এতো বিভক্তি নিয়ে মূল অর্জনটা কী আমাদের?

0

প্রমা ইসরাত:

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৮, আর গুণে গুণে কটা দিন।

নানান ভাবনারা ভীড় জমাচ্ছে চোখে এক কোণে। ভাবছি, একুশে ফেব্রুয়ারিতে ধাক্কাধাক্কি করে যে মানুষগুলো ফুল দিতে গেলো, সকালে এসে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে বেলা ১১ টায় বেদী পর্যন্ত যেতে পারলো, কালো সাদা পোশাক কিনলো, ভালো দামের একটা পুষ্পস্তবক কিনলো, এবং “যা কিছু মহান বরণ করে নিবো বিনম্র শ্রদ্ধায়” এইরকম একটা ভাব নিয়ে শহীদ মিনার থেকে বইমেলা গেলো, তাদের ভেতরেও কতো বিভক্তি। নানান রকম সিলেবাস নিয়ে তারা চলছে, ঘুরছে, ফিরছে।

তাদের যদি জিজ্ঞেস করা হয়, এই ফেব্রুয়ারি মাসেই, বই মেলা থেকে ফেরার পথেই অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হলো, নৃশংস হামলা করা হলো ডঃ হুমায়ুন আজাদের ওপর, সেই সব হত্যার কোন ন্যায় বিচার পাওয়া গেছে কিনা, অভিজিৎ রায়ের পাশাপাশি সিরিজ কিলিং এ প্রাণ দিল ব্লগার, লেখক, প্রকাশক এবং নানান মুক্তচিন্তার মানুষেরা তাদের নিয়ে আপনার ভাবনা কী? তখন তারা ভ্রু কুঁচকে তাকাবে, বিরক্ত হবে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলবে, দেশে পদ্মা সেতু হইতেছে এইটা নিয়া খুশি থাকেন, দেশ ডিজিটাল হইতেছে এইসব নিয়ে কথা বলেন ।

ডিজিটাল বাংলাদেশ? এই ডিজিটাল বাংলাদেশে একের পর এক অনলাইন এক্টিভিস্ট দের আইডি শক্ত পোক্ত জায়গা থেকে রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে, কারণ তারা পাহাড়ে সেনা দুঃশাসন নিয়ে কথা বলে, আদিবাসীদের অধিকার, তাদের মাতৃভাষা নিয়ে কথা বলে, সরকারের নানান কর্মকান্ডের সমালোচনা করে; যদি জিজ্ঞেস করা হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলার সেই উপচে পড়া ভীড় কে, যে বলেন তো এই নিয়ে আপনাদের বক্তব্য কী? তারা বিরক্ত হবে, রেগে যাবে মাথায় ফুলের মুকুট কেনার টাকাটা তাদের উসুল হবে না, আইসক্রিম আর ফুচকা খাওয়ার টাকাটা তাদের জলে যাবে, তাদের মনে হবে, বইমেলার ইট বিছানো বেরসিক রাস্তায় হাঁটতে গিয়ে পায়ে ব্যাথা পাওয়াটা তাদের বৃথা গেলো।

মাঝে মাঝে মনে হয়, এই অমর একুশে বই মেলায় এতো এতো বই বের হয়, এই বই পড়ে কী হবে? বিনোদন? যারা বই পড়তে বলে তারা বলে যে বই পড়লে জ্ঞান বৃদ্ধি পায়, মানুষ হিসেবে নিজেকে উন্নত করা যায়। তাই? মানুষের উন্নত হওয়ার চাবিকাঠি কি শুধু বই পড়া? নাকি আত্মোপলব্ধি?

একুশের চেতনা নিয়ে অসংখ্য বাক্য গড়ে নিয়ে ঘন্টা ধরে ভাষণ দিয়ে ফেলেন অনেকে, শুদ্ধ বাংলা লেখার ব্যাপারে সচেতন সমাজ মুরাদ টাকলা হওয়া নিয়ে নানান ট্রল বানায়, মাতৃভাষা, মাতৃদুগ্ধ নিয়ে সেমিনারের আয়োজন হয়। সব ঠিক আছে। কিন্তু আমি মনে করি এসব আদতে ওই ভণ্ড বাদামের মতো, যার সুন্দর হৃষ্টপুষ্ট শরীর ফাটিয়ে দেখা যায় চিমশে যাওয়া দুটো বীজ। এইসবে ফায়দা নেই ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ না করতে জানবে।

কেবল কোনো দিবস পালনই আমাদের মানুষ হিসেবে উন্নত করে না। মানুষ হিসেবে আমাদের যদি উন্নত করে তবে তা আমাদের দ্বিধাহীন চিত্তে অন্যায়ের প্রতিবাদ।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ভাষাই একমাত্র সুন্দর
ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর ভাষাই সত্য।
মানুষের মুক্তির লক্ষ্যের সংগ্রামের ভাষাই শাশ্বত।

…#চিত্ত_যেথা_ভয়_শূন্য_উচ্চ_যেথা_শির_জ্ঞান_যেথা_মুক্ত_যেথা_গৃহের_প্রাচীর…

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 58
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    58
    Shares

লেখাটি ২০৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.