প্রতিপক্ষদের বলছি, চ্যালেঞ্জটা আমি নিলাম

0

সুপ্রীতি ধর:

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবার আমাকে ডিজঅ্যাবল করেছে। আমার আইডিতে উপুর্যপরি রিপোর্টের কারণে কর্তৃপক্ষ তাদের নিয়ম অনুযায়ী তৃতীয় পক্ষের কোনরকম মতামত যাচাই করা ছাড়াই আমার এতোদিনের পুরনো আইডিটা সহজ বাংলায় বললে ‘খেয়ে দিয়েছে’। কারণ হিসেবে বলেছে, আমার অ্যাক্টিভিটি ফেসবুকের ‘যোগ্য’ নয়। আমার হয়তো কান্না করাই উচিত ছিল একথা শুনে, কিন্তু হাসিও পায়নি। প্রচণ্ড বিরক্ত আমি।

এর আগে গত প্রায় দুই মাসে তিন দফা ব্যান এর শিকার হয়েছি আমি। প্রথম দফায় ২৪ ঘন্টা, পরে সেটা বাড়িয়ে ৩৬ ঘন্টা করা হয়েছিল, দ্বিতীয়বার তিন দিন এবং তৃতীয়বার সাতদিন কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছিলাম। জানতাম এটা ছিল সতর্কবার্তা মাত্র। মানে আমি কীসব ছাইপাশ লিখি, তাতে কারও কারও আঁতে ঘা লাগছে বলেই তারা রিপোর্ট করছে দলবদ্ধভাবে। পাল্টা রিপোর্ট করার কোনো অপশান নেই, আবার আমাদের দলও নেই যে দলেবলে এর প্রতিবাদ জানাবো। যুগে যুগে খারাপ, অপরাধী, দুর্নীতিবাজদেরই গ্রুপিং করা বা দলবদ্ধভাবে তাদেরই থাকতে দেখা গেছে।

কিন্তু প্রায় একমাস হয়ে যাচ্ছিল আমার বা আমার আইডির বিরুদ্ধে নতুন কোনো অ্যাকশান নেয়া হচ্ছিল না। একটু অবাক হচ্ছিলাম এই কারণে যে একই সময় আমার কিছু বন্ধুর আইডিও ব্যান ছিল। তারা সর্বোচ্চ একমাস কারাদণ্ড ভোগ করছিল। এক সিনিয়র দিদি তো ফিরতেই পারছেন না। তবে আমিও তেমন কিছু লিখছিলামও না এই দিনগুলোতে। এর মাঝেই কয়েকটি ঘটনা ঘটে গেল যে নিজেই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলাম না। তাহলে কী কী লিখেছিলাম আমি? বা উইমেন চ্যাপ্টারে কী ধরনের লেখা ছাপা হয়েছে গত কয়েকদিনে? একটু ফিরে তাকাই।

রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়নের ওরাছড়ি গ্রামে দুই মারমা কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কয়েকটি লেখা ছাপা হয় উইমেন চ্যাপ্টারে। সম্প্রতি চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েনের ওপর হামলার ঘটনা নিয়েও তাদের পক্ষ থেকে দেয়া যৌথ বিবৃতি ছাপে পোর্টালটি। তখন থেকেই পোর্টালটিতে বেশ কয়েক দফা সাইবার অ্যাটাকের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আক্রমণকারীরা সুবিধা করে উঠতে পারেনি।

পরবর্তীতে এই ঘটনায় আমি সুপ্রীতি ধর, পোর্টালটির সম্পাদক, নিজের টাইমলাইনে এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে একটি স্ট্যাটাস লিখি। যেখানে আমি আওয়ামী লীগ করা, বা সমর্থকদের চুপ থাকার বিষয়টি নিয়ে কটাক্ষ করি। আসলে ঠিক কটাক্ষও না, নিজেদের ব্যর্থতার গ্লানিকে ঢাকতেই আমার ওই লেখা। এতে কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবেই গোস্বা হয়ে থাকতে পারেন। এইদেশে সরকারের সমালোচনা মানেই তো হয় জামাত, না হয় বিএনপির সিলমারা হওয়া। এ গেল দ্বিতীয় সম্ভাব্য কারণ।

আর তৃতীয় কারণটি হচ্ছে সিনিয়র সাংবাদিকদ্বয় আনিস আলমগীর এবং অঞ্জন রায়ের একটি সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জের ধরে মিলমিশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় আমার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। কারণ সম্প্রতি হিন্দুদের দেবী স্বরস্বতীকে নিয়ে কটাক্ষ করেই ক্ষান্ত হয়নি আনিস আলমগীর, তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ করায় সে আরও কড়া ভাষায় সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা হয় এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এদিকে স্বরস্বতী দেবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে অঞ্জন রায় তখন এর পাল্টা জবাব দিলেও সেদিন তাদের মীমাংসা হয়ে যায় বলে তারা ঘোষণা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমি লিখেছিলাম, অঞ্জন রায় আনিস আলমগীরকে ক্ষমা করে দেয়ার কে? সে কী হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করছে?

মোটামুটি এই হলো তিনটি সম্ভাব্য কারণ আমাকে ফেসবুক থেকে বিতাড়নের পিছনে। আর এর মানে কিন্তু স্পষ্ট যে, কারা এই রিপোর্টের কাজটি করছে? কোন মহল করছে?

আনিস আলমগীর অতীতেও বেশ কয়েকবার আমাকে ব্যক্তিগতভাবে সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জেরে ভণ্ড, প্রতারক বলে মন্তব্য করেছে। শুধু তাই নয়, অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা ২০১৫ শীর্ষক পুরস্কার প্রাপ্তির দিনেও সে কটাক্ষ করে লিখেছিল, আমি নাকি টাকা দিয়ে এ পুরস্কার কিনেছি, আজকাল নাকি টাকা দিলেই এই পুরস্কার কেনা সম্ভব! তখন সে এ নিয়ে একটা নাতিদীর্ঘ লেখাও প্রসব করেছিল। যেখানে অনলাইন গালিবাজ গোষ্ঠী সিপি গ্যাং এর প্রাক্তন সদস্যরা এসে আনিসের পক্ষ নিয়ে আমাকে হেন অপমানজনক কথা নেই, যা তারা বলেনি।

আজ সারাদিনে আমার দুদুটি আইডি হারিয়েছি আমি এসব নষ্টদের রোষানলে পড়ে। এরা কথার উত্তরে পাল্টা কথা বলে না, যুক্তির বদলে যুক্তি দেখাতে পারে না, শক্তি দেখাতে গিয়ে নিজেদের আসুরিক শক্তিরই প্রমাণ দিয়ে যায় বার বার। খুবই কষ্ট পেয়েছি আজ আমি। বিষয়টা এখন আর ব্যান ব্যান খেলাতেই সীমিত রইলো না। আমাকে ফেসবুক বা অনলাইন থেকে অফ করে দেয়ার অনেকগুলো মানে করা যায়।
তবে একটি কথাই বলবো যে, আমি আন্দোলনে আছি, মাঠে নেমে এতো সহজে রণে ভঙ্গ দেয়ার পাত্রী আমি নই। তাতে নিজের জীবন বিপন্ন হলে হবে। আমি আমার আদর্শ কারও কাছে বন্ধক রাখি না, কোনো মূল্যেই না। আর এ কারণেই আমাকে অনেকে ভয় পায়। ‘সদা সত্য কথা বলিবো, সত্য বই মিথ্যা বলিবো না’- ছোটবেলায় আহরণ করা এই জ্ঞান আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে, এর ব্যত্যয় আগেও ঘটেনি, আশা করি ভবিষ্যতেও ঘটবে না।

যারা আজ আমার আইডি ধ্বংস করে দিয়েছো, জেনে রেখো, আমি তোমাদের এই চ্যালেঞ্জটা নিলাম। মরে যাবো, তবুও মাঠ থেকে পালাবো না।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 420
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    420
    Shares

লেখাটি ১,৬৩১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.