সম্পর্ক ভেঙ্গে বেরিয়ে অাসা নারীরাই কেন সমালোচনার পাত্রী!

0

অনন্যা নন্দী:

অাচ্ছা, কোনো সম্পর্ক ভেঙ্গে বের হয়ে অাসাটা কি অন্যায়?
অামি বলবো,”হুম, অন্যায়…..”
অন্যায় না হলে কোনো সম্পর্ক ভেঙ্গে বেরিয়ে অাসা মেয়েটাকে কেন অামরা সাপোর্ট দেই না?
কেন তাকে অামরা “কেন এমন করলি”, “একটু এডজাস্ট করে কী থাকতে পারলি না”, “সম্পর্কে জড়ানোর অাগে বুঝিসনি ছেলেটা কেমন” ইত্যাদি সুঁই ফোঁটানোর মতো যন্ত্রণাদায়ক প্রশ্নবাণে জর্জরিত করি?

যতোটা অামরা সকলে বাঙ্গালি মেয়েদের সম্পর্কে জানি দু’একজন ব্যতিক্রম ছাড়া মনের খুশিতে কোনো মেয়ে একটা সম্পর্ক ভেঙ্গে বেরিয়ে অাসে না। এমনও অনেক মেয়েকে দেখেছি যারা দিনের পর দিন প্রেমিক অথবা স্বামী কর্তৃক শারীরিক, মানসিক নির্যাতন সহ্য করেও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। পিঠ দেওয়ালে না ঠেকা পর্যন্ত বাঙালী মেয়েরা তার সঙ্গীকে ছাড়ার কথা ভাবতেও পারে না। মাঝে মাঝে অবাক হই এইটা দেখে যে, সদ্য ব্রেক অাপ করা মেয়েটাকে সান্ত্বনা দেয়ার নাম করে তার তথাকথিত শুভাকাঙ্খীরা নিজেদের সঙ্গীর গুণগান করতে থাকে।

একটা উদাহরণ দেই,
“হায়, হায়!! লতা,
রিয়াদ তোর সাথে এমনটা করতে পারলো!!
অামার সুমনতো অামাকে ছাড়া কিছু বুঝেই না”

পাঠক,এখন অাপনারাই বলুন এইটা কী ধরনের সান্তনা?একটা ব্যাপার লক্ষ্য করলাম কোনো ব্রেক অাপ করা মেয়ের সামনে যেন তার তথাকথিত শুভাকাঙ্খীদের তাদের সঙ্গীর প্রতি ভালবাসা উছলে পরে।তাছাড়া,পুরো জাতির জন্য কে কোন কারনে ব্রেক অাপ করলো সেটা জানাটা কী খুব বেশি ইম্পর্টেন্ট!কেন জানিনা যে মেয়েটা বয়ফ্রেন্ড এর সাথে ব্রেক অাপ করে বা স্বামী পরিত্যক্তা হয় তাদের কাছে সকলের একটাই প্রশ্ন থাকে,”তোদের ব্রেক অাপ এর কারন কী?”
এখন হয়তো অনেকে বলবে যে মনের দুঃখগুলো ভাগাভাগি করলে দুঃখ কমে তাই জিগ্যেস করি।হয়তো অনেকে সত্যিই মেয়েটার মনের ব্যাথা কমানোর জন্য কথাগুলো বলে থাকতে পারেন তবে অামার মনে হয় ব্যাপারটা অাসলে অনেকটা “কাটা গায়ে নুনের ছিটা”র মতো হয়ে যায়।

মাঝে মাঝে খুব অবাক হই এই দেখে যে যখন কোনো ছেলে এসে তার ব্রেক অাপ অথবা তালাক এর কথা তার পরিচিত কাউকে বলে তারা পিঠ চাপড়ে ঐ ছেলেকে বলে,”ভাল করেছিস…তোর জন্যে অারও ভাল মেয়ে দেখছি”।অন্যদিকে কোনো মেয়ে যখন তার সবচেয়ে কাছের বান্ধবী’র সাথে এসে তার ব্রেক অাপ এর দু:খ শেয়ার করতে চাই তার অাপন বান্ধবীটিই তাকে জিজ্ঞেস করে,”একটু কম্প্রোমাইজ করে সম্পর্কটা টিকিয়ে রাখতে পারলি না!”অামরা কেন বোঝার চেষ্টা করি না, জীবনের এই একটি ক্ষেত্রে এসে একজন মেয়ে বুঝতে পারে যে সে কতটা অসহায়! সে চিৎকার করে এই সমাজকে বোঝাতে চায় যে, জীবনের এই কঠিন সময়ে সে কতটা একা।

একবার ভাবুন তো অাপনি যাকে চোখ বন্ধ করে ভালবেসেছেন, কিংবা যার হাত ধরে জীবনের অনেক বসন্ত কাটিয়েছেন, সেই মানুষটার দেয়া বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত, অনাকাঙ্খিত অাঘাতের জন্য অাপনি তার সঙ্গ ছাড়তে বাধ্য হলেন।
একা জীবনটা কেমন লাগবে, বলুন তো?
জীবনটা নতুন করে শুরু করার জন্য অাপনি অাপনার ঘনিষ্ট অাত্মীয় অথবা কাছের বন্ধুদের সাহায্য চাইছেন, কিন্তু তারাই যদি অাপনাকে কটাক্ষ করে কথা বলে!
কেমন লাগবে বলুন তো??
জানি, সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

অামি কোর্টে কাজ করার সময় দেখেছি বহু মেয়ে এই সিচুয়েশন ফেস করতে না পেরে একেবার নি:সঙ্গ জীবন যাপন করে। নিজেকে গুটিয়ে নেয় সমাজ থেকে। এমনকি ছোটবেলার বান্ধবীদের কাছে যেতেও সংকোচ বোধ করে।
তাই, সবার কাছে একটাই অনুরোধ…

অাপনার অাশেপাশে এমন কেউ যদি থাকে, তাকে সহানুভূতি না দেখাতে পারলেও তাকে তার ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্ক নিয়ে কোনো প্রশ্ন করবেন না। তাকে বারবার মনে করিয়ে দিবেন না যে, তার সঙ্গীটি অার তার সাথে নেই।
দয়া করে সম্পর্ক ভাঙ্গার পর কোনো মেয়েকে অযাচিত কষ্ট দিয়ে ভেঙ্গে যাওয়া সম্পর্কে অাবার অাবদ্ধ হয়ে একটা দমবন্ধ করা সম্পর্কে অাটকে থাকতে বাধ্য করবেন না!

শিক্ষার্থী,
ঢাবি

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 675
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    675
    Shares

লেখাটি ১,৪৩৪ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.