সাঁতার দিয়ে উঠুন

0

সীমান্ত রায়:

গাড়ি আটকে আছে জ্যামে, আর আমার চোখ আটকে আছে পাশেই থেমে থাকা বাইকটার দিকে। ছোট্ট একটা পরীর বাচ্চা স্কুল ড্রেস পরে বসে আছে পেছনে, মাথার দুই পাশে পরিপাটি করে বাঁধা দুটো ঝুঁটি। আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি দেখে সেও লাজুক মুখে প্রথমে মুখ ঘুরিয়ে নিল, তারপর লুকোচুরি খেলা শুরু করলো আমার সাথে। নানারকম উদ্ভট মুখভঙ্গি করে পিচ্চিটাকে মজা দিলাম, আর সে আরও শক্ত করে আঁকড়ে ধরলো তার মাকে। মা তখন হেলমেট মাথায় সতর্ক দৃষ্টিতে সামনের গাড়ির চলাচল দেখছেন।

ব্যাঙ্গালোরের রাস্তাঘাট খুব বেশি আলাদা না। অনেক পরিচিত দৃশ্যই চোখে ধরা পড়ে যায় আসার পথে। দোকানপাট, মানুষজন, শহুরে জীবনযাত্রা কিংবা কিছু পরিচিত গাছ। মিলে যায় অনেককিছুই, শুধু একটা জিনিসই বেশ বড় পার্থক্য হয়ে ফুটে ওঠে, শত শত কিশোরী থেকে মধ্যবয়স্কা নারী স্কুটি-বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে শহরময়। খুব ভালো লাগে দৃশ্যগুলো, ছোট্ট বাচ্চাটাকে স্কুটির সামনে বা পিছনে বসিয়ে কোনও মা হয়তো এসেছে শপিংএ, ফেরার সময় বাচ্চাটাকে নিয়ে কিছু খেয়ে আবার লম্বা টানে পৌঁছে যাবে বাসায়।

আবার সকালে মা হয়তো অফিসে যাওয়ার পথে বাচ্চাটাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে যাচ্ছে বাইকে করে। আমার নিজের মায়ের কথা মনে পড়ে যায়, কী আধুনিক আর স্বাধীনচেতা একজন মানুষ ছিল! কী অসাধারণ দক্ষতায় সবদিক সামাল দিয়ে চলতো, আর কতো স্মার্টই না ছিল। আমাকে স্কুলে নামিয়ে দিয়ে অফিসে চলে যেত, আবার ছুটি হলে অফিস থেকে এসে নিয়ে যেত, আমার রাজত্ব হতো মায়ের কর্মস্থল।

মা ব্যাঙ্গালোরে থাকলে হয়তো আমিও মায়ের বাইকের পিছনে চড়ে ঘুরে বেড়াতে পারতাম হাওয়ায় উড়ে। আমি পারিনি, আমি জন্মেছিলাম অন্য সমাজে, অন্য মানসিকতার আবহে।
ব্যাঙ্গালোর শহরে কতো স্টুডেন্ট মেয়ে, বাইক নিয়ে চলে যাচ্ছে কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে, কিংবা প্রাণবন্ত কোনও আড্ডায়, চলাফেরার এক গতিময় স্বাধীনতা। খুব বেশি কেউ তাকিয়ে নেই তাঁদের দিকে গিলে খাওয়া চোখে, কিংবা কুৎসিত কোনও বাঁকা দৃষ্টিতে।

আমার স্কুলের দিনগুলোতে আমার শহরে আমি কোনো মেয়েকে সাইকেলও চালাতে দেখিনি। কোনও মেয়ে সাইকেল চালাতে পারে এই ব্যাপারটাও যেন অদ্ভুত ছিল আশেপাশের মানুষজনের কাছে। আমি নিজে সাইকেল নিয়ে শহরের বাইরে জোরে ছুটে চলার সময় ভাবতাম, কেন আমার এই স্বাধীনতা একটা মেয়ে পাবে না? কেন স্কুল-কলেজের গণ্ডি, প্রাইভেট আর বাসার বাইরে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাবে না? কেন রাস্তায় গিজগিজ করা ছেলেদের মতো মেয়েরাও নেমে আসে না? এগুলো কোনও প্রশ্ন ছিল না, ছিল অসহ্য ক্রোধ আর দীর্ঘশ্বাস। কারণ প্রশ্নগুলোর উত্তর আমি জানতাম যে ঠিক কী কারণে একটা মেয়ে এই সমাজে আবদ্ধ হয়ে যায়, কীভাবে তাকে আটকে ফেলা হয় নানারকম চাপিয়ে দেওয়া আচার, সংস্কার আর বিধিনিষেধে।

প্রতি পদক্ষেপে তার ট্যাবু, পুরো দেশ ও জাতি সাগ্রহে অপেক্ষায় আছে তার ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য এবং নিজেদের লেলিহান লালসার তৃপ্তি ঘটাতে তাকে ইচ্ছামতো বিশেষণে অভিহিত করতে। বলাই বাহুল্য, বিশেষণগুলো এতোই ভদ্র(!) যে শুনলে মনে হতে পারে, মানুষ আসলে বুক আর নিম্নাঙ্গের দুটি জায়গা ছাড়া আর কিছু না। আমি উত্তরগুলো জানতাম, তাই আক্ষেপ বাড়তো, কিছু অক্ষম রাগও হতো, মেয়েরা নিজেরা কেন আরেকটু শক্ত হয় না? কেন একটু চিন্তা করতে শেখে না?

আসলে চিন্তাও হয়তো করে অনেকেই। কিন্তু শেষমেশ সাহসে আর কুলিয়ে উঠতে পারে না। এই সমাজে তার বিকৃত অর্থহীন নিয়মের বাইরে গেলে, সমাজ যেভাবে ঘিরে ধরে মানুষকে তা দেখলে খোদ শয়তানও মনে হয় লজ্জা পাবে। তাই মেয়েগুলো আস্তে আস্তে গঙ্গাফড়িং হয়ে যায়। যারা জানে না তাদের জন্য বলে রাখি, গঙ্গাফড়িংকে আটকানোর চেষ্টা করলে প্রথমে বের হবার জন্য অনেক চেষ্টা করে, যখন পারে না তখন হাল ছেড়ে দেয় একেবারেই। তখন যদি তাকে মুক্তও করে দেওয়া হয়, তাহলেও আর মুক্ত হতে পারে না। ওরকম দশাই মেনে নেয় অধিকাংশ মেয়ে, মনোজগতে পাকাপাকিভাবে গেঁথে যায় তাদের যে তারা দুর্বল, অক্ষম, এবং পুরুষের উপর নির্ভরশীল হয়ে তাকে চলতে হবে।

মানুষের জীবন পেয়ে তাদের সেটা কাটাতে হয় বন্দী গঙ্গাফড়িং হয়ে, এর চেয়ে বড় কষ্টের ব্যাপার পৃথিবীতে খুব বেশী ঘটে না, এবং এই দুই হাজার আঠারো সালে এসেও বিশ্বের অধিকাংশ মেয়ের ভাগ্য হয়তো এভাবেই লেখা হয়ে যায়।

পৃথিবী বা কষ্টের কথা বললে চলে আসে আরও অনেককিছু। আমাদের সমাজ এবং তথাকথিত সভ্যতার ইতিহাস আসলে নারীর উপর অত্যাচার আর তাঁদের কান্নার ইতিহাস। প্রতিটা যুদ্ধের রক্ত ধোওয়া হয়েছে নারীর চোখের জলে, জন্ম থেকে হাজারো বিধিনিষেধ আর অবমাননার পাহাড় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে নারীদের উপর, তাঁদের পুড়িয়ে মারা হয়েছে, জীবন্ত কবর দেওয়া হয়েছে, ইচ্ছেমত তাঁদের শরীরকে ব্যবহার করা হয়েছে, শুধুমাত্র একটি কারণে, “পুরুষের সন্তুষ্টি এবং খামখেয়াল”।

আজও তাঁদেরকে একদিকে যেমন বস্তায় ভরে ঘরে আটকে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে যাতে পুরুষ তাকে যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারে, ঠিক তেমনিভাবেই তাঁদের এমনভাবে বাজারে তোলা হচ্ছে যেখানে মানুষটি মুখ্য নয়, মুখ্য তার শরীর। কোথায় যাবে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো? যারা কিনা মেধা বা সামর্থ্যে কোনও অংশে কম না হয়ে বরং এক সমুদ্র মায়া, ভালোবাসা আর যত্ন নিজেদের ভেতরে নিয়ে হাজারটা অপমান, নির্যাতন আর অবিচার সহ্য করে যাচ্ছে হাজার বছর ধরে।

পৃথিবী বড্ড বড় হয়ে যায়, হাঁপিয়ে উঠব ফিরিস্তি দিতে গেলে। বাংলাদেশের দিকে তাকানো যাক। দেশের ৭২ শতাংশ বিবাহিত নারী কখনও স্বামীর নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেন না। এই নির্যাতনের ধরন কেমন? না, শুধু মারধরের কথা না। একটা মানুষকে কতভাবে নিষ্পেষণ করা যায় তার হাজারটা উদাহরণ ছড়িয়ে আছে আমাদের আশেপাশেরই সুখী(!) পরিবারগুলোয়। শিক্ষিত, ভদ্রসমাজের তলে যে কদর্য অন্ধকার তাতে কত মেয়ের অশ্রুভেজা কাজল মিলেমিশে একাকার হয়ে যাবে।

আমার ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ও ফোকাসড মানুষগুলো হত মেয়ে। বছরের পর বছরের কষ্ট করে শেখা জ্ঞান, আর অর্জন করা যোগ্যতা এক মুহূর্তে নাই হয়ে যায় যখন মহান স্বামী বলেন, “না”। স্বামীর অপছন্দ কিংবা সংসার সামলানোর অজুহাতে কতো মেয়ে হারিয়ে গেল এভাবে। কতো মেয়ে নিজের ভালোলাগা, শখ কিংবা সামর্থ্যের জায়গাগুলো ভুলে গেল। মেয়েটা আর গান গাইতে পারে না, নাচের নাম মুখেও আনে না, পড়াশোনা করতে গেলে শুনতে হয় নানা অজুহাত, চুল খুলে ঘুরতে পারে না, কাপড়ের আস্তরণে বন্দী হওয়া চুলগুলো নিয়ে আর খেলা করতে পারে না মুক্ত বাতাস, বের হতে গেলে হাজারটা কৈফিয়ত দিতে হয়, মেয়েবন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া বাড়াবাড়ি, স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির ছেলেবন্ধুগুলোর নাম মুখে আনাও বারণ, চারিদিকে কী সম্মানজনক অবস্থান!

দেশের ৪২ শতাংশ পুরুষ স্ত্রীকে চাকরি করতে দিতে চান। বাকি ৫৮ ভাগের কাছে স্ত্রী শুধু শরীর আর সন্তান জন্মের মেশিন ছাড়া কিছু না মনে হয়। কী চমৎকার, একটা মেয়ে সারাজীবন পড়াশোনা করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে এসে শুধু একটিমাত্র “না” এর কাছে মুখ থুবড়ে পড়ছে। না মানলেই তুমি খারাপ মেয়ে, তোমার চরিত্রে সমস্যা আছে। আজকের পত্রিকায়ই খবর এসেছে নারী ও শিশুর উপর সহিংসতার ৯৭ ভাগ মামলার কোনও বিচার হয় না। আর কত ঘটনায় যে মামলাই হয় না তার খোঁজ কে রাখে। একটা সমস্যাপূর্ণ সমাজের প্রথম ও প্রধান শিকারই হচ্ছে নারী।

দিন দিন কোথায় যাচ্ছি আমরা? প্রতিনিয়ত মেয়েদের জন্য কী ভয়ঙ্কর একটা জায়গা হয়ে উঠছে আমার দেশ। নতুন করে আবার তাঁদের ঘরে বন্দী করে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছে যেমন একদিকে তেমনি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে মানুষের মানসিকতা। কোনটাই দিনশেষে ভাল ফলাফল নিয়ে আসবে না মেয়েদের জন্য। কী বিপুল নেতিবাচক মনোভাব! শুধু তথাকথিত “অশিক্ষিত” বা “নীচু” সমাজ নয় বরং উপরে ফিটফাট –আধুনিক-শিক্ষিত কিন্তু ভিতরে মধ্যযুগকে বয়ে বেড়ানো কোটি কোটি মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে চারপাশে। এদের কাছে, মেয়েরা খারাপ, সমস্যার জিনিস, উপভোগের জিনিস, বুদ্ধিহীন এবং তাঁদের সবসময় পুরুষের কথামতো চলা উচিৎ।

তাছাড়া, পুরুষকে অসম্মান করতে তাকে মেয়েদের সাথে তুলনা করা তো আছেই, যেন মেয়ে হওয়াটা কত নিকৃষ্ট আর পুরুষ হওয়া কত গর্বের! তথাকথিত সুশীল বা প্রগতিবাদীগণেরও একে অপরকে গালি দিতে গেলে প্রতিপক্ষের মা-বোন ছাড়া চলে না। তাছাড়া জাতীয়ভাবেই এখন আমরা রাগ মেটানোর কাজে কিংবা অপরকে ছোট করার কাজে তাদের মা-বোনকে না নিয়ে এসে থাকতেই পারি না, এতটা উন্নতি হয়েছে আমাদের লোকসংস্কৃতির!

ছোট ছোট স্কুলের বাচ্চা, তাদের কাছেও মেয়েরা হয়ে উঠছে আনন্দের উৎস, তাদের টিজ করে মজা পাওয়া যায়। কোটি কোটি স্কুল-মাদ্রাসা ছাত্রের কাছে মেয়েরা যেন বন্ধু নয়, শুধুই মেয়ে; মেয়েরা যেন সহপাঠী নয়, শুধুই মেয়ে; মেয়েরা যেন মানুষ নয়, শুধুই মেয়ে। এরা যত বড় হতে থাকবে এদের মানসিকতার কি আহামরি কোন উন্নতি হবে?

এখন আমরা হাইপার লুপের স্বপ্ন দেখি, টাইম ট্র্যাভেলের স্বপ্ন দেখি, ঈশ্বরের কণাও তৈরি করে ফেলতে পারছি। কত এগিয়ে গেছি আমরা তাই না? অথচ এখনও পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে একটা মানুষ নেই হয়ে যেতে পারে শুধু একটা কারণে, যদি সে মেয়ে হয়!

এখনও প্রতি মুহূর্তে তাঁদেরকে সন্ত্রস্ত থাকতে হয় তাঁদের শরীর নিয়ে (কিছু কিছু সমাজে তো এমনকি শরীর এতোটাই গুরুত্বপূর্ণ যে কেউ ছুঁয়ে দিলেই নাকি “মেয়েটার” সম্মান ধ্বংস হয়ে যাবে); এখনও কোথাও কোথাও সে নিছক পুরুষের আনন্দের বস্তু, তাঁদের জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি কেটে যায় পুরুষের ইচ্ছাখুশীতে; এখনও একদল শয়তান তাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে ফেলে রাখতে পারে, তার বিচার চাওয়ার জায়গাটাও নেই মতামত তো দূরের কথা; এখনও কোথাও কোথাও তার চুল দেখা গেলে পাথর মেরে মেরে তাকে রক্তাক্ত করে দেওয়া যায়; এখনও তাকে এসিডে ঝলসে দেওয়া যায় যখন তখন…..হাসিমাখা মুখটাকে একদলা গলে যাওয়া মাংসপিণ্ড বানিয়ে দেওয়া যায়; এখনও কয়েকটা শয়তানের পাশবিক নির্যাতনের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করানো হয় মেয়েটার পোশাক দিয়ে; এখনও কয়েকটা টাকার উন্মাদনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া যায় তাঁদের শরীরে; এখনও পৃথিবীর বড় একটা অংশের প্রধান চিন্তার কারণ মেয়েদের চুল দেখা যাওয়া না যাওয়া, তাঁদের পোশাক এবং চলাফেরা; এখনও নির্দ্বিধায় একটা মেয়েকে খুন করে ফেলা যায় পরিবারের সম্মানের নামে যদি মেয়েটা নিজের ইচ্ছানুযায়ী জীবন সাজাতে চায় (হায়রে সম্মান!); এখনও একটা মানুষের স্বপ্ন, ইচ্ছা, মতামত সবকিছুকে একটা কথা বলে থামিয়ে দেওয়া যায়, “তুমি মেয়ে!”। আসলেই অনেক এগিয়েছি আমরা, অনেক সভ্য হয়ে গেছি!

যখন এই ছবিটা বছর দুয়েক আগে এঁকেছিলাম একবুক হতাশা নিয়ে, তার থেকে দেশ হয়তো আরও পিছিয়েছে এই সময়ে। এখন বিভিন্ন অনুষ্ঠান মানেই রাস্তায় মেয়েদের জন্য আতঙ্ক, এখনও বিভিন্ন সমাবেশে মেয়েদের নিয়ে কুৎসিত আর অপমানকর মন্তব্য ও নির্দেশনা দিলেও কারও গায়ে লাগে না বরং দিনে দিনে বাড়ছে তাদের সংখ্যা, এখনও মেয়েদের শরীর নিয়ে গালি না দিলে বন্ধু সমাজে কুল হওয়া যায় না মনে হয়, আজও প্রতিনিয়ত মুখোমুখি করে দেওয়া হচ্ছে নারী ও পুরুষকে, বাড়িয়ে তোলা হচ্ছে দূরত্ব আর হারিয়ে যাচ্ছে তাদের “মানুষ” পরিচয়।

আজ চারপাশে ডুবছে নারী, চারপাশ থেকে বিষাক্ত বাঁকা জল এসে তাঁদের ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষগুলো ভেসে থাকার প্রাণপণ চেষ্টা করছে, কিন্তু সমাজ, সভ্যতা, ধর্ম, রাজনীতি সবকিছু মিলিয়ে এখনও তাঁদের ডুবিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। এই স্রোতে যদি নিজেরা সাঁতরে না বাঁচে তাহলে তলিয়ে যাবে সহজেই। কিছু পুরুষ হয়ত লাইফ জ্যাকেটটা ছুঁড়ে দিতে পারে, কিন্তু দিনশেষে নারীর মুক্তি তাঁদের নিজেদেরই হাতে। যেদিন মেয়েরা এই স্রোত ঠেলে তীরে গিয়ে উঠবে, পায়ের নীচে যে শক্ত মাটি পাবে, সেটা কিন্তু হবে স্বর্গভূমি।

-সীমান্ত রায়
(ব্যাঙ্গালোরে চাকরিরত অবস্থায় লেখা)

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 82
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    82
    Shares

লেখাটি ৪৮৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.