নারীর জন্য ‘ভালো ভাষা’

রাব্বী আহমেদ:

‘অর্ধেক মানবী তুমি, অর্ধেক কল্পনা’ ঘোষণা দিয়ে বহু আগেই রবীন্দ্রনাথ নারীর অর্ধেক সত্তা বিনির্মাণের দায়ভার পুরুষের হাতে দিয়েছেন এ কথা আধুনিক চিন্তা ধারার মানুষদের অজানা নয়। শুধু রবীন্দ্রনাথই নয়, যুগে যুগে কালক্রমে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীকে বিনির্মাণ করেছে নিজের মতো করে।

পুরুষেরাই তৈরি করে দিয়েছে নারীর ভাষা। পুরুষের নির্মিত ভাষায় নারীর যে রূপ আমরা দেখতে পাই সেখানেও প্রতিফলন ঘটে এই দৃষ্টিভঙ্গির। নারীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বৈশিষ্ট্য। ফলে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে বিবিধ নিপীড়নের ভেতর দিয়ে যেতে হয়। ভাষাগত নিপীড়ন নারীর ওপর বহুমাত্রিক নিপীড়নের একটি।

নারীকে ভাষার মাধ্যমে বিনির্মাণ করার মাধ্যমে পুরুষতন্ত্র নারীকে অবদমন করে এবং ভাষার মাধ্যমে চাপিয়ে দেয় নারীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পুরুষের নির্মিত বিভিন্ন নিয়ম-কানুন এবং বিধি-নিষেধ। দীর্ঘদিনের ভাষার চর্চার ফলে যা এক সময় ঐতিহ্যে রূপ নেয় এবং সামাজিক প্রথার অংশ হয়ে যায়। ভাষা নিয়ন্ত্রিত হয় সমাজের ক্ষমতাশীল গোষ্ঠী দ্বারা। পুরুষশাসিত সমাজে পুরুষেরাই সমাজের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁদের অবস্থান। ফলে, পুরুষ যেভাবে নারীকে নির্মাণ করে সমাজও নারীকে সেই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকেই বিচার করে থাকে। ফলে সমাজে প্রচলিত নারীকেন্দ্রিক ধ্যান, ধারণা, বিশ্বাস, উপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, সাহিত্য থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে নারীকে পুরুষে চেয়ে অধস্তন, নিকৃষ্ট এবং নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয়।

ভাষা সংস্কৃতির মূল উপাদান এবং মনের ভাব প্রকাশেরও অনন্য মাধ্যম। মানুষ যেহেতু ভাষার মধ্যে জন্মায় তাই পারিপার্শ্বিক পৃথিবী সম্পর্কে ভাষার মাধ্যমেই সে জ্ঞান লাভ করে। ভাষার লিঙ্গীয় বৈষম্যের কারণে নারী এবং পুরুষের প্রকাশভঙ্গিতে প্রভেদ রয়েছে। ভাষা পুরুষকে মহান করে অন্যদিকে নারীকে করে হীন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে। মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ায়ও ভাষার অবদান রয়েছে। যে কারণে, নারী সম্পর্কে বিরূপ ধারণা প্রোথিত হয় ভাষার মাধ্যমেই। নারী এবং পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভাষার ক্ষেত্রেও সমতা প্রতিষ্ঠা করা জরুরী। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি যে বাংলা ভাষাও পুরুষতান্ত্রিক প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। ফলে এই ভাষার পরতে পরতে যে পুরুষতন্ত্রের ঘেরাটোপ রয়েছে তা থেকে মুক্ত হয় নি বাংলা ভাষা।

ভাষা সংস্কৃতির প্রধান অনুষঙ্গ। মনের ভাব আদান-প্রদান, কোন বিষয়কে উপস্থাপন, যোগাযোগ স্থাপন থেকে শুরু করে কোন সংস্কৃতির অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে ভাষা। ভাষার মাধ্যমেই মানুষের সৃজনশীল ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। মানুষের চিন্তা-চেতনা নির্মিত-বিনির্মিত হয় ভাষার দ্বারাই। সংস্কৃতির জন্য ভাষা যেমন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেমনি ভাষার সঠিক ব্যবহারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কেননা, যেকোন সমাজে নারী এবং পুরুষের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম। পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থায় নারী বিবিধ শৃঙ্খলে আবদ্ধ। দেখা যায়, নিয়ম-নিষেধের বেড়াজাল এবং নারীর প্রতি অমানবিক আচরণ তার ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনকে করে তোলে দুর্বিষহ। বিবিধ নিপীড়ন এবং নির্যাতনের ভেতর দিয়ে সামাজিক এবং পারিবারিক জীবন যাপন করতে হয় বাংলাদেশের নারীদের। আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো, ধর্মীয় গোঁড়ামি, শিক্ষার অভাব, কুসংস্কার এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এই নিপীড়নের জন্য দায়ী।

তবে সকল কিছু ছাপিয়ে যে বিষয়টি নারী নিপীড়নের নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ে তা হচ্ছে সুতীব্র পুরুষতান্ত্রিকতা। এই পুরুষতান্ত্রিকতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে সেই প্রাচীন কাল থেকেই নারীকে সহ্য করতে হচ্ছে বহুমাত্রিক নিপীড়ন। শুধুমাত্র পারিবারিক পরিসরেই নয় নারীরা নিপীড়িত হচ্ছে সমাজের সকল ক্ষেত্রে। তবে এসব নিপীড়ন নিয়ে বহু আলাপ-আলোচনা হলেও যে বিষয়টি আড়ালে থেকে যাচ্ছে তা হলো নারীর ওপর ভাষাগত নিপীড়ন। এর কারণ শারিরীক নিপীড়ন যতোটা দৃশ্যগত, ভাষাগত নিপীড়ন ততোটা নয়।

নিত্যনিয়ত নারীকে ভাষার মাধ্যমে নিপীড়ন করা হলেও অনেকের কাছেই তা ধরা পড়ে না। কিংবা ধরা পড়লেও পুরুষতান্ত্রিকতা যে ভাষাকে নির্মাণ করেছে সেখানে নারীকে অধস্তন করে রাখার বিষয়টি সম্পর্কে সমাজের সচেতন শ্রেনীর মানুষ ওয়াকিবহাল নয়। ফলে যুগ যুগ ধরে ভাষা নারীকে নির্মাণ করে চলেছে নেতিবাচকভাবে। যেখানে স্পষ্টই ফুটে উঠেছে নারীর প্রতি সমাজের অবজ্ঞা, অবহেলা, নির্যাতন, বৈষম্য এবং পুরুষতান্ত্রিকতার বর্বর চিত্র।

এই চিত্র আরো স্পষ্ট হয় যখন পথে-প্রান্তরে, ঘরে-বাইরে, অফিস-আদালতে এবং আড়ালে কিংবা প্রকাশ্যে নারীকে শুনতে হয় বিভিন্ন ধরণের কটুক্তি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা যেমন জরুরী তেমনই জরুরী নারীকে ভাষাগত নিপীড়ন থেকে মুক্ত করা। কারণ অন্যসব নিপীড়নের মতোই ভাষাগত নিপীড়ন সুতীব্র মানসিক যন্ত্রণার। যা নারীর মনোজগতকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।

নারীর উন্নয়ন নিয়ে যতোই গবেষণা হোক না কেন যদি ভাষাকে নারীর জন্য সুবিধাজনক না করা হয় এবং নারীর ভাষাগত নিপীড়নের জায়গাকে চিহ্নিত করা না হয় তবে নারীর সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। এবং এর ফলশ্রুতিতে অনাদিকাল থেকে নারী যেভাবে সমাজের নিপীড়িত, নির্যাতিত, অবহেলিত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী হিসেবে টিকে ছিলো ঠিক তেমনই সামগ্রিক উন্নয়নের মাঝে থেকেও নারীর মানসিক মুক্তি মিলবে না এবং নারীর সামাজিক অবস্থানের উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

তাহলে কি সেই একই পুরুষতান্ত্রিকতার ঘেরাটোপে আটকে থাকবে নারী? এছাড়া নারী-পুরুষের যে বৈষম্যময় সমাজের স্বপ্ন আমরা দেখি, সে সমাজে স্থিতিশীলতা এবং নারীর প্রতি সম্মানজনক আচরণ এবং দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতেও নারীর ওপর ভাষাগত নিপীড়ন বন্ধ করা প্রয়োজন নয় কি? নারীকে উপস্থাপনে বিদ্যমান তীব্র পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব থেকে সরে এসে ভাষার সাম্য রক্ষা করে সুন্দর সমাজ নির্মাণ করা জরুরী নয় কি? পুরুষেরা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাশীল হলে নারীবাদ পুরুষ এবং নারীর যে সাম্যের জন্য লড়াই করে আসছে, সে সাম্য সত্যিকার অর্থেই প্রতিষ্ঠিত হবে। নারীরা সমাজে ফিরে পাবে তাদের নিজস্ব জায়গা এবং সঠিক মূল্যায়ন।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরা নারীর প্রতি কি মনোভাব পোষণ করে তাও ফুটে ওঠে ভাষা প্রয়োগের মাধ্যমে। প্রাত্যহিক কথাবার্তা, সভা-সেমিনার, মিছিল-মিটিং কিংবা আটপৌরে আলাপচারিতা থেকে শুরু করে সাহিত্যের বিবিধ শাখাতেও নারীর প্রতি পুরুষের তীব্র পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব বিদ্যমান। ফলে যুগ-যুগান্তরের ধারাবাহিকতায় নারীরা তাঁদের পূর্বের অবস্থানেই বিরাজ করছে। তাছাড়া, পুরুষপ্রধান সমাজে ভাষার পরিবর্তন এবং বিবর্তনে মুখ্য ভূমিকা পালন করে পুরুষেরাই। সমাজে নারীর যে অধস্তন অবস্থান তার নেপথ্যে ভাষার প্রভাব বেশ সুদূরপ্রসারী। ভাষাগত দিক থেকে নারীকে দুর্বল এবং অবদমিত করে রাখার মাধ্যমে নারীর প্রতি পুরুষের আরেক ধরণের আধিপত্যশীল বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়।

ভাষার মাধ্যমেই প্রতিফলিত হয় কোন সমাজের চিন্তা-চেতনা, আদর্শ, মূল্যবোধ এবং সমাজের মানুষের ভাবনাগুলো। মানুষের বিবিধ মতামত এবং মননশীলতা প্রকাশের অনন্য মাধ্যম এই ভাষা। শৈশব থেকে মানুষ যে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে বেড়ে ওঠে সেখানে ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মানুষের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার সাথে ভাষার সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। ফলে ভাষা যেভাবে নারীকে নির্মাণ করে সেভাবেই নারী সম্পর্কে ধারণা পায় ঐ ভাষাভাষির জনগোষ্ঠী। আর তাই নারীর ওপর সকল ধরণের হিংসাত্মক এবং অবজ্ঞাসূচক মনোভাব পরিবর্তনের জন্য ভাষার নির্মাণ ও প্রয়োগের পরিবর্তন জরুরী। পূর্বেই বলেছি হাজার বছরের পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবের ফলে ভাষার বিবর্তন এবং চলমান প্রক্রিয়ায় নারীর যে রূপ নির্মিত হয়েছে এর পেছনে কলকাঠি নাড়ছে ভাষা। এবং ভাষা সুতীব্র পুরুষতান্ত্রিকতায় জর্জরিত। ভাষা তাই স্পষ্টতই পুরুষ শাসিত সমাজে নারীর অবস্থানকে নির্দেশ করে। ফলে ভাষাগত নিপীড়নের শিকার নারীদের কন্ঠস্বর সমাজে অত্যন্ত ক্ষীণ।

পিতৃতান্ত্রিক সমাজের প্রেক্ষাপটে নারীর অবস্থান ঠিক কোথায় কিংবা এর নেপথ্যের কারণগুলো কি তা জানার জন্য ভাষার দিকটি বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। কারণ নারীর অবস্থা এবং অবস্থান উভয়ই নির্দেশ করে ‘নারী’ শব্দ শুনলেই একজন পুরুষ কিংবা সমাজের চোখে নারীর ঠিক কি প্রতিমূর্তি গড়ে ওঠে। ভাষার মাধ্যমে গড়ে ওঠা নারীর চিত্ররূপই প্রোথিত হয়ে রয় পুরুষের মনে তথা একই ভাষাভাষির সুবিশাল জনগোষ্ঠীর মনে।

আর তাই, মনের অজান্তেই হয়তো নারীকে নিয়ে যে মনোভাব প্রকাশ করে মানুষ, তার পরতে পরতে রয়েছে নিপীড়নের মর্মান্তিক চিহ্ন। শুধু যে পুরুষেরাই নারীকে বিভিন্ন ভাবে অপদস্থ করছে তা নয়, নারীরা নিপীড়ত হচ্ছে তাঁদের স্বজাতীয় আত্মীয়কূলের কাছ থেকেও। কারণ একজন নারীও হয়তো জানে না সে যে ভাষায় কথা বলছে সে ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে রয়েছে নারী নিপীড়নের বীজ। যা একসময় মহীরূহ হয়ে ছড়িয়ে দেয় ডালপালা।

ফলে আজন্ম নারী রয়ে যায় ঘনঘোর অমানিশায়। এবং ভাষাগত নিপীড়ন আর্তনাদ ছড়ায় অন্তরালে। অথচ এই নিপীড়ন সমাজের সৃষ্টি, ভাষার সৃষ্টি। সুদীর্ঘকাল ধরে যা সমাজে প্রবাহমান। নারী বিষয়ক ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা এবং নারীর প্রতি সম্মানজনক মনোভাব এবং সঠিক মূল্যায়নের জন্য ভাষা প্রয়োগের দিকে যত্নশীল হওয়া জরুরী। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে, নারী বিষয়ক প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতাগুলো সঞ্চারিত হয় ভাষার মাধ্যমে। আর ভাষা নিয়ন্ত্রিত হয় ক্ষমতাশীল গোষ্ঠী দ্বারা।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে পুরুষেরাই হয়ে উঠেছে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। আর তাই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে এই পুরুষেরাই ভাষাকে দিয়েছে নিজস্ব রূপ। নারীকে অধস্তন করে রেখে বিভিন্ন নিপীড়নের মাধ্যমে বন্ধ করেছে তাদের বাক প্রকাশের স্বাধীনতা। পুরুষেরাই নির্ধারণ করে দিচ্ছে নারীর ধরণ। নারীর বৈশিষ্ট্য। ফলে নারীর আচার আচরণও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে পুরুষের দ্বারা।

পুরুষেরা তাঁদের সুবিধামত ভাষা ব্যাবহার করে নারীর অবস্থানকে বিনির্মিত করে আসছে যুগ যুগ ধরে। হাজার বছরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে। নারী এবং পুরুষের বিভাজিত ভাষা হাজার বছর ধরে এমন ভাবে সমাজ এবং সংস্কৃতির সাথে মিশে গিয়েছে যে সে বিষয় গুলোকে আলাদা করা খুব কঠিন। আবার একটা নির্দিষ্ট নিয়মের মাঝে সুদীর্ঘকাল ভাষা চর্চা হবার কারণে এগুলোকে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু আমাদের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতা, আলাপচারিতা এবং চিন্তা-ভাবনার বহিঃপ্রকাশে বিষয়গুলো স্পষ্টই ফুটে ওঠে।

একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে যে, নারীকে যেভাবে ভাষা উপস্থাপন করে, পুরুষকে ঠিক একইভাবে ভাষা উপস্থাপন করে না। একই ভাষা পুরুষের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট কিন্তু নারীর প্রতি সহনশীল নয়। পুরুষের তৈরি, পুরুষের শাসিত এবং পুরুষ নিয়ন্ত্রিত যে ভাষা, সে ভাষা নারীকে মুক্তি দেয় নি অবজ্ঞা, বৈষম্য, নিপীড়ন ও নির্যাতন থেকে। পুরুষের ভাষা এবং নারীর ভাষার মধ্যে তাই এত বিভেদ রেখা। নিগৃহীত, নিপীড়ত নারীদের সেসব ভাষাকে ব্যাখা ও বিশ্লেষণ করলে স্পষ্টই ধরা পড়বে পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান।

নারী এবং পুরুষের বিভেদহীন সমাজ গড়ে তোলার জন্য নারীর ওপর ভাষাগত নিপীড়ন গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। একই সাথে বাংলা ভাষায় নারীকে উপস্থাপনে যে সুতীব্র পুরুষতান্ত্রিকতা রয়েছে সেদিকেও নজর দেয়া জরুরি। নারীর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি প্রয়োজন ‘ভালো ভাষার’। ‘ভালো ভাষা’ ছাড়া ‘ভালোবাসা’ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ পায় না।

শেয়ার করুন:
  • 319
  •  
  •  
  •  
  •  
    319
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.