গ্রুপবাজি , গ্রুপের নামে চলে যখন নোংরামি!

জহুরা আকসা:

আমাদের আশপাশে প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাস্তায়-বাসে-অফিসে সর্বত্র নারীর শরীর নিয়ে চলে নোংরামি। এমনকি ফেসবুকেও নারীদের ধর্ষণের ইঙ্গিত দেয়া হয়। এই নিয়ে যদি কিছু বলেছেন তো হয়েছে। আপনি পতিতা। আপনি ক্ষেতমার্কা। গ্রাম থেকে উঠে আসছেন। ফেমাস হওয়ার চেষ্টায় লিপ্ত। ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিছুদিন আগে একটি গ্রুপ পেজে এক ফেক নারীর আইডি ধারীকে ঐ গ্রুপের উচ্চ শিক্ষিত লোকেরা শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। এমনকি ঐ গ্রুপের এডমিন মেয়েটিকে তার ছবি আর ফোন নাম্বার দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এই নিয়ে ঐ গ্রুপে ব্যাপক নোংরামি চলে। অথচ ঐ গ্রুপটি দাবি করে যে, তারা নাকি নারী স্বাধীনতায় বিশ্বাসী!

গ্রুপটির একটি স্বভাব হলো অন্যের লেখা নিজেদের নামে চালিয়ে বাহবা নেয়া। আর এই ফেক মেয়ের আইডিটি এটার বিরুদ্ধে কথা বলেছিল। কথায় আছে ’“চোরের মায়ের বড় গলা ”। ঐ গ্রুপটি এমনই। নিজেদের আধিপত্য দেখাতে ঐ নারীকে গালাগালি করলো আর তাকে পতিতা বানালো। অথচ ঐ গ্রুপে বিশিষ্ট লোকেরা নিজেরাই ছদ্ম নাম আর ছবি দিয়ে ফেসবুকিং করে।

যাই হোক, এর পরের ঘটনা আরেকটু রোমাঞ্চকর! মানে একটু রং তামাশা পূর্ণ!
ঐ মেয়েটি “আমাদের ঘরে বাহিরে” নামে আরেকটি গ্রুপ পেছে ঐ ধর্ষণ ইচ্ছুক প্রস্তাবগুলির স্ক্রিনশট দেয়। বাস হয়ে গেল। আমার নাম আর ঐ নারীর নাম একত্রিত করে চললো তখন নোংরামি। এর আগেও ঐ গ্রপের লোকরা আমার নামে বহু অশালীন পোস্ট দিয়েছে। এটা অবশ্য ঐ গ্রুপের নোংরা লোকেদের স্বভাব।

চাঁদা তুলে আর কোট-টাই পরে কি কেউ সভ্য হতে পারে? না পারে না। সভ্য হতে পারিবারিক শিক্ষা লাগে। এদের জন্ম আর বেড়ে ওঠা নোংরা পরিবেশে। যে পরিবেশে তারা নিজের মা দেবী আর অন্যের মাকে পতিতা বলতে শিখেছে। তাদের ঐ নোংরা পরিবার আর পরিবেশে যে জীবাণুদের জন্ম হয় আর হবে, এটাই স্বাভাবিক। এইরুপ পরিবেশে বেড়ে ওঠা লোকেরা দাড়ি টুপি পরে অন্য নারীকে ধর্ষণের ইচ্ছা পোষণ করে। কোট-টাই পরে নিজেরা বাইরে আধুনিকতা প্রকাশ করে, অন্য নারীদের নিয়ে মিটিং মিছিল আর রং তামাশায় লিপ্ত থাকে। অন্যদিকে নিজের বৌকে বোরখা পরিয়ে ঘরে বন্ধি রাখে।

এইরুপ ছদ্মবেশী নোংরা মানুষে ফেসবুকে ছড়িয়ে আছে। এদের খোলা গ্রুপ আর গ্রুপবাজিতে আমাদের মতো সচেতন নারীদের জীবন অতিষ্ঠ। আপনি এদের বিরুদ্ধে কিছু বলবন? কোনো প্রতিবাদ করবেন? ব্যস হয়ে গেলো, আপনার রং চরিত্র বিবাহিত জীবন সব ধরে টান দিবে। উল্টো তারাই প্রচারে ব্যস্ত হবে আপনি একটা বেশ্যা!

ফরাসী আইনে এই ধরনের ফেসবুকিং বিশেষ করে নারীদের নিয়ে নোংরা প্রচারণা একটা অপরাধ। কিন্তু ঐ মেয়েটি নিজেকে প্রকাশ করতে চাইনি। তাই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। মধ্যখানে আমি এই নোংরামি বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নিতে পারছি না। যদিও সকল তথ্য প্রমাণ আর আইনী ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। সহ্যের একটা সীমা আছে। সময় আসলে সব অপরাধ আর ভণ্ডামি প্রকাশ করবো।

শেয়ার করুন:
  • 122
  •  
  •  
  •  
  •  
    122
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.