যৌন নির্যাতকের কোনো ধর্ম নেই

0

সাদিয়া রহমান:

সুদীর্ঘ সময় যাবত কোলাহল আর বিতর্ক চলে আসছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া ব্যক্তির পোশাক, চলন ও বলন নিয়ে। দিনশেষে কোনো না কোনোভাবে তার সাথে ধর্ম জড়িয়ে ফেলে কাদা ঘোলা করে ডোবা বানানোর চলনও আজকের না। তার পরেও যেভাবেই হোক একটা ঢাল দিয়ে যৌন নির্যাতককে বাঁচানোর প্রচেষ্টার ভিতকে পুরোপুরি নড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানের সাবিকা খান। সম্প্রতি সাবিকা খান বলেছেন পবিত্র হজ্জ পালন করতে গিয়ে তার হওয়া দুর্বিষহ অভিজ্ঞতার কথা। বিশ্ববাসী কি আসলে অবাক হয়েছে যখন সাবিকা খানের সাথে গলা মিলিয়েছে আরো অনেক নারী?

সাবিকা খান একজন পাকিস্তানী ধর্মপ্রাণ নারী। সাবিকার অভিজ্ঞতা তাকে দিয়েছে অদ্ভুত এক শক্তি, যার কারণে করুণ পরিণতি হতে পারে জেনেও সে এই বিষয়ে মুখ খুলতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তার ফেসবুক প্রোফাইলে গিয়ে দেখা গেছে, সে ধর্মীয় স্পর্শকাতরতাকে মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সেইখানে সে লিখেছে ইশার নামাজের পর তাওয়াফ করার সময় সে হঠাত তার কোমরে একটা হাতের ছোঁয়া পায় যা সে নেহাত অখেয়ালের ভুল ভেবে উপেক্ষা করে। কিন্তু একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে সে বুঝতে পারে যে ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃত। কিন্তু জনসমাগম অনেক বেশি হওয়ায় সে কিছু করতে পারছিলো না। পরবর্তীতে সে ইয়েমেনি কর্ণারের কাছে থাকাকালীন বুঝতে পারে কেউ একজন পিছন থেকে তার স্পর্শকাতর জায়গায় শুধু হাতই দিচ্ছে না, বরং খামচে ধরতে চেষ্টা করছে। সে যদিও মুখ দেখতে পায়নি, তবু জনসমাগমের মাঝেই সে জঘন্য সেই হাতটা থেকে নিজেকে মুক্ত করে। এই অভিজ্ঞতার পরে সে মানসিকভাবে অসম্ভব আঘাত পায় এটা ভেবে যে সৃষ্টিকর্তার সামনে, তার পবিত্র স্থানেও তাকে এমন একটা অবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে!
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, সাবিকা খানের পরে অনেক নারীই এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতাগুলো বলেছেন। এমনকি একজন এমনও বলেছেন এই বিষাক্ত অভিজ্ঞতার ভয়ে তিনি হজ্জের সময় কালো পাথরের আচার অনুষ্ঠানটি এড়িয়ে চলেন। শিরিন আজমল নামে একজন বলেন তিনিও এই ধরনের ঘটনার শিকার হয়েছেন।

সাবিকা খান, শিরিন আজমল, হিবাহ মাহি বা তুবা খান এছাড়াও আরো অনেকে যারা মুখ খুলেছেন, অথবা হয়তো যারা এখনো চুপ করে আছেন, তাদের প্রত্যেকেরই একটা শঙ্কা ছিলো। খুব সাধারণ দুশ্চিন্তা। এই পবিত্র স্থানে এমন কদাকার অভিজ্ঞতার কথা বললে কারো দুর্বল স্থানে আঘাত লাগবে কিনা, কারো বিশ্বাসে আঘাত লাগবে কি না! অথচ ভয়টা আদৌ সেই জায়গায় হওয়ার কথা হয়তো ছিলো না। ভয়টা হওয়ার কথা ছিলো যৌন নির্যাতকদের, নিপীড়কদের।

দীর্ঘ সময় ধরে যৌন হয়রানির শিকার মেয়েদের সবাই পোশাক নিয়ে শিক্ষা দিয়ে চলেছে। তার জীবন যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ইউনাইটেড স্টেটস অফ আমেরিকা বা মালয়েশিয়া বা বাংলাদেশ সবখানেই কমবেশী এই চর্চা বহাল তবিয়তে বিরাজমান।

অথচ ব্যাপারটা কত সহজ হতে পারতো যদি সবাই অপরাধকে অপরাধ হিসেবে মেনে নিত। অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে কুন্ঠাবোধ না করতো। কত সহজ হতো, যদি সবাই বলতো এদের কোনো স্থান, কাল, পাত্র, বর্ণ, গোত্র নেই। এদের কোনো ধর্ম নেই। এরা সকল ধর্মচ্যুত। কোনো ধর্মে এদের স্থান নেই এবং সকল ধর্মে আছে এদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান। তাহলে ধর্মের বর্ম ,মানবতার বর্ম সবই রক্ষা পেত শুধু অপরাধীরা বাদে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

লেখাটি ১,১৪৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.