বইমেলা পাঠক শুধু নয়, লেখক সৃষ্টিরও!

0

শেখ তাসলিমা মুন:

বইমেলা। দূর দেশ থেকে বইমেলার গন্ধ মেলে মূলত ফেসবুকে। আজকাল অনেক মানুষ সামাজিক মাধ্যমের কারণে বই প্রকাশেও উৎসাহ অনুভব করে। একটি আস্ত বই হাতে নিয়ে ছাপার অক্ষরে নিজের নামের দিকে তাকিয়ে থাকে। চোখে মুখে আনন্দ ঠিকরে বেরোয়। দেখে ভালো লাগে।

সোশ্যাল মিডিয়া মানুষের মনে বিষণ্ণতা দূর করেছে। একাকিত্ব কমিয়েছে। বিকেলের আলো কমে গেলে লোডশেডিং এর ঘুপচিতে জীবন আটকা পড়ে গিয়েছিল যার, তাকে সে সময় এখন বইমেলার একটি স্টলে বসে থাকতে দেখে একটা তিরতিরে আনন্দ বয়ে যায় শরীরে। হকারস মার্কেট, বসুন্ধরা ঘুরে ঘুরে পা ব্যথা হতো, এখন বইমেলার ক্ষণস্থায়ী স্টলগুলোতে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকার এ আনন্দ প্রকাশের ভাষা নেই। মানুষ কাছাকাছি এসেছে এখন অনেক বেশি। সোশ্যাল মিডিয়াকে ধন্যবাদ না জানিয়ে উপায় নেই।

একটি কড়কড়া জামদানি শাড়ি পরে এক দঙ্গল ভাঁজ না খোলা বই বগলদাবা করে রিক্সায় উঠেছি। হুড খোলা চলছি। কুমারী সন্ধ্যায় বসন্তের একটি ঝাপটা চোখে মুখে এসে লাগছে। কোথায় যেন চেয়ে থাকে এমন একটি সন্ধ্যা। একটি বিষাদের সুর বেজে যায় মনে। আমার বইমেলা।

আজ এদেশে মাইনাস ১২ তে তুষারকুচিতে রোদ আর হাওয়ার ঘূর্ণি বলয়ে গাড়ি চালাতে চালাতে বইমেলা নিয়ে ভাবছিলাম। দূরে কোথাও বসন্তের বাতাস চড়া হয়ে উঠেছে। হাজারও সমস্যা জর্জর মনে একটু আনন্দ ছুঁয়ে গেছে। হারানো আর পাওয়ার এ মেলায় তবু মানুষ ছুটে আসছে। কী আকর্ষণ! বই ও বন্ধু মিলে যায় এক জায়গায়।

প্রাণটা অবশ্যই আকুল হয়। এ আকুলতার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। সবটাই প্রাণের। পড়তে জানলে বইয়ের অভাব নেই। পৃথিবীর এতো ভাষায় এতো বই বের হচ্ছে প্রতিদিন, তার একটি ক্ষুদ্রাংশও পড়ে যেতে পারবো না ভাবি আর মন খারাপ করি। পড়ার যে আনন্দ, সে আনন্দ পৃথিবীর যেকোনো দেশে থেকেই সম্ভব। যে কোনো ভাষাভাষীর লেখকের বই-ই আনন্দধারা। যে দেশেরই লেখক হোক না কেন, কখনও লেখাগুলো লুকিয়ে থাকে না। তাঁরা আলো নিয়ে বেরিয়ে পড়েন।

তবু ফেব্রুয়ারির এ মেলা অন্য কোনকিছুর সাথে মেলাতে পারি না। সোশ্যাল মিডিয়া এটিকে একটি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। সুখী মানুষগুলো দেখতে খুব ভালো লাগে। অনেকে বলে, কোয়ালিটি বই আসে না। আবর্জনার স্তুপ বেশি। আমি তাদের সাথে একমত নই।

মানুষের লেখার স্পৃহা একটি বড় বিষয়। মানুষ লিখুক। লিখে সে আনন্দ পাক। আনন্দ নিক। ‘লেখক’ হবার বিষয়টি কেবল একটি ‘শ্রেণী এলিটদের’ ভেতর থাকবে কেন? অনেকে বলে, বানান জানে না, বাক্য জানে না, ব্যাকরণ জানে না সে আবার বই লেখে! আমি তাদের সাথেও একমত নই। কোনও কারণে একজন পিছিয়ে থাকা মানুষের ভেতরও পরিপক্ক চিন্তা থাকতে পারে। সে যদি তার একটি চিন্তাও মাত্র একজন মানুষকেও কম্যুনিকেট করতে পারে, আমার মতে সে লেখক।

মানুষ লিখুক। মানুষ তার মনের ভাবনাগুলোকে প্রকাশ করুক, তার আনন্দ, তার বেদনা, মানুষের ভেতর ফিরে আসুক সহজতা। সাহিত্যের মান কমে যাবে সেটা নয়। পাঠক ও সাহিত্যসেবীরা পাশাপাশি চলবে। মান সম্পন্ন সাহিত্য থাকবে।

থাকুক মানুষের মনের সহজ প্রকাশও।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 24
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    24
    Shares

লেখাটি ৬৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.