প্রাংক ভিডিও’র নামে এসব কী চলছে?

জিনাত হাসিবা স্বর্ণা:

দুইদিন আগে যে দম্পতির সন্তান জন্ম নিয়েছে তাদেরকে হসপিটালের নামে ফোন করে বাচ্চা বদল হয়ে গেছে বলার নাম ‘প্র্যাংক’? যে বাবা-মা এই কথা শুনে দিশেহারা হয়ে চিৎকার করছেন তাদের কথা শুনে মজা নেওয়ার নাম ‘প্র্যাংক’? মাত্র দুইদিন আগে সন্তান জন্ম দেওয়ার পুরো নয়মাস পার করেছেন যে মা, সন্তানকে বুকে আগলে রাখা সেই মা কে এমন একটা সংবাদ দিয়ে কান্নায় ভাসানোর নাম ‘প্র্যাংক’? এরকম নির্মম একটা পরিস্থিতির জন্ম দিয়ে মজা নেওয়ার নাম ‘প্র্যাংক’?

Prank শব্দটার মানে খুঁজলে পাওয়া যায় ‘to play a practical joke or trick on someone’। joke আর harassment শব্দ দুটোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না যারা, তারা এমন পেশায় কেমন করে আসে যেখানে সাধারন মানুষকে ব্যবহার করা হচ্ছে যত্রতত্র? সোশ্যাল মিডিয়ার অবদান ইদানিংকার লাইভ রেডিও। সেগুলোর একটা, যেটা কিনা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে বলে মাঝে সাঝেই ফেইসবুকের নিউজফিড এ এসে পড়ে- তারই একটা প্রোগ্রাম দেখে তিরিক্ষি হলো মেজাজ।

RJ ফোন দিয়েছেন এক দম্পতিকে, যারা দুদিন আগেই এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। এই RJ তাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন এই বলে যে গত দু’দিন ধরে যে সন্তানটি তাদের কাছে আছে সেটি তাদের নয়, হাসপাতাল থেকে ভুলে অন্য দম্পতির সন্তানের সাথে অদলবদল হয়ে গেছে সন্তান। বাবাটি রাগে ফেটে পড়ছেন হাস্পাতালের বিরুদ্ধে, মা’টি কেঁদে ভাসাচ্ছেন আমি আমার বাচ্চাকে দিবোনা বলে- আর এদিকে RJ আপা হাসি কন্ট্রোল করতে করতে একই কথা বার বার বলে যাচ্ছেন। মাঝে আবার উনি সেই মাকে এও বললেন যে, ‘আপনার সাথে কথা বলে লাভ নাই, আপনার হাজবেন্ডকে দেন’।

মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনে হয়রানিমূলক যে কথাগুলো শুনতে হয় হরে দরে, এটা তার মধ্যে অন্যতম। এই কথাটি RJ এমন একজন মা-কে বলছেন যার সদ্য হওয়া মায়ের সন্তানটি ‘তার নয়’ বলে প্রমাণ করার চেষ্টায় নেমেছেন তিনি (সম্মানসূচক সর্বনামটি ব্যবহার করা সমীচীন হলোনা অবশ্য এই এর ক্ষেত্রে)।

কৌতুক করার আরেকটি বাংলা নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে কাউকে পচানো। আর এই পচানোর সময় কারো নাজুক যে কোনো অনুভূতি আর সময়কেই টার্গেট করা হয়ে থাকে। র্যা গিং থেকে শুরু করে নিত্য নৈমিত্তিক বন্ধুমহল/সহকর্মীদের আড্ডা- কোনোটাই বাদ যায়না মানুষকে আক্রমণ করার ক্ষেত্রে। যারা করছে তাদের কাছে এটা নেহায়েত ঠাট্টা মশকরা।

যাকে আক্রমণ করার হচ্ছে তার অবস্থান আর অনুভূতির কাছে যে এটা মোটেও ঠাট্টা মশকরা নয়, এই বোধটা তৈরি করে কি কি করা লাগবে? কতোজন মরেই যাচ্ছে হতাশায়, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে কতজন অকারণ লজ্জা আর অপমান বইতে গিয়ে। কতো নাটক-সিনেমা হল মানুষের ভেতর বোধ তৈরি করতে। পৃথিবীতে হাসবার কারণের এতো অভাব পড়ে গেল কবে যে কাউকে হয়রানি করেই আনন্দ পেতে হবে?

শেয়ার করুন:
  • 115
  •  
  •  
  •  
  •  
    115
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.