রঙ নেবে, নাকি সুবাস, হে বান্ধবী?

আনা নাসরিন:

রঙ নেবে নাকি সুবাস, হে নারী
তোমার চোখে তো এখনো স্বপ্ন ভারি,
মাথা খুঁটে রোজ মরছ তো বেশ দেখছি
তাই দেখে স্বাধীনতার ছবিটা আঁকছি।।

শিকল ভাঙ্গার অস্ত্র তোমার কই?
অস্ত্র গড়ার সময় কইগো সই?
মুখে মুলতানি চন্দন চুলে দই
সেমিনারে শুধু তোলপাড় হৈ চৈ
এবেলা ওবেলা রং মেখে দিন পাত,
এভাবে আনবে স্বপ্ন রাঙা প্রভাত!
এভাবে চলবে ভিখারীর আহাজারি?
দিবা স্বপ্ন দেখছ তো বেশ ভারি,
সুবাস ছেড়ে রঙ নিলে হে আনাড়ি!

ভাগ সুগন্ধময় ফুলগুলোই হয় সাদা। আর রঙিন ফুলগুলো হয় গন্ধবিহীন (গোলাপ এর মতো দুই একটা ফুল যদিও এই নিয়মের ব্যতিক্রম)। মানুষও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফুলের মতোই। হয়তো বা সুবাস ছড়ায়, নয়তো রঙ। গোলাপের মতো সুবাস আর রঙ একই সাথে একই মানুষের মধ্যে সচরাচর দেখা যায় না। রঙ কেবল নজর কাড়ে, আর সুবাস কাড়ে হৃদয়। চোখের পুলক কখনো দীর্ঘস্থায়ী নয়, তাই গুণে সমৃদ্ধ হওয়াটাই বুদ্ধিদীপ্ত কর্ম।

নারী রূপ সাধনায় মগ্ন থাকলে স্বাভাবিকভাবেই গুণের সাধনা ব্যাহত হয়। ফোকাস নষ্ট হয়, সময়েরও অভাব হয়। তবুও বেশির ভাগ মানুষ বাহ্যিক সৌন্দর্যের চর্চায় সময় ব্যয় করে, কেননা তাতে স্বল্প সময়ে নজর কাড়া যায়। কিন্তু মনে রাখা দরকার শর্টকাট সব কিছু ক্ষণস্থায়ী হয়। বাহ্যিক সৌন্দর্য কোনও চিরস্থায়ী বিষয় নয়।

প্রত্যেকটি মানুষের মধ্যে রয়েছে অপার সম্ভাবনা। নিজের মেধা, মনন, প্রতিভা ও যোগ্যতাকে শাণিত করে নারীও হতে পার সমাজের কাছে, দেশের কাছে বিশ্বের কাছে অতি গুরুত্বপূর্ণ কেউ। অনেক পরিবর্তন আসতে পারে নারীরই হাত ধরে। একদিন নারীই হয়ে উঠতে পারে লাখ, কোটি মানুষের আইডল, আইকন। অথচ সামান্য চোখের অবরণকে নন্দিত করতে এমন সম্ভাবনা জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছে আজও সিংহভাগ নারী।

ওদিকে স্বাধীনতা স্বাধীনতা করে করে গলা ফাটাচ্ছে এই নারীরাই। সেই স্বাধীনতাটা আসবে কোত্থেকে? স্বাধীনতা কি নারীদের রূপের মাধুরীতে গলে পড়বে? স্বাধীনতা কোনো কালে, কোনো সমাজে, কোনো জাতি কোনোদিনও আপনাআপনি পেয়ে যায়নি। স্বাধীনতা চিরকাল অর্জনযোগ্য বিষয়। সে জন্য দরকার ক্ষমতা পাওয়া। আর ক্ষমতা এনে দেবে যে জিনিসটা, তা হলো নারীর নিজের যোগ্যতা, দক্ষতা।

নিজেকে যোগ্য, দক্ষ করে তুলতে হলে সেদিকে সময় দিতেই হবে। যদি কেউ পায়ের নখ থেকে নিয়ে মাথার চুল পর্যন্ত চকচকে ঝকঝকে রাখতে চায় সে মানুষটার তো নিশ্চয়ই আর মেধায় শান দেবার এতটা সময় হতে পারে না যা তার অনন্ত কালের বন্দিত্বের শিকলকে ভেঙে দেবে। ওই শিকল কিন্তু শুধুমাত্র গলা ফাটিয়ে ভেঙে ফেলা যাবে না, সেটা ভাঙার জন্য ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে হবে। আর সেই অস্ত্র তৈরিতে একনিষ্ঠ সময় ও দিতে হবে। তা না হলে চিরকাল টবের চোখ জুড়ানো রঙিন ফুল হয়ে থাকতে হবে, ড্রইং রুমের ফুল দানিতেই শোভা পাবে, অন্য সব শো-পিসের মতো।

শেয়ার করুন:
  • 283
  •  
  •  
  •  
  •  
    283
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.