‘মানুষ মুক্তিযুদ্ধের মূল্য বুঝছে না’

ramaউইমেন চ্যাপ্টার: একাত্তরের বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা রমা চৌধুরী বলেছেন, ‘এখন দেশের মানুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল্য বুঝছে না। দীর্ঘ সময়ে অর্জিত হলে স্বাধীনতার মূল্য বুঝতো। তাই মুক্তিযুদ্ধ নয় বছর ধরে চললেই খুশি হতাম আমি।’ রোববার দুপুরে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের চেরাগি পাহাড়ের বাসায় ঢাকার ‘কালার অব প্যারাডাইস’ নামে একটি সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধি দেখা করতে এলে তাদের উদ্দেশ্যে তিনি একথা বলেন।

স্বাধীনতার ৪২ বছর পার হলেও ব্যক্তি স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে রমা চৌধুরী বলেন,‘আমরা এ স্বাধীনতা চাইনি। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধ করেছে তরুণরা। বিদেশি ঋণ নিয়ে চলার জন্য স্বাধীন করা হয়নি।‘

পরের টাকায় দেশ চলবে সেটা পছন্দ করেন না একাত্তরে নির্যাতিত এ নারী। তিনি বলেন, ‘ঋণ নিলে আমি তো ছোট হয়ে গেলাম। আমি উপদেশ দিব কি করে। বিদেশিরা ঋণ দেয় দখল রাখার জন্য। কর্তৃত্ব খাটাবার জন্য।’

সংগঠনটির সদস্যরা তাঁকে আর্থিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিলে তিনি আবারও তা ফিরিয়ে দেন।

গণমাধ্যমে রমা চৌধুরীকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের খবর প্রচারের পর একাত্তরে নির্যাতিতা রমা চৌধুরীর সঙ্গে রোববার দেখা করতে আসেন সামাজিক সংগঠন ‘কালার অব প্যারাডাইস’ সভাপতি আসমা আক্তার লিজা, সাধারণ সম্পাদক ডা.শাহানা আহমেদ ও সদস্য জিসান।

এসময় তারা বিভিন্নভাবে সাহায্য করার প্রস্তাব দিলেও তার ফিরিয়ে দেন রমা চৌধুরী। পরে ‍অনেক অনুরোধ করে রমা চৌধুরীর লেখা তিনটি বই তারা ২০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নেন। বই তিনটি হলো-একাত্তরের জননী, রমা চৌধুরীর এক হাজার একদিন যাপনের পদ্য ও ভাববৈচিত্রে রবীন্দ্রনাথ।

গত শনিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও তার কাছে কোন আর্থিক সহযোগিতা চাননি রমা চৌধুরী। রমা চৌধুরীর নির্লোভ এ সম্মানবোধে মুগ্ধ হন প্রধানমন্ত্রীও।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধে রমা চৌধুরীর সম্ভ্রম আর দু’সন্তান হারানো, ফেরি করে বই বিক্রি করার ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে তা দৃষ্টিগোচর হয় প্রধানমন্ত্রীর। এরপর শনিবার তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে কি কথা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমার কথা বলেছি। তিনি(প্রধানমন্ত্রী) তার কথা আমাকে বলেছেন। আমি তাঁকে বলেছি, ‘আমি আপনার বড়। তাই আমাকে দিদি বলে ডাকবেন। তিনি আমাকে দিদি বলে জড়িয়ে ধরেছেন’।

প্রধানমন্ত্রী কাছে কোন কিছু চেয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,‘আমি প্রধানমন্ত্রী কাছে কিছু চাইনি। আমার নিজের করার ক্ষমতা আছে আমি চাইবো কেন।’

নিজেদের স্বনির্ভর হওয়ার প্রতি জোর দিয়ে রমা চৌধুরী বলেন, ‘হেঁটে হেঁটে বই বিক্রি করে পথ দেখাচ্ছি। আমার বয়সে অনেকেই কিছুই করে না। কিন্তু বসে থাকলে হবে না, পরিশ্রম করতে হবে। তাহলেই স্বাধীনতা কাঙ্খিত ফল আমরা পাব।’

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.