“নির্যাতন বা ধর্ষণ করে আন্দোলন থামানো যাবে না”

0

উইমেন চ্যাপ্টার: 

চাকমা সার্কেলের রানী য়েন য়েন এর ওপর সম্প্রতি হামলা চালানো হয়েছে। তিনি কোনক্রমে প্রাণ নিয়ে বেঁচে ফিরেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সেনা সদস্যদের দুই মারমা কিশোরীকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি একজন সোচ্চার কণ্ঠ। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে এই আন্দোলন থেকে সরিয়ে দিতেই এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

নিচে তাঁর একটি বক্তব্যের লিংক দেয়া হলো, যেখানে তিনি খুব স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বক্তব্য রেখেছেন। একতাবদ্ধ হবার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। বলেছেন, তাঁদের সংগ্রাম চলবে। মারধর করে, মেরে ফেলে, মেয়েদেরকে রেপ করে সংগ্রাম থামানো যাবে না।

রানী য়েন য়েন: 

“আমরা কী করেছিলাম সেদিন? আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দুই আদিবাসী বোনের ওপর যে নির্যাতন করা হয়েছে তার প্রতিবাদ করেছি। যে নির্যাতন হয়েছে তার বিচার চেয়েছি। আমরা কোনরকমের কোন আইন লঙ্ঘন না করে, আইন মেনে তার প্রতিকার চেয়েছি।

আমাদের পাশে কেউ ছিল না। বরং আমাদের বিপক্ষে, আমাদের বিরুদ্ধে সবাই ছিল।

আমাদের সাথে কারা ছিল? আমরা কারা ছিলাম? আমরা যারা প্রতিবাদ করতে চেয়েছি, আমরা যারা প্রতিবাদী, আমরা যারা এই অন্যায় সহ্য করতে পারি না, পারছিলাম না, আমরা ছিলাম, প্রতিবাদী মানুষ।

আর তাদের ছিল সবকিছু। সবকিছু তাদের মুঠোয়। কিন্তু যখন তারা দেখল যে তারা আমাদের সাথে, আমাদের মনোবলের সাথে পেরে উঠছে না, আমাদেরকে ভাঙতে পারছে না, আমাদের সাথে বুদ্ধিতে-কৌশলে পারছে না, তখন তারা অন্যায়ভাবে এই কাজটি করেছে।

তারা যখন এই কাজটি করেছে, তারা যখন আমাদেরকে মারছিল, ওই দুইবোনের চোখের সামনে মারছিল, কেন সেটি আমরা ধারণা করতে পারি। সেই দুইবোনকে বুঝিয়ে দেয়া যে যাদের কাছে, যাদের প্রতি তাদের এতো আস্থা, তারা কিছুই না, তাদেরকে চাইলে তারা মারতে পারে, তাদেরকে চাইলে তারা মাটিতে ফেলতে পারে, আঘাত করতে পারে, টেনেহিঁচড়ে বাইরে ফেলে দিতে পারে। প্রয়োজনে মেরে ফেলতে পারে। এই কথাটি ওই দুইবোনকে এবং তার পরিবারকে বোঝানোটাই উদ্দেশ্য ছিল।

কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছিলাম, আমি আর আমার সাথে যে একজন ভলান্টিয়ার ছিল, আমরা চেষ্টা করেছিলাম তাদের পাশে শেষপর্যন্ত থাকতে। পারিনি সেটি আমাদের ব্যর্থতা।

কিন্তু, হ্যাঁ, আমরা এই লড়াইয়ে থামবো না, আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। আমরা যেভাবেই হোক এর বিচার আমরা চাইব, আমরা যেভাবেই হোক এর বিচার আমরা আদায় করবো। ন্যায় প্রতিষ্ঠা আমাদের করতেই হবে ৷ ”

Rani Yan Yan is giving speech in the SOLIDARITY ASSEMBLY on 19th February 2018 at Rajbari compound against of assault on Rani Yan Yan and assault and sexual harassment to her woman volantier by Bangladesh’s security forces on 15th February 2018 at Rangamati General Hospital.

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 164
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    164
    Shares

লেখাটি ৩২১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.