আড়ং, প্রবর্তনার মত বড় দোকানের জামা পরতে। শুরুতে এমন কাউকে কাউকে আমি এড়িয়ে চললেও, তাদেরই কেউ কেউ বন্ধুও হয়ে উঠে আমার।

দুই, একটা শ্রেণী ছিল, যাদের আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মূল উদ্দেশ্যই ছিলো পড়ালেখা। তাদের পোশাক আশাক নিয়ে তেমন কোন মাথাব্যথাই ছিলো না। খুব সিরিয়াস চেহারা করে, পুরোটা সময় কার্জন হলেই কাটিয়ে দিতো (না মানে অন্য ভবনেও ছিল কেউ কেউ)। তাদের চলাফেরা, ব্যক্তিত্বই ছিলো সমঝে চলার মতো। আদর্শ ছাত্র এবং খুব বেশিই সাধারণ তাদের চলা বলা।

তিন, একদম মফঃস্বল থেকে আসা কিছু মেয়ে। হলে খুব সাধারণ জামা কাপড়েই থাকতো। ২/১টা ভালো সালোয়ার কামিজ বাইরে পরার মতো ছিলো, দাম বেশি হলে ৫০০/৭০০ থেকে ১০০০ টাকা। কিন্তু এর মাঝেই রুচির একটা বিষয় ছিলো। ময়মনসিংহ শহরের আমার বন্ধুদের মাঝেই কজন এমনই ছিল।

চার, আমি এবং আমার মতো অল্প কিছু মেয়ে ছিলো যারা আসলে কোন গ্রুপেই পড়তো না। মধ্যবিত্ত পরিবার থেকেই উঠে আসা, খুব দামি কিছু পরার মতো সামর্থই ছিলো না… এবং এটা নিয়ে কোন হীনমন্যতাও ছিলো না। একটা ৩০০ টাকার সুতি শাড়ী পরেই মনে হতো ‘এটাই আমি”আমার আমি’। হুম ঠিক তাই। আমি মানেই সবাই জানে সেই আমল থেকে মাঝে মাঝেই সুতি শাড়ী আর চারুকলার দাদুর কাছ থেকে কেনা মাটির মালা এবং দুল আর টিপ।

আরবী বা ইসলামিক স্টাডিজে পড়তো এমন কজন আপা এবং আমাদের বন্ধুদের কজনই শুধু বড় করে ওড়না পরতো। একজন ছিলো কালো বোরকা পরতো, আমার শামীমা বন্ধু।

কেউ বিশ্বাস করুন আর নাই করুন… তখন পর্যন্ত আমার ভাবনা ছিলো, যে বা যারা নিজেকে এমন একটা নিয়মে আবদ্ধ রাখে, তারা অন্যরকম। তারা ভিতর থেকে সুন্দর এবং তাদের আছে একটা স্ট্রং স্পিরিচুয়াল মোটো। তাদের মাঝে কেউ কেউ একটু বেশিই ভালো, মাদার তেরেসার মতো!!!

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 109
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    109
    Shares

লেখাটি ৭২৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.