অভিজিৎ রায় স্মরণে পুরস্কার ঘোষণা

0

সাদিয়া রহমান:

আজ ২৬শে ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের ইতিহাসে আরও একটি কালো দিন। এদিন আবারও মুখ থুবড়ে পড়েছিল মানবিক চিন্তা ও যুক্তিবাদের প্রসার। কালো থাবা বসিয়েছিল উগ্র মৌলবাদ।

বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার পথ প্রদর্শক অভিজিৎ রায় স্মরণে সম্মাননা পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকান সংস্থা, “দ্য ফ্রিডম ফ্রম রিলিজিয়ন ফাউন্ডেশন”। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত আমেরিকান লেখক, নাস্তিক্যবাদে বিশ্বাসী অভিজিৎ রায়ের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকীকে সামনে রেখে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সংস্থাটি এরকম একটি সম্মাননা ঘোষণা করতে পেরে নিজেদের গর্বিত বোধ করছে বলেও জানানো হয়েছে এক বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সমগ্র বাংলায়, মূলত দক্ষিণ এশিয়াতে অভিজিৎ রায় তাঁর “মুক্তমনা” ব্লগের মাধ্যমে এক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। অসম্ভব প্রতিকূল পরিবেশে যেই জায়গাটি ছিলো অসংখ্য মুক্তচিন্তক মানুষের আশ্রয়। বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি থাকা সত্ত্বেও লেখালেখির প্রতি, বিশেষত যা মানুষকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে সাহায্য করবে সেই ধরনের লেখার প্রতি ছিলো তার আগ্রহ। মুক্তচিন্তা, বিশেষ করে নাস্তিক্যবাদ, বিবর্তনবাদ, সমকামিতা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নিয়ে বিশ্লেষণমূলক লেখালেখি করতেন। এসব বিষয়ে মোট সাতটি বই তাঁর প্রকাশিত হয়েছিল, যা অতি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায় পাঠকমহলে এবং বিশেষ সাড়া ফেলে।

সেইজন্যই মৌলবাদীদের রোষানলে পড়েন এই অসম্ভব প্রগতিশীল মানুষটি। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হোন এই বিজ্ঞানী এবং লেখক। ঘটনার শিকার এবং সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছেন উনার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা।

এফএফআরএফ জানিয়েছে, এই সম্মাননা পুরস্কারের ব্যাপারে বন্যার সাথেও কাজ করবে সংস্থাটি। যতোদূর জানা গেছে, সংস্থাটি সেই ব্যক্তিকেই সম্মাননা দিবে, যিনি আগ্রাসী মৌলবাদী চিন্তার প্রভাব থেকে মানুষকে মুক্তির আলোয় আনতে যুক্তির বিস্তারে কাজ করছেন, সবরকম বৈষম্য বিলোপ করে মানবিক আইনের ওপর ভিত্তি করে সমাজ গঠনে অনন্য ভূমিকা রাখছেন। এছাড়াও যারা ক্রিয়েটিভ এবং জীবনবাজি রেখে নিজের লেখালেখি বা অন্য যেকোনো মাধ্যমে বিজ্ঞানের উন্নয়নে, যুক্তি এবং মানবিক ধারণা সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে কাজ করছেন সব ধরনের প্রতিকূলতা এবং হুমকি সত্ত্বেও, তাদেরকেও স্বীকৃতি জানাতে চায় এই সংস্থাটি।

অভিজিৎ রায়ের চিন্তা, স্বপ্ন কোনোটারই মৃত্যু নেই। একে সম্মানিত করতে পারা এবং সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে পারার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারাটাই গৌরবের বলে মনে করছেন সংস্থাটির প্রধান মিজ অ্যানি লরি গেইলর।

বন্যা আহমেদ যিনি গত তিন বছর ধরে বিভীষিকাময় স্মৃতি বুকে করে একাই অভিজিতের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন, এবং বাংলাদেশের অনেক মুক্তমনার পাশে দাঁড়িয়েছেন, এই সংস্থাটি সেই দৃঢ়তাকেও সম্মান জানালো তাদের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 56
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    56
    Shares

লেখাটি ২২৯ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.