যোনী স্তোত্র

0

জাহানারা নুরী:

ওম যোনী সর্বভূতেষূ মায়া-শক্তি,
অষ্ট প্রকারেণ জগৎ-প্রপঞ্চ সর্বার্থকরী,
নানাবিধানি, অদিব্যানি, ছেদ্যোহয়ম্,
দাহ্যোহয়ম্ শরীরী, কামশোষ্য ত্রিভুবানি
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নামোহাঃ!

সীতা তুমি, হ্লাদিনী, দ্রৌপদী, বিশ্ব জায়া,
দুহিতা ফাতেমা, কিম্বা জায়েদা জননী;
মানবী কিন্ত্ত তোমাতে তব অনধিকার
কেননা মন হয়েও তুমি বর্নিত মন বিনাশিনী রূপে,
বুদ্ধি হয়েও অবুদ্ধির উদ্ভবকাল রূপে; তাই
প্রথম বন্দিনী তুমি, পশুপালকের শস্ত্রে আহত আদি কিষাণী,
ণৃ রূপিণী, যদিও ন নর, ন নপুংসক,
ন ইতর কিন্ত্ত স্বতন্ত্র সর্বজীবে অবিভাজ্য, তাই ধিকৃত
অবসিত, অবমানিত, অবহেলিত, তুচ্ছার্থে ব্যবহৃত
তবে এই কব্যোপচারে পূজি তোমা স্ত্রোত্রে, জোড়হস্তে
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নামোহাঃ!

হে যোনীনি, অংশ হয়েও তুমি বৃহৎ ঐক্য;
গৃহে, কলে-কারখানায়, পরিবার কি বারোয়ারী পল্লীতে আরাধ্য;
অর্চনায় তুমি কখনও ঠাকুর, কখনও প্রত্যঙ্গমাত্র হেন জড়বস্ত্ত;
প্রজাতির মধ্যে তুমি উপজাতির অপরনাম, অথচ তুল্যমূল্যে
অধিক কাম্য, বাধ্যকৃত সর্বযুগের পিতৃ-পিতামহবাদের দণ্ডাধীন
লৌহবেড়ে শৃঙ্ক্ষলিত; তুমি, উপচারমাত্র নিত্যকৃত্য-ভোগে ও কামনায়
অথচ কি করুণ ত্যাজ্য ও ঘৃণার পাত্র, যদিও
মহাকারণ তুমি জীবন প্রেমের ও পূজার।

হে যোনীনি, ভূমিজ জগতে তুমি অনুচ্চার যোগ্য
একমাত্র পুরুষস্পর্শা তুমি, নরভোগ্যা বসুমতী,
মানবী নামের তুমি অচ্ছুত অবরেণ্য দেহ;
দেহকে সে স্পর্শে না, আত্মা তার আবরণহীন
তুমি যার সেও ঘৃণা দেয়, যাদের জন্য তারাও,
বলপ্রয়োগের তীব্র লোভ তুমি, যুযুৎসব ভূমির উৎস,
ধর্ষণাকাঙ্ক্ষা, হত্যা, অগ্ন্যুৎপাত, বলদর্পী দখল, ক্ষত-বিক্ষত করার
তীব্র বাসনার যাদুকরী মহারথী অন্ধকার নামকরণ তব;
যুগে যুগে যা কিছু পাপ সবে করে তুমিই দায়ী হও,
যুদ্ধমনশ্চ নরের কর্মপাঁকে কুলক্ষয়ে কারণ বলে
ত্যক্তজীবিতা, অথচ প্রেমের আনন্দধ্বনি তুমি ঈভ,
দেহ আত্মার সিংহদ্বার, ভয়োমধ্য-অভয়,
সৌগন্ধ্যবাহী সৌরাষ্ট্র তুমি, ধরিত্রী যেহেতু ধরো যত
দুঃখ তাপ চিত্তের গহীনে গভীরে,
পুজি তোমা নব স্ত্রোত্রে, জোড়হস্তে হৃদয় উপাচারে।

অয়ি অপৌরুষেয় অমেদ শ্রাবস্তী, তুমি আত্মজ্ঞান,
স্বানুভূতি সিদ্ধির সোপান, ইতর ভূষণে ও ভাষণে নিন্দিতা;
উৎকৃষ্টা তুমি অদিতি, স্বাহা, প্রাণের মহাযজ্ঞস্থল,
মিলনের শান্তির সফেদ পতাকা, দুঃখের অরি সুখের সীমা,
আনন্দের পুনরুত্থান তুমি গূঢ়লোক,
মৃত্যু, হত্যা, ফতোয়া, বাঁচার বিভীষিকা;
মারিয়া ম, খুশী, নুরজাহান, কল্পনা সাংমা, নানা
রক্ত রসে তুমি আর্তনাদ ও হাহাকার,
নাও তুলে কাঁধে মহাতামস ধরণীর দোররায়,
বেয়নেটের খোঁচায়, নৃশংস শিশ্নের অতর্কিত আঘাতে,
নীতির প্রলাপে, রাজনীতির সংলাপে,
দুর্নীতি ও মৌলভীর পাপ-পূণ্যের বিলাপে;
অথচ তুমিই সেই অবারিত সূর্যালোক
ঝরে যা সময়ের ঘড়ি ধরে, প্রাণ রহস্য ধারক জলরাশি
তুমি পৃথিবীর, বিদীর্ণ করো নিজেরে অবহেলে,
দিতে প্রাণ নিজ প্রাণক্ষয়ী, অস্থি-মজ্জায় প্রাণ ভালোবেসে,

হে ঐশ্বরেয়,পাপ তোমারে বিঁধে না, না পাবক তোমারে দহে,
জগতের ঐশ্বরিক অভিশাপেও তুমি অক্ষয়, ধ্রুবজাতক
তুমি অব্যয়, চলিষ্ণু স্থাণু পূর্বাপর
পুজি তোমা নব স্তোত্রে, জোড়হস্তে হৃদয় উপাচারে
নমস্তস্যৈ নমস্তস্যৈ নমো নামোহাঃ!

১২ ফেব্রুয়ারি ২০১১

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 486
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    486
    Shares

লেখাটি ৩,৯৯৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.