বাড়ছে বিদ্বেষ, বাড়ছে লাশের স্তুপ

0

নাঈমাহ তানজিম:

আজকে সিরিয়াতে যে বাচ্চাটা চোখের সামনে নিজের বাবা-মাকে হারালো, বাস্তুহারা হলো, সে কিন্তু হলি আর্টিজান এর কান্না শোনেনি, শোনেনি টুইন টাওয়ার আর্তনাদ। তাহলে সে যদি প্রতিশোধস্পৃহা ও ঘৃণা নিয়ে বড় হয়, সমগ্র বিশ্বের মুসলিম সমাজের অনৈক্য ও অনাগ্রহকে তার সবকিছু হারানোর জন্য দায়ী করে, তাহলে সে আসলে কতোটুকু ভুল? সে তো মধ্যপ্রাচ্যর তেলের রাজনীতি বা পশ্চিমা বিশ্বের অস্ত্রের রাজনীতি কোনটাই বুঝে না, তার কাছে সবকিছুর মূলে সাদা চামড়ার বিধর্মীরা।

যে বাচ্চাটা চোখের সামনে দেড়শ বাচ্চার সারিবদ্ধ লাশ দেখেছে, তার যদি হলি আর্টিজান এর গর্ভবতী মেয়েটির গলা কাটতে একটুও হাত না কাঁপে? নাকি বিভিন্ন দেশে আইএস এর শাখা খুলে শরীয়াহ আইন চালু করার ভাষণ দিতে দিতে গলা কাঁপবে?

এই বাচ্চার বোঝার ক্ষমতা নেই যে, লীগ অব নেশনস পারেনি ৫০ লক্ষ ইহুদীকে বাঁচাতে, এখন জাতিসংঘও ব্যর্থ, যেমন ব্যর্থ ওআইসি, তাহলে এই যুদ্ধের বাজারে বড়লোক থেকে আরও বড়লোক হওয়া পশ্চিমা মোড়লরা কোন দুঃখে যুদ্ধ ঠেকাবে? আর পশ্চিমাদের কাছে তেল বেচে খাওয়া আরব মোড়লরাই বা কেন ক্রেতাকে নারাজ করবে?

মাঝখান দিয়ে বাংলাদেশ এর মতন একটা চুনোপুঁটি দেশের প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ছাত্ররা সিরিয়ার মুসলিম মারা বন্ধ করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে, ফলাফল আরও ঘৃণা, আরও ধর্ম দিয়ে মানুষ এর পরিচয় ঢাকা, আরও বিভিন্ন ধর্মের ঈশ্বরদের রেষারেষি। আনসারুল্লাহ বাংলা, হিজবুত তাহরির মতন আরও কিছু ব্রেইনওয়াশিং জঙ্গি বানানোর কারখানা। আরও কিছু হলি আর্টিসান, শোলাকিয়া, বার্সেলোনা, অরলান্ডোর জন্য হ্যাশট্যাগ, আরও কিছু আতংকভরা শহর।

এই আতংক থেকে আরও মুসলিমভীতি, হিজাব নিষিদ্ধকরণ, এবং এই ভীতিকে বিনিয়োগ করে, সন্ত্রাস দমনের নাটক করে, আইএস নামক ধর্মীয় জঙ্গি প্রতিষ্ঠান নির্মূল করার নামে আবার সিরিয়া, ফিলিস্তিনে বোম্বিং, আরও কিছু লাশের সংখ্যা যোগ হওয়া।

এই চক্র চলছেই, একই সাথে বাড়ছে লাশের স্তুপ, সেটা সবসময় কোনও একটা নিরীহ মানুষ এর। বিশ্ব রাজনীতির এবং ধর্মান্ধতার ব্যবসার খেসারত সবসময় নিরীহ মানুষকেই দিতে হয়।

আজকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি, তিন বছর আগে আজকের দিনে অভিজিৎ রায়কে বইমেলার প্রাঙ্গণে খুন করা হয়েছিলো। অভিজিৎ এর রক্ত দেখে সিরিয়ার নিহত শিশুরা কী শান্তি পেয়েছে জানি না, তবে ফেরত একজনও আসেনি। এবং আগামীকাল নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা রাস্তায় নামলেও মনে হয় না আসবে, অথবা রক্তপাত বন্ধ হবে!

চোখের বদলে চোখ নিতে নিতে গোটা ক্যালেন্ডারটাই রক্তমাখা হয়ে গেলো।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 222
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    222
    Shares

লেখাটি ৭০৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.