মরাল পুলিশিং এ অতীষ্ঠ ফেসবুকবাসী

0

আসমা খুশবু:

কয়েকদিন আগে এক বন্ধু জিজ্ঞেস করলো, ‘কীরে ফেসবুকে ছুটি কেন’?
বললাম, এই তো, ব্যস্ততার কারণে। বন্ধুকে আর বলা হলো না, আমার হতাশার কথা। গত একবছর প্রতিনিয়ত লিখেছি। নিজেকে এই প্রকাশের মধ্যে এক ধরনের রিলিফ খুঁজে পেয়েছি। না লিখলে বরং দমবন্ধ লাগে। বেশ কিছু বন্ধু তৈরি হয়েছে।

কিন্তু খুব আশ্চর্য হয়েছি, এমন একজন বন্ধুও নেই, যে আমার অনুপস্থিতি অনুভব করেছে। অভিমান হয়েছে খুব। ভেবেছিলাম আর ফিরবো না এ পাড়ায়। যা হোক আমায় কেউ না খুঁজুক আমি তো সবাইকে খুঁজি, সেই চাওয়াটাই বড়। নিজের ভালো লাগার জায়গায় নিজেই এলাম আবার। কোন আশা ছাড়াই।

এতো ঘটনা চারিদিকে, খুব দিশেহারা লাগে। না চাইলেও সমমনা মানুষের সাথে একাত্মতা প্রকাশ পেয়েই যায়, আর যার সূত্র ধরে চলে যার যার মতো করে অন্যকে জাজ করা। একজনের ঘর ভেঙে যাচ্ছে আমরা খুশিতে তালি বাজাচ্ছি, প্রমাণ সংগ্রহ করে একজন আরেকজনকে নষ্ট, খারাপ, গালি দিতে ব্যস্ত হচ্ছি, নারী অধিকারের কথা বলতে গেলে গালির ফোয়ারা ছুটাচ্ছি, নারীবাদী হতে হলে অনেক নিয়ম মেনে হতে হবে, কোন রাজনৈতিক নেতার প্রতি সহানুভূতি দেখালে নির্ধিদ্বায় তাকে জামাতী ছাগু ট্যাগ দিতে দ্বিধা করিনা, কে কী পোশাক পরবে তা নির্ধারণ করে দিচ্ছি!

এমনি হাজারটা বিষয়ে আমরা আজকাল মত দেই। মত দেওয়াতে কোন সমস্যা নেই, কিন্তু আমরা মানুষ হয়ে অসংবেদনশীল আচরণ করি কিভাবে! একজন বললো, ঐ দল করলে আমরা পারবো না কেন? খুব হাস্যকর যুক্তি। ধরে নিলাম একজন পাঁচ বছর আগে অন্যায় করেছে, আইনী প্রক্রিয়ায় তার বিচারও হলো, এতে সবার খুশি হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু সেই মানুষ ব্যক্তি জীবনে কেমন কাপড় পরে, কিভাবে চুল আঁচড়ায় এইসব সমালোচনা করাটা ঠিক স্বাভাবিক লাগে না। যে যেই অন্যায় কাজের জন্য সাজা পেল, সেই কাজ নিয়ে খুব বেশি সমালোচনা না করে ফেসবুকে শুরু হয়েছে এক ধরনের মরাল পুলিশিং। এইখানে শুধু বিভিন্ন পক্ষ। ইদানিং খুব হতাশ লাগে।

আমার ঘরের মধ্যে একজন এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। ওর কাছে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পৌঁছুবার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিদিন পরীক্ষা শেষে বলে পরীক্ষা ভালো হয়েছে, কিন্তু আমাকে কি আবার পরীক্ষা দিতে হবে! এই প্রশ্নের কোন উত্তর কি আছে! একটা প্রজন্মকে সমুদ্রের কঠিন ঢেউয়ে ফেলে দিয়ে চুবানো হচ্ছে কিন্তু সামনে কোনো সীমানা নেই। শেয়ার বাজারে জনগণের ৭৮ হাজার কোটি টাকা খেয়ে দেয়ে মুখ মুছে যারা ঘরে ফিরে গেছে তাদের নিয়ে তো আমরা কেউ কথা বলি না। সব হারিয়ে পথে বসা মানুষ আত্মহত্যা করেছে বলে শোনা যায় শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারিতে।

আর কিছুদিন পরপর ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা উধাও হয়ে যাওয়া তো আছেই। ৭০ টাকা চালের ভাত খেয়ে মানুষ বেঁচে তো আছে! পায়ে পায়ে কোন্দল না করে এইসব বিষয়ে সিরিয়াস ভয়েজ রেইজ করলে কর্তৃপক্ষের কানে পৌঁছুলেও পৌঁছুতে পারে। হাজার হোক মানুষ হিসেবে কিছু দায় তো আমাদেরও আছে, একটু সংবেদনশীলতা তো আমাদের দেখানো উচিত।।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 101
  •  
  •  
  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    103
    Shares

লেখাটি ৮৪৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.