রাজকীয় বিয়ের সাতকাহন…

0

ড. সীনা আক্তার:

বলা হচ্ছে হ্যারি-মেগানের বিয়ে ব্রিটিশদের ইতিহাস এবং সংস্কৃতিতে একটা বড় পরিবর্তন এনেছে। স্পষ্টতই এই বিয়েতে একটি মিশ্র জাতির সমাবেশ ঘটেছিল। তবে এই বিয়েতে কেবল তাদেরকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, যাদের সাথে ব্যক্তিগত বা কর্মসূত্রে হ্যারি অথবা মেগানের সংযোগ আছে।

চার্চের বিয়ের অনুষ্ঠান স্থলে ৬০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে বিখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী এলটন জন এসেছিলেন তাঁর স্বামীকে নিয়ে। ঠিকই লিখেছি, তিনি বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বিবাহিত স্বামীকে নিয়ে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন হ্যারির প্রাক্তন দুই বিশেষ বান্ধবী (ex-girlfriends) Chelsy Davy এবং Cressida Bonas যাদের সাথে হ্যারি একসম চুটিয়ে প্রেম করতেন।
শাড়ি পরে উপস্থিত ছিলেন ভারত থেকে আগত সুহানি জালোটা নামের এক ২৩ বছরের তরুণী। সুহানির সংগঠন The Myna Mahila Foundation ভারতে দরিদ্র নারীদের স্যানেটারি ন্যাপকিন সেবা দিয়ে থাকে। গত বছর মেগান এই প্রতিষ্ঠানটি ভিজিট করেন, যেখানে তাঁকে শাড়ি পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়।

এই বিয়ের অনুষ্ঠানে দেশ, বিদেশের কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। ব্যতিক্রম যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জন মেজর। একমাত্র রাজনৈতিক অতিথি হিসাবে তিনি স্ত্রীসহ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানে মেগানকে দেখে মনে হচ্ছিল আত্মসচেতন এবং আত্মবিশ্বাসী একজন নারী, যিনি হ্যারির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। সাধারণত উল্টোটা হয়।

অন্যদিকে হ্যারিকে কিছুটা নার্ভাস দেখাচ্ছিল। আরো একজনকে আমি মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছিলাম, তিনি হচ্ছেন মেগানের মা Doria Ragland। তিনি স্পষ্টতই ইমোশোনাল ছিলেন, মনে হচ্ছিল অনেক কষ্ট করে নিজেকে সামলাচ্ছেন। জগতের সকল মায়ের অনুভূতি মনে হয় একই, কোনো জাত-পাত-শ্রেণি নেই, আহা!

মেগানের সাজসজ্জায় ছিল কেবল কানফুল এবং মাথায় টায়রা। এই টায়রাটি রানীর কাছ থেকে ধার করা। তাঁর বিয়ের পোষাকটি ছিল সাধারণের মধ্যে অসাধারণ। নারী অতিথিদের সাজপোষাক ছিল চমৎকার, প্রায় সবার মাথায় নজর কাড়া হ্যাট/টুপি। এখানে হ্যাট পরিধান হচ্ছে আভিজাত্যের অংশ। আমন্ত্রণ পত্রে ড্রেসকোড হিসাবে হ্যাটের কথা উল্লেখ ছিল। তবে আমি কনেসহ কারও গলায় মালা বা নেকলেস জাতীয় কিছু দেখিনি। সাধারণ জনগণ থেকে ২৬৪০ জন আমন্ত্রিত ছিলেন, যারা উইন্ডসর ক্যাসেল প্রাঙ্গনে উপস্থিত থেকে বর-কনের যাতায়াতের সময় স্বচক্ষে দেখতে পেরেছেন। এ ছাড়া, ২০০ অতিথি প্রাইভেট অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

রাজপরিবারের ব্যাপারে জনগণের এতো উচ্ছাস কেন? এর অনেক কারণ আছে, পরে বড় করে লিখবো। আপাতত, সাধারণ জনগণের কাছে রাজপরিবার অনেকটা আদর্শের মতো কাজ করে। এর সদস্যরা সচেতনভাবে ইতিবাচক দিকগুলো বজায় রাখে। এরা কোনো রাজনৈতিক বিষয়ে যুক্ত হয় না, এমনকি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে রাজপরিবারের সদস্যরা কোনো নির্বাচনে ভোট দেয় না। সবাই কোন না কোনভাবে চ্যারিটি কাজের সাথে যুক্ত। হ্যারি অনেক চ্যারিটি সংগঠনের পৃষ্ঠপোষক এবং সরাসরি চ্যারিটি কাজে অংশ নেয়। চ্যারিটিতে টাকা খরচে ব্রিটিশরা সবচেয়ে এগিয়ে। এরা প্রতি মাসে আয়ের একটা অংশ চ্যারিটিতে দেয়। অনেকে ব্যাংকে ডাইরেক্ট ডেবিট করে, যাতে সরাসরি ব্যাংক থেকে টাকা চ্যারিটি সংগঠনে যায়।

হ্যারি-মেগানের বিয়েতে অতিথিদের বলা হয়েছিল কোনো উপহার না আনতে। এর পরিবর্তে এই যুগলের পছন্দের চ্যারিটি সংগঠনে দান করতে। তাঁদের পছন্দের সাতটি চ্যারিটির মধ্যে যুক্তরাজ্যের বাইরে মাত্র একটি সংগঠন, যা ভারতে। ভারতের সেই সংগঠন থেকেই সুহানি জালোটা আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। মেগান বিয়ের আগে থেকেই চ্যারিটি কাজ করে বিশেষ করে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য। এ সূত্রেই হ্যারির সাথে তাঁর বন্ধুত্ব হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে হ্যারি-মেগান যৌথভাবে কমনওয়েলথ দেশগুলোর জন্য কাজ করবে। একদিন হয়তো তাঁরা বাংলাদেশেও ভ্রমণে যাবে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 148
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    148
    Shares

লেখাটি ৩,০১৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.