‘নারীস্থানে’ এক তেঁতুল নবীর রাজত্ব!

0

শেখ তাসলিমা মুন:

গত দুদিন ধরে পালাক্রমে তেঁতুল শফির পায়ের উপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দেশের সরকারি মন্ত্রীরা। শুনলাম বিএনপির নেতারাও গেছেন। ‘দুয়া’ চায়। এই কামিল বুড়োর হাত পা বাইয়া কেবল নূরানি ‘দুয়া’ ঝইরা ঝইরা পড়ে। সেখানে হুমড়ি দিয়া কাইচ্চা খুইচ্চা দুয়া চাইটা পুইটা আনতে হয়।

দেশটির সর্বক্ষেত্রে নারীর ‘ক্ষমতায়ন’। প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে বড় বড় পদে সব নারীরা। আমার জানতে ইচ্ছে করে, নারীকে যখন এ বেলেহাজ ঘাটের মড়া ‘তেঁতুল’ বলেছিল, তাতে এ নারীরা নিজেদের সম্মানিত অনুভব করেছিল কিনা? নাকি ক্ষমতার গদি এতই রেশম কোমল যে গায়ে কিছু লাগে না? পেটে খাইলে পিঠে সহ্য করতে হয়?

নারী হিসেবে আমি অপমানিত হই। শিক্ষিত নারীর একটি অংশ হয়ে জন্মভূমির এ করুণ চিত্র বেদনার্ত করে আমাকে। অসহায় লাগে। নারীর আত্মসম্মানের বিষয়গুলো এত অবহেলাযোগ্য করে তোলা, করে ফেলা একটি অগ্রগামী সমাজের জন্য এত ক্ষতিকর যে ফল বহন করতে হবে জেনারেশন ধরে। আর তার দায় সরকারের। স্পিকার হয়ে নারী তার দলের এ কাজ সহ্য করছে। প্রধানমন্ত্রী হয়ে তিনি নারীর এ অসম্মান অনুমোদন করছেন। অসংখ্য মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী সাংসদ নারী। তাঁরা নারীর ও শিশুকন্যাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছেন। নিজেদের ক্যারিয়ারই নারীর ভাগ্যন্নোয়নই নয়। তাঁরা নারীর বিরুদ্ধে যে কাজ অনুমোদন করছে তা অপরাধ। জেনারেশনকে অন্ধকারে নিক্ষেপ করা।

একটি অশিক্ষিত ধর্মভীরু জনসামজকে প্রগতিশীল করে গড়ে তোলার দায়িত্ব জনকল্যাণকর রাষ্ট্রের। তাদের হাতে অন্ধকার ক্ষমতা তুলে দেওয়া নিজেদের পায়ে নিজেদের কুঠারাঘাত ছাড়া কিছুই নয়। একটি দেশের সাধারণ মানুষেরা ঘর গৃহস্থালি আর আল্লাহর উপর বিশ্বাস নিয়ে জীবন কাটায়। সেখানে তাঁদের বিশ্বাসকে উপজীব্য করে কয়েক দশক ধরে যে কট্টরপন্থীরা আমাদের শান্ত সাদা মনের মানুষদের ঘরে সিঁদ কেটেছে যে ধর্মের ডাকাতরা, সেটি রাজনীতির অসাধুতারই ফল। তার জের আমাদের বহন করতে হবে অনেক যুগ।

একদিন এ অঞ্চলে ছিল মৌলানা ভাসানী, শেখ মুজিবের মতো মাথা উঁচু করা নেতা। আজ সেখানকার মন্ত্রীদের শফীর মতো অশ্লীল অপপন্থীদের পায়ের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। এদেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। পদ্মাসেতু আর ফ্লাইওভার অবশ্যই দরকারি, কিন্তু তার থেকেও দরকারি মানুষকে অন্ধকার থেকে রক্ষা করা।

দেশের ক্ষমতাশালীদের যখন শফির কাছে ধর্না দিতে হয়, তা যে সিগন্যাল দেশের মানুষদের জন্য দেয় তা একটি ভয়াবহ সিগন্যাল। যার ফল বহন করতে হবে কয়েক জেনারেশন ধরে।

একটি দেশের রাজনিতিকরা জনগণের টাকা লুটে খায় গলা অব্দি সে ফাঁকে অনেক ঘটনা ঘটে যায়। দেশে পজিটিভ প্রবাহ বন্ধ হয়ে একটি শূন্যতা তৈরি হয়। আর যে শূন্যতা গলে অপশক্তি জায়গা করে নেয়। একেকজন এমপি কোটি কোটি টাকা অবৈধ পয়সা করার জন্যই এ পদটি বৈধ করে ফেলেছে। এ দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন বহমান রাখতে জনগণকে অন্ধকারাচ্ছন্ন রাখার সকল প্রক্রিয়া তাদের ম্যান্ডেট পিরিয়ড ধরে পরিকল্পিতভাবে করে। তারা দুর্নীতি এবং কালো টাকার কামানোর জন্য সমস্ত সমাজকে এভাবে হাজার বছর পিছিয়ে দিচ্ছে। যার করুণ শিকার হচ্ছে নারী ও কন্যা শিশুরা। জানি না তাদের আরও কত শতক লাগবে সেখান থেকে উঠে আসতে!

আমাদের দেশের শিক্ষিত নারী আন্দোলনকারীদের এ বিষয়গুলো অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে আসা দরকার। রাজনীতিকদের অপরাজনীতি নারীর জন্য সমাজটি বিষাক্ত করে ফেলেছে। নিরেট অশিক্ষিত সমাজ হয়ে উঠেছে এ দেশের জনসমাজ। ক্রমশ: শফী নামক কালো ফিশ সমাজটিকে গলাধ:করণ করে ফেলেছে।

সঠিক বিষয়ে ফোকাসড না হলে সব বিফলে যাবে। সোশ্যাল মুভমেন্টের এখনই সময়।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 174
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    175
    Shares

লেখাটি ১,৩০৭ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.