নিজের সম্মান নিজে রাখতে শিখুন

0

ওয়াহিদা সুলতানা লাকি:

“বেশিক্ষণ পুরানো কাপড় পরে থাকলে কিছুক্ষণ পর নিজের কাছেই নিজেকে ফকিন্নী মনে হবে” — কথাটা একবার একটা নাটকে শুনেছিলাম। এর রেশ ধরেই বলছি, নিজেই নিজেকে ছোট ভাববেন না। আপনার দাম আপনাকেই বাড়াতে হবে। নিজেকে নিজে যতো ছোট করবেন, আশে-পাশের মানুষগুলোও আপনার পা ধরে ঠিক ততোই আপনাকে নিচে নামাতে থাকবে; আর এটাই ধ্রুব সত্য।

বলছি না, দম্ভ নিয়ে চলুন। শুধু বলছি, নিজের ব্যক্তিত্ব বজায় রেখে আগে নিজেকে নিজে সম্মান করতে শিখুন। লক্ষ্য রাখুন, ব্যক্তিত্ব রক্ষার্থে আবার অহংকারী হয়ে উঠবেন না যেন।

ধৈর্য ধরুন। তার অর্থ এই নয় সকল অন্যায় অপবাদই আপনি মাথা পেতে নেবেন। মাত্রা বুঝে প্রতিবাদ করুন। বুঝিয়ে দিন আপনি কারও কাছে নিজের মাথা বিক্রি করে দেননি।

প্রতিবাদের ভাষা ঠিক করুন। কাকে কোন ভাষায় বলবেন, তা নিজের সেন্স দিয়ে ইন্ডিকেট করে রাখুন। দেখবেন, প্রতিবাদ করতে গিয়ে আবার না অসহনশীল হয়ে পড়েন।

আপনি যদি ছিঁচ কাঁদুনে হোন, সে স্বভাব একদম ঝেড়ে ফেলুন। আজকাল কেঁদে মামলা জেতানো যায় না। বরংচ নিজেকে নিয়ন্ত্রিত রেখে স্থির হোন। মনে রাখুন, নিরব প্রতিবাদের মতো স্ট্রং আর অন্য কিছুতে নেই। নিরবতা মানেই কিন্তু সয়ে যাওয়া নয়। নিরব থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করুন শুধুই নিজের সাথে।

এই ক্রিটিক্যাল সংসারে নিজের রক্তও কিন্তু সব সময় বিশ্বস্ত নয়। বলছি না নিজের মধ্যে সব চেপে রাখুন। তবে যদি তা রাখতে পারেন সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কেউ আপনার গতিবিধি আগে থেকেই আঁচ করতে পারবে না।

নিজের বুদ্ধি বাড়াতে ব্রেইন কালচার করুন। বেশি বেশি পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এবার সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি গণ্ডি তৈরি করুন। নিজেকে ওই গণ্ডির মধ্যে যা খুশি তাই ভাবে বিচরণ করতে দিন।

যে গেট আপে আপনাকে মানায় এমন স্মার্ট গেট আপে থাকুন, যেন কেউ আপনাকে ছোট করতে না পারে। সুন্দর করে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কথা বলুন কম, শুনুন বেশি। যাই বলবেন, যুক্তিতে বলুন। যে বা যারা আপনাকে হেয় করে, তাদেরকে জীবন থেকে কেটে ফেলা না গেলে ঝেড়ে ফেলুন। ড্যাম্প কেয়ার দেখাতে গিয়ে অন্য ভুল করে বসবেন না যেন। জাস্ট এটুকু বুঝিয়ে দিন তাদের ছাড়া একাও আপনি ভালোই থাকেন। নিজের দুর্বল দিক বা অসহায়ত্ব যত-তত্র প্রকাশ করবেন না।

বন্ধু ছাড়া জীবন অচল। একটি সম্পূর্ণ ভুল তথ্য। একটা সময় মানুষ মনে করতো “তুমি ছাড়া আমি বাঁচবো না”। প্রেম ছাড়া বাঁচা যায় না। এটাও কিঞ্চিত ভুল ধারণা। প্রেমটা মনুষ্য থেকে ডাইভার্ট করে জাস্ট শখের কিছুর উপর প্রতিস্থাপন করুন।

সংসারে সমস্যা নেই–এমন কোনো সংসার খুঁজে পাওয়া সত্যিই টাফ। আমাদের প্রত্যেকেই আমরা প্রতিদিনই কিছু না কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাই। কেউ স্বামী বা স্ত্রীর দ্বারা, কেউ অর্থাভাবে, কেউ শাশুড়ি- ননদ, কেউ দাম্পত্য কলহে, অসুখে- বিসুখে এমন আছেই। কারণ, নিজেকে যতো আড়ালে ঢাকি না কেনো, আসলে কেউ সুখী নয়।

আসুন, নিজেকে নিজে সম্মান করতে শিখি। নিজেই নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলি। ভুল করেও চেহারায় দুঃখী ভাব আনবেন না। যে বিষয়গুলো আপনাকে কষ্ট দেয়, তা থেকে দূরে থাকুন। নিজেকে সুস্থভাবে বাঁচানোর সব আয়োজন আপনাকেই করতে হবে।

ভালোবাসুন প্রাণ খুলে। এ ভালোবাসার যারা যোগ্য নয়, আপনাকে অবমূল্যায়ন করে তাদের বয়কট করুন মনে মনে।তাই এদের দেয়া আঘাত পেয়ে হুট করে কাঁদতে বসে যাবেন না যেন। মনে রাখুন, সে আপনার জীবনের জন্য কতোটা জরুরি। তাকে শান্তভাবে বোঝান। হৈ চৈ রাগারাগি দিয়ে কিছুই করতে পারবেন না। মোট কথা, নিজেকে, নিজের মতামতকে প্রতিষ্ঠা করতে আগে ছাড়ুন; এরপর সুযোগ বুঝে আগে বাড়ুন। মোট কথা, নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব আপনার নিজের।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 3.7K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    3.7K
    Shares

লেখাটি ৮,৫৭১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.