নানা রঙের ভালোবাসা

0

পুষ্পিতা মন্ডল:

প্রোপোজ ডে না কী যেন ছিলো। পুরানো কথা মনে পড়ে গেলো। আমার যিনি প্রেমিক ছিলেন, তার সাথে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ার সময় থেকে আমার নিয়মিত দেখাদেখি হয়। পরিচয় হবার পর সে ফোন দিয়ে একদিন বললো, টিএসসসি আসো। চা খাই।
এরপর এই চা খাওয়া প্রতিদিনের কাজ হয়ে গেলো। যেমন করেই হোক দশ মিনিটের জন্য হলেও দেখা হবে। একদিন কেন যেন হলের বাইরে ছিলো। যাবার সময় আমাকে বললো, একটু গেটে আয়, তোকে দেখে যাই। প্রায় সাত-আট মাস…. সে ততোদিনে তুমি থেকে তুই বলে আমাকে।

ওর দুনিয়ার যতো ছেলেবন্ধু। একটা বান্ধবী পর্যন্ত ছিলো না। বলতে গেলে একমাত্র মেয়ে আমি যার সাথে তার কথা হয়। হঠাৎ আমাকে বলল প্রেম করব, মেয়ে দেখে দে।

আমি দারুণ খুশি। মনের আনন্দে মেয়ে খুঁজি তার জন্য। ভাবলাম লোকটার একটা গতি হওয়া দরকার। একজনকে পেয়েও গেলাম। আমি নিজে তখন আইইএলটিএস দিয়েছি। ইউকেতে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এপ্লাই করেছি। ভাবলাম যাওয়ার আগে এটা করে যাবো।

একদিন ঠিক হলো ওই মেয়েরে নিয়ে টিএসসি যাবো। দুজনের দেখা করিয়ে দিতে। তারা কথা বলে দেখবে। কিন্তু সন্ধ্যার সময় আমার যেন কেমন লাগতে লাগলো। মনে হলো এখন থেকে সে ওই মেয়ের সাথে দেখা করতে আসবে। আমি কি করব? আমার তখন দেখা করতে গেলে ওইমেয়ের সময় মতো যেতে হবে। ভাবলেই কান্না পেলো। কিছুই বুঝতে পারলাম না। ঘটনা কি! যাই হোক কাউকে না নিয়ে একাই গেলাম দেখা করতে।

তা ছ্যামড়া আমি একা দেখে বরং খুশি হয়েছিলো। বলেছিলো “ভালো করেছিস আনিস নি। এভাবে কি প্রেম হয়? “
আমি তাকে বলেছিলাম …. “আপনার সাথে আমি কথা বলিয়ে দিবো তবে আমি লন্ডনে যাবার পর। আমি হলে থাকবো, আর হল থেকে অন্য একটা মেয়ে এসে এখানে দাঁড়িয়ে আপনার সাথে কথা বলবে, এটা আমি মানতে পারবো না।”
একথা শুনে সে তাকিয়েছিলো আমার দিকে। কিছু বলেনি। বলার দরকারও হয় নাই। শুধু বলেছিলো, এটা তারও মনের কথা, শুধু বলতে পারেনি আমি যেহেতু ইউকে যেতে চাই। হয়তো ওকে নিয়ে আমার ভাবনা অন্যরকম। তাই সংকোচে কিছু বলেনি।

বাকি আধা ঘন্টা আমরা স্ট্যাচুর মতো চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলাম জনতা ব্যাংকের সামনে। সাড়ে নয়টায় হলের গেইট বন্ধ হবার সময় হলে আমি হলে ঢুকে যাই।

না আমরা কেউ কাউকে প্রোপোজ করিনি। রাত এগারটার দিকে সে আমাকে কল দিয়ে বলেছিলো, ‘তোকে এখন থেকে তো তুমি করে বলা অভ্যাস করতে হবে। চল, তোকে ফর্মালি প্রোপোজ করি।’ এখন প্রোপোজ করবো, একথা বলে সে আমাকে প্রপোজ করেছিলো। ওইদিন ১৭ ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রোপোজ ডে। আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের একটা দিন।

না, এই যে আমরা একসাথে নেই, এটা নিয়ে আমার কষ্ট নেই। একসাথে থাকার ছিলো না, তাই নেই। না থাকার পিছনে আমাদের কারো কোনো দোষও নেই। অভিযোগও নেই। তবে ওই সাড়ে পাঁচ বছর আমাদের জীবনের অনেক সুন্দর সময়। ওই বছরগুলো, বা সম্পর্কটা দিয়ে আমার কোনো অতৃপ্তি নাই।

সে আমাকে তার সবটা দিয়ে ভালোবাসতো, আমিও তাই। কোনো অবিশ্বাস, অশ্রদ্ধা, অভিযোগ এর ভিতর কখনোই আসেনি। তাই এই দিনগুলো মনে পরলে আমার বরং অনেক ভালোই লাগে। এই যাকিছু এওতো আমার জীবনের অংশ। হয়তো অদ্ভুত …. তবু এই।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 162
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    162
    Shares

লেখাটি ৮৯৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.