বিভেদ রেখা কি সবাই পার হতে পারে?

0

আনন্দময়ী মজুমদার:

আমরা কি ফিরে আসতে পারি, নিজেদের আর পরস্পরের কাছে? না এবং হ্যাঁ। নিজের কাছে বা পরস্পরের কাছে ফিরে আসতে সকলেই পারবে না, যেহেতু অনেকে মনে করে নিজেদের দাবি নিয়ে লড়াই করার মানে হলো অন্য কোনো দলের মনুষ্যত্ব অস্বীকার করা। তাহলে দলের বাইরে কোথাও আমাদের মিলিত হবার সম্ভাবনা থাকে না।

ব্রেনে ব্রাউন বলেন, আমাদের মধ্যে বেশির ভাগ মানুষ পারি বিভেদ-রেখা পার হয়ে সংযোগের পথ খুঁজে পেতে, নিজের লড়াইটা বাদ দিয়ে নয়। কিন্তু তার মানে হলো, আমাদের অন্যদের কথা মন দিয়ে শোনার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। এবং নিজেকে বর্ম দিয়ে ঢেকে রেখে নয়। সান্ত্বনার কথা হলো, একটা নির্দিষ্ট ক্রিটিক্যাল জনসংখ্যা আছে, যে জনসংখ্যায় আমাদের পৌঁছাতে হবে। এই জনসংখ্যা যদি বিশ্বাস করে ভালোবাসা আর সংযোগ দিয়ে পারস্পরিক বিভেদ দূর করা যায়, তাহলেই হলো। কিন্তু সে চেষ্টা আমরা যদি না করি, তবে আমরা যা বিশ্বাস করি, যেসব কারণে আমরা লড়াই করি, তাদের মূল্য ধুলোয় মিশে যাবে।


তাহলে সত্যিকারের সংযোগ ঘটাতে গেলে আমাদের নিজেদের কাছে নিজেদের অনেক খাঁটি, অকৃত্রিম হতে হবে।
ব্রেনে উপাত্ত ঘেঁটে দেখছেন, আমরা দলে দলে ভাগ হয়ে গিয়েও, দলের ওমে উত্তাপ নিয়েও কেন নিঃসঙ্গ রয়ে যাই, এবং কেন দলাদলি থেকে বের না হলে আমাদের সে অভাব পূরণ হচ্ছে না!

দলের ওমের ভিতরে আরামে শুয়ে থাকলে কোনো চিন্তা থাকার কিন্তু কথা না, এমনটা আমরা ভাবতে পারি। দলের মুখপাত্র যা বলবেন, তার সঙ্গে গলা মেলাতে হবে মাত্র। কাজটা সহজ মনে হয়, তাই না? কিন্তু সমস্যা হলো, এই সমাধান তো কাজ করছে না। আদর্শগত ভেদাভেদ, দলাদলি আমাদের কিছুতেই নিঃসঙ্গতা বোধ আর বিচ্ছিন্নতা বোধ থেকে রক্ষা করতে পারে না। তার মানে সবচেয়ে বুক ভাঙা বিষয় থেকে আমাদের কিছুতে রক্ষা নেই, দলাদলি ছাড়িয়ে সংযোগ খোঁজা ছাড়া।

আমরা যদি পরস্পরের কাছে ফিরে না আসি, তাহলে ভয়, আতংক জিতে যায়। ব্রেনের কাজ নিয়ে যারা জানেন, তারা জানেন, এ পথটা সহজ নয়, আরামের নয়, সব সময়। সাহসকে বেছে নেওয়ার পথ এটা। অরক্ষিত হয়ে দাঁড়াবার পথ, আঘাত খাবার ভয় নিয়েও দাঁড়াতে হবে। গহীন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে কী করে যেতে হয়, অথবা নিজেই কী ভাবে সেই গহন অরণ্যে রূপান্তরিত হয়, সে কথাই জানা যায় এর পরে।

অসম্ভব নিঃসঙ্গতাবোধ যেমন বেদনাদায়ক, তেমন এক অদ্ভুত সুন্দর জায়গাও বটে, শুরু করার পক্ষে, জানান ব্রেনে। আমরা যদি ব্যথা বেদনাকে বিশ্লিষ্ট করে চারিদিকে ছড়িয়ে না দিয়ে বরং ধারণ এবং বরণ করে নিই, গভীরভাবে অনুভব করি, তাহলে আমাদের মধ্যে সেই পরিবর্তন হয়, সেই রূপান্তর ঘটে, যে পরিবর্তন সমাজে নিরাময় আনে।

ব্রেনের কথায়, ‘আমি এমন এক পৃথিবীতে বিশ্বাস করি, যেখানে আমরা শিল্প আর শব্দ ভাগাভাগি করে নিতে পারি — যেখান থেকে আমরা পরস্পরের কাছে ফিরে আসতে পারি। তাহলেই সংগ্রামের সময়, লড়াইয়ের সময়, আমরা দূর থেকে পরস্পরকে আঘাত না হেনে, সাহায্য করতে পারবো, পরস্পরের জন্য দাঁড়াতে পারবো।’

#Brene_Brown_my_author

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 92
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    92
    Shares

লেখাটি ৪৫৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.