“খালেদা জিয়ার শাস্তিতে কতটুকু স্বস্তি!”

0

সালমা লুনা:

প্রেসিডেন্ট এরশাদ নাকি জেলে বরই গাছ লাগিয়ে এসেছিলেন নেতানেত্রীদের জন্য।
এক নেত্রী গেলেন সেই বরই খেতে। এরশাদ নিশ্চয়ই খুশিই হয়েছেন। তা তিনি প্রতিশোধের প্রাপ্তিতে খুশি তো হতেই পারেন। 

তবে এবার দেশের মানুষও বেশ খুশি- সবাই বলছেনও তা। ফেসবুকেও দেখছি খুশির ফোয়ারা ছুটেছে। কেউ কেউ খালেদা জিয়াকে নিয়ে অশ্লীল ব্যাঙ্গবিদ্রুপও জুড়ে দিয়েছেন। এই মিছিলে কে নেই ? অধিকার কর্মী থেকে নারীবাদী সকলেই আছেন। 
যেন সকলেই জানেন এবং মানেন, এই যে বেগম খালেদা জিয়ার সাজা হলো, এতে দেশের অর্ধেক সমস্যারই সমাধান হয়ে গেলো ।

কিন্তু না, সমস্যা সমাধান হলেও অন্যত্র ছোট্ট একটু সমস্যা হয়ে গেছে। এক সরকারদলীয় ত্যাগী ও মহান নেতা ভীষণ লজ্জা পেয়েছেন। তিনি বলেছেন, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও একজন রাজনীতিবিদ খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা তছরুপ করায় তিনি এবং তার মতো অনেক রাজনীতিবিদ ভীষণ লজ্জা পেয়েছেন। তারা এই লজ্জা রাখার জায়গা পাচ্ছেন না।

সত্যি! লজ্জা রাখার জন্য তো আর সুইস ব্যাংক নাই, মালয়েশিয়ায় বিনিয়োগও করা যায় না। কানাডায় বেগম পাড়ায় বাড়ি কিনে লজ্জা গচ্ছিতও রাখার নিয়ম নাই।

তাই এই লজ্জা শুধুই একজন ভালো নেতার ভাষণ, সরি ভূষণ।

আমাদের তো এমনিতেই লজ্জা-টজ্জা নাই । তাই সব দেখি শুনি আর টপ করে গিলে ফেলি। হজমও করে ফেলি দ্রুতই।

কিন্তু এতদসত্বেও একটা জিনিস কিছুতেই হজম করতে পারছি না।

শহরের একটা ফোর স্টার হোটেল নাকি কী এক অফার দিয়েছে আসন্ন ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে। 
নয় লক্ষ টাকায় একটিমাত্র কাপল তাদের হোটেলে একদিনের ভালোবাসা উদযাপনের সুযোগ পাচ্ছে।

ভালোবাসা দিবসে ভালোবাসার মানুষকে নিয়ে একজন নারী বা পুরুষ লিমুজিনে করে ওই হোটেলে যাবেন, দেশবিদেশের বিখ্যাত সব খাবার আর পানীয় চাখবেন, তারপর ভালোবাসাবাসি শেষে ঘুমিয়ে পড়বেন । ব্যাস!!
না। অবশ্য আবার তাদের নাকি লিমুজিনে করেই ড্রপও করবে শুনলাম। 
এবং এতেই তাদের গুনতে হবে বেশী না, মাত্র নয় লাখ টাকা।

নাহ্, ভাববেন না আমি ঈর্ষাপরায়ণ বাঙালি বলেই এই তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি।

তবে ওই মাথার ব্যাপারখানাই, বুঝলেন কীনা, ভারি গোলমেলে । সেটা বরাবর কানের সাথে সম্পর্কিত যেমন কিছুটা, তেমনি মনের সাথেও। কান টানলে যেমন মাথা আসবেই। অমনি মাথা ঘামালে কানেও কিছু কথা না চাইতেও ঢুকে যায় আরকি ! আবার মাথায় ঢুকলে সেগুলো বিনবিন করে মগজ কুরতে কুরতে আপনার মনেও ঢুকে যাবে আর আপনাকে ভাবাবে। ভাবাতেই থাকবে, আর আপনি ধীরে ধীরে একজন বিষণ্ণ আর হতাশ মানুষে পরিণত হবেন।

এটির জন্য হয়তো আপনি কোনোভাবেই দায়ী নন। কিন্তু আপনি যদি মাথামোটা নাগরিক হন আর দেশকে ভালোবাসার মতো একটি ঝামেলাপূর্ণ গোলমেলে কাজে জড়িত হন তাহলে এই হিসাব।

এই যেমন শুনছি কোন ব্যাংক নাকি শেষ!শেষ মানে শেষ একেবারেই খোকলা হয়ে গেছে। আবার কোন কোন ব্যাংক থেকে নাকি তিন হাজার চার হাজার পাঁচ হাজার কোটি করে টাকা লোপাট হচ্ছে তো হচ্ছেই!

আর এইসব টাকা মঙ্গলগ্রহ থেকে যে এলিয়েনরা আসছে, তারাই চুপিসারে নিয়ে যাচ্ছে। 
কেউ ওদের ধরতেই পারছে না।

এইসব ছাড়া দেশে তেমন কোন সমস্যা নেই। 
কান বলছে ওই বেগম জিয়াই সমস্যারূপে মূর্তিমান ছিলেন, উনি ঢুকে গেছেন জেলবাড়িতে। 
সমস্যা শেষ।

কিন্তু ওই যে মানুষের মন বলে একটা জিনিস আছে!

সেই মন বলছে- এই যে টাকা উধাও হচ্ছে, এগুলোর সাথে ওই হোটেলের নয়লক্ষ টাকায় ভালোবাসাবাসি করা ভ্যালেন্টাইন কাপল, লাখ টাকায় ক্লাশ ফাইভের প্রশ্নপত্র কিনে নেয়া অভিভাবক, লাখ লাখ টাকায় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফাঁসকৃত প্রশ্নের ক্রেতা-অভিভাবক, ছোটছোট বাচ্চাদের হাতে অতিদামী ফোনের লেটেস্ট এডিশন তুলে দেয়া পিতামাতা, কিশোর কিশোরী পুত্রকন্যাদের জন্মদিনে অর্ধকোটি টাকার রোলেক্স ঘড়ি- কোটি টাকার নিউ এডিশন গাড়ি উপহার দেয়া পিতামাতাদের কোথাও কোন যোগসাজস আছে। থাকতেই হবে। না থেকে পারেই না।

সুতরাং খালেদা জিয়ার শাস্তি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করে এইসব টাকা ছড়ানো মানুষগুলোর পেছনে একটু খোঁজ নিলে অনেককিছুই বের হয়ে আসতে পারে। দেখা যেতে পারে এলিয়েনের নাম ভাঙিয়ে কোন বর্গী বাংলার ধান আবার খেয়ে যাচ্ছে।

আমরা তো অনেকই শুনেছি, শুনছি। দেখেছিও।

বিশাল ধনাঢ্য মানুষটিও ঋণ করে কেমন ঘি খান আর হাওয়া মহল বানিয়ে সুখে নিদ্রা যান এইদেশে।

তারা কেন খালেদা জিয়ার সাথেই জেলে গিয়ে শত শত বরই গাছ বুনবেন না!
আফটার অল বরই ভালো ফল, কিন্তু ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। বরইয়ের বিলুপ্তি রুখতে এখনই উদ্যোগ প্রয়োজন।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 486
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    487
    Shares

লেখাটি ২,৫০৬ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.