অন্যের স্বাধীনতা হরণ করা কি জায়েজ?

0

শিল্পী জলি:

সেদিন চুরি করে আমেরিকান এক হোমলেসের আবাস স্থলের ছবি তুলেছি। ছাতার মতো তাঁবুর পাশটিতে হোমলেস মানুষটি বসেছিল তার এক বন্ধুর সাথে। গাড়ির ভেতর থেকে ঝট করে ছবিটি তুলি। ইচ্ছে ছিল শুধু তাদের ঘুমানোর জায়গাটির ছবি তোলার। কিন্তু চলন্ত গাড়িতে থাকায় হোমলেস লোক দু’জনও চলে আসে ছবির মধ্যে। তাই আর ছবিটি এখনও পোস্ট করা হয়নি যদি তাদের প্রিভেসি ক্ষুন্ন হয় সেই আশঙ্কায়। তদুপরি এতে আবার আইন ভঙ্গ হবারও সম্ভাবনা রয়েছে।

এদেশে অন্য কারও একটি ছবি পোস্ট করার আগে হাজার কথা ভাবতে হয়, অনুমতি নিতে হয়। একবার এক কলিগ তার ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের ছবি তুলে ফেবুতে পোস্ট করতেই তার চাকরি চলে যায়। অথচ আমাদের দেশে প্রিভেসি সংক্রান্ত কোনো চিন্তাচেতনাই মানুষের ভেতরে কাজ করে না।

ফেবুতে দেখলাম এক ছেলে কিছু ছেলে-মেয়ের প্রেম-ভালোবাসা এবং সিগারেট খাওয়ার ছবি পোস্ট করে দিয়েছে তাদেরকে শিক্ষা দিতে। ছবিগুলোতে কিসসহ প্রেম-প্রীতির নানা পোজ রয়েছে। আর সবগুলো ছবিই পাত্রপাত্রীর অজান্তে তোলা। যে পোস্ট করেছে, সে লিখেছে তাদের অপকর্মের সাজা এভাবেই দিতে হবে, কেননা পাপী তারা… বিয়ের আগে চুমু খায়….!

তাদের লেখার ধরণ এবং মানসিকতা দেখে মনে হলো জগতে কিসের মতো খারাপ এবং অবৈধ কর্ম মনে হয় আর দ্বিতীয়টি নেই। আর সে যদি হয় বিয়ের আগে তাহলে তো অাস্তাগ ফিরুল্লাহতেও মাফ পাবে না। অথচ জগতে নারী-পুরুষের ভাব-ভালোবাসার সবচেয়ে মিষ্টি যে প্রকাশ, সেটিই ঘটে কিসের মাধ্যমে এবং বিয়ে হলেই যে এটি নিশ্চিত ঘটবে সেই গুঁড়ে বালি। শত শত বিয়ে আছে যেখানে মার, কিল, গুঁতা থাকলেও কিসের ক’ও নেই। তাছাড়া বিয়েতে দিন যতো যায়, সম্পর্ক যতো পুরোনো হয়, দম্পতিদের মাঝে শারীরিক অন্য সম্পর্কগুলো অব্যাহত থাকলেও সম্পর্ক থেকে সর্বপ্রথম কিস হারিয়ে যায়। বলতে গেলে কিসকে যারা যৌনতার সাথে গুলিয়ে ফেলে, তারা কিসের মর্মই বোঝে না। কিসিংয়ের সম্পর্ক যতোটা না যৌনতার সাথে সম্পর্কিত, তার চেয়ে অনেক বেশি আত্মার সাথে।

যাই হোক, যারা কিসকে বদ চরিত্রের লক্ষণ বলে মনে করেন এবং শুধুমাত্র বিয়ের পরই কিস ঘটবে বলে জোর দাবি তোলেন, বাস্তব জীবনে তাদের কপালে আদৌও কিসের কারবার ঘটবে কিনা, সন্দেহ। কেননা প্রেমের বাজারে কিসের নিশ্চয়তা দেয়া গেলেও, বিয়েতে সেটায় জোর দিয়ে কোনো কথা বলা যায় না। বিয়ে হতেই ছেলেরা যে বিষয়ে সবচেয়ে প্রথম উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটি হলো কিস। কেননা তখন অনেকেই আর মনে প্রেমের দাম অনুভব করে না। বরং যাতে শারীরিক চাওয়া মিটিয়ে নিয়ে বউকে পুরো কন্ট্রোলে রাখা যায় সেসব টেকনিকগুলোই আয়ত্তে আনে বেশি।ফলে সংসার জীবন বউয়ের কাছে কিচিরমিচির খটরমটরের বলেই অনুভূত হয় বেশী।

যাই হোক, যা বলছিলাম, প্রিভেসি। অন্যে কিস করলে করবে, না করলে না করবে, তাই বলে আপনারা তাদের ছবি তুলে পাবলিক করে দেবেন কোন অধিকারে? তাও যদি বলতেন, ছেলেরা ঠিকমতো দাঁত মাজে কিনা অথবা কিস করলে হারপিস ওয়ান, এইচআইভি ইত্যাদি রোগ ছড়াতে পারে….।

অন্য কথায় স্বাস্থ্যগত ক্ষতি এবং ঝুঁকিগুলোকে ফোকাস করা। নইলে কিস বা চুমু’র আর কোনো খারাপ দিক নেই। কেননা ছেলেমেয়ের ভাব ভালোবাসা যদি এতোই খারাপ হতো, তাহলে আপনি, আমি, বা আমরা আসতাম কী করে এই পৃথিবীতে? কাজ তো একই, পার্থক্য শুধু কবুল বলা, আর না বলায় ! তিন কুবুলে যে কর্ম একেবারে বৈধ হয়ে যায়, সে আর কত খারাপ কর্ম হতে পারে?

নিজের ইচ্ছেমতো আরেকজন জীবনযাপন করছে না বলে আইন ভেঙে অন্যের স্বাধীনতা হরণ করা কি জায়েজ?

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 113
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    114
    Shares

লেখাটি ৫৪১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.