নারী দিবস ও আদরের ছোটবোনেরা

0

মুসকান ইউহানা:

১.মেজাজ বিগড়ে আছে ফয়েজ সাহেবের।
অনেক বিরক্তি নিয়ে গ্লাস থেকে এক ঢোক পানি খেলেন তিনি। সকাল বেলাই ছোট বোন এসে মেজাজ গরম করে দিছে। ইচ্ছা করছিল বোনটার মুখ চেপে মেরেই ফেলেন।
সেই ছোট মুখে কিনা এতো বড় বড় কথা!
এইদিন দেখতে হবে জানলে ছোটবেলায়ই কায়দা করে মেরে ফেলতেন ওকে।
মা বলতেন আত্মীয় লাগে বাঁচতে।
ভাই বোন পরম আত্মীয় হয়। এখন মা থাকলে বুঝতেন, কত বড় আত্মীয় সে পেটে ধরে ফয়েজ সাহেবকে দিয়ে গেছেন।

এদিকে ব্যানারওয়ালাকে ফোন করেও পাচ্ছে না ফয়েজ সাহেব।
আজ নারী দিবস।
নারী মুক্তির একটা ব্যানার লিখতে বলেছিল ফোনে। বিকেলে সমিতির সভা আছে।
নারী মুক্তির ব্যানারটা সময় মতো না পেলে নারী দিবসে মুখ থাকবে না ফয়েজ সাহেবের।
চিন্তিত দেখাচ্ছে তাকে।
ওহ্
ছোট বোনটা এসেছিল ফয়েজ সাহেবের বাবার সম্পত্তিতে ছোট বোনের যে ভাগ আছে সেটি চাইতে।

আরেকবার কইলে মুখ ভাঙমু তোর!
তোর বাপ তো তোরে পয়দা কইরাই মাটির তল হইছে!
এতোদিন খাইছস কী!
বিয়া দিছি কোন ট্যাকায়!
তাল নাই—!
যা এখন, বাপের সম্পদে তোর কিছু নাই, সব খাইয়া গেছোস!

মায়ের পেটের ভাইয়ের মুখে এগুলো শুনে চোখ মুছতে মুছতে চলে গেছে ছোট বোন।

বোনের আস্পর্ধা দেখে বিচলিত ফয়েজ সাহেব।
এদিকে নারী মুক্তির ব্যানারওয়ালাও এখনো ফোনটা ধরছে না।

২.আজ সকালে আবার ফোন করেছিল মালতী। প্রায় সাতবার বেজে বেজে ফোনটা শান্ত হয়েছে।
ইচ্ছে করেই ফোনটা ধরেনি হারাধন বাবু।
মালতীর স্তন ক্যান্সার ধরা পড়েছে।
অনেক টাকা লাগবে।
ছোট বোন মায়া লাগে।
মায়া করতে পয়সা লাগে না, কিন্তু দয়া করতে খরচ করতে হয়।
এখন সময় খারাপ যাচ্ছে।
ছেলেটা বায়না ধরেছে বিদেশে পড়তে যাবে।
মেয়েটাকে প্রাইভেট মেডিকেলে ভর্তি করতে প্রায় পনেরো লাখ গেলো।

ভাগ্যিস হারাধন বাবুর বাবা বাড়িটা রেখে গিয়েছিলেন। Developer কোম্পানির কল্যাণে হারাধন বাবুর বাবার বাড়িটায় এখন আকাশচুম্বী অট্টালিকা। হারাধন বাবুও এখন অনেকগুলো ফ্লাটের মালিক।

মালতীকে বিয়েতে যা দেবার কথা ছিল সবকিছুই বাবা ঠিকমতো দিয়েছিলেন।

এখন আর হারাধন বাবুর দায় নেই।

অফিসে আজ নারী দিবস নিয়ে একটা সভা হবে বস বলেছিল।
আগেই বলে দিয়েছে মিডিয়াকে খবর দেয়া হয়েছে, হারাধন বাবু যেন একটা জম্পেস বক্তৃতা লিখে আনেন।
নারী অধিকার নিয়ে এখন বক্তৃতা লিখতে বসেছেন বাবু।

আবার ফোন বাজছে।
বৌ ডেকে বলছে, মালতী ফোন করেছে।

এতো বিরক্ত করতে পারে মালতী!!
সময় অসময় জ্ঞান নেই ওর।

চিৎকার করে হারাধন বাবু বললেন,”ফোনটা এখন সুইচ অফ করে রাখো; নারী দিবসের ভাষণ লিখছি!”

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 205
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    205
    Shares

লেখাটি ৯২৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.