‘তাঁহারা’ এতো ভীতু কেন?

দীপনা চাকমা দীপু:

হিল উইমেন্স ফেডারেশনের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেত্রী কল্পনা চাকমাকে অপহরণ করেছিল রাতের আঁধারে লোকচক্ষুর আড়ালে। যার হদিস এখনো আমরা পাইনি। সরকার, সেনাবাহিনী আজো কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। কল্পনা চাকমা এমন কতোটা শক্তিশালী ছিলেন যে, তাঁকে দলবেঁধে চোরের মতো রাতদুপুরে সেনাবাহিনীর তখনকার লেফট্যানেন্ট ফেরদৌস অপহরণ করেছিল? তার নিশ্চয়ই প্রকাশ্যে কল্পনা চাকমার মুখোমুখি হওয়ার সাহস ছিল না।

কল্পনা অপহরণ ধামাচাপা দেয়ার জন্য তাদের কত নাটকীয়তা! হেলিকপ্টার থেকে পুরস্কারের লোভ দেখিয়ে কল্পনার সন্ধানে লিফলেট ছড়ানো। কত কত ধরনের হাস্যকর কথাবার্তা!
কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে নিরাপদ এলাকায় ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হওয়া তনুর ধর্ষক ও হত্যাকারীদের বাঁচানোর জন্য তারা যে কী ধরনের নিকৃষ্টতম পন্থা অবলম্বন করেছে, সেটা সমতলের বাঙ্গালীরা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন। তনুর ফরেনসিক রিপোর্টের কাহিনী অপরাধ বিষয়ক সিনেমার কাহিনীগুলোকে পর্যন্ত হার মানিয়েছে।
তনুকে কয়জন মনে রেখেছে? আদৌ কি তার ধর্ষণ ও হত্যার সঠিক বিচার হবে কোনদিন? কেমন আছে তনুর পরিবার?

রমেল। এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং একটি চোখে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এরপরও উচ্চ শিক্ষার আশায় অনেক স্বপ্ন নিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাকে বাংলার গর্ব সোনার সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাজার থেকে তুলে নিয়ে চরম নির্যাতন করে মুমূর্ষ অবস্থায় পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে নিজেদের দায়ভার এড়িয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যিস দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা বুদ্ধিমান ছিলেন। তিনি মুমূর্ষ রমেলকে নিজের হেফাজতে নিতে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে সেনারা রাঙ্গামাটি মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়, কিন্তু মেডিকেল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে রেফার করেন। তারপর চট্টগ্রামে চিকিৎসারত অবস্থায় রমেলের জীবন প্রদীপ নিভে যায়।
কিন্তু সেনাবাহিনীর হাতে জীবন দিয়েও রমেলের এতটুকু শান্তি মেলেনি। সেনাবাহিনী রমেলের জীবিত দেহকে যতটা না ভয় পেয়েছে, তার শতগুণ ভয় পেয়েছে মৃতদেহকে। তাই তারা দিশেহারা হয়ে রমেলের মৃতদেহ পরিবারের হাতে তুলে দিতে না দিতেই আবার ছিনিয়ে নিয়ে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষুকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে সবার অলক্ষ্যে পেট্রোল দিয়ে পুড়িয়ে ফেলে।

রমেলের নির্যাতনকারী হত্যাকারীদের শাস্তি হয় না, বরং পদোন্নতি হয়।

বিলাইছড়ির অড়াপাড়ার কিশোরী দু ‘বোনের ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত সেনাবাহিনীর সদস্যরা এখন ভয়ে দিশেহারা। রাঙ্গামাটি মেডিকেল হাসপাতালে একপ্রকার বন্দী অবস্থায় রেখেছে ওই তরুণীদের। তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য জুম্ম দালাল মাদকাসক্ত বোধহীন রাসেল মার্মাকে দিয়ে তাদের পোষ্য সাংবাদিকদের এনে সাংবাদিক সম্মেলনের নাটক মঞ্চত্ব করে। তাদের শেখানো বুলি আওড়ানো হয়েছে রাসেল মার্মার মুখ দিয়ে।

কিন্তু চাকমা রানী য়েন য়েন এর পোস্ট পড়ে সবাই জেনে গেছে প্রকৃত ঘটনা কী এবং ধর্ষক কারা। সেনা সদস্য কর্তৃক ধর্ষিতার ছোটভাই অকপটে বলে দিয়েছে সবকিছু। ভয়, হুমকি দিয়ে বড়দের মুখ বন্ধ করা যায়, কিন্তু ছোটদের মুখ বন্ধ করা যায় না।

এতোকিছুর নাটকের পরেও তাদের দুর্বল নাটকীয়তা শেষ হচ্ছে না। স্ক্রিপ্ট বড়োই দুর্বল এক্ষেত্রে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী তাদের অপকর্মের দায়ভার চাপিয়ে দিয়েছে তাদেরই সাথে থাকা আনসার বাহিনীর এক নিরীহ সদস্যের ওপর। বেচারা আনসার সদস্যকে বলির পাঁঠা বানানো হলো।

এই মুহূর্তে উপলব্ধি করছি বিডিআর বিদ্রোহ তো এমনি এমনি হয়নি। চরম অসন্তোষ আর সীমাহীন অরাজকতাই এর মূলে ছিল। তবে আমি বিডিআর বিদ্রোহের মতো অনাকাঙ্খিত ঘটনা বাংলাদেশে পুনর্বার চাই না। একজন বাংলাদেশী হিসেবে আমি রাষ্ট্রের উন্নতি ও মঙ্গল কামনাই করি। সেইসাথে রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পাহাড়ের বাসিন্দারাও যাতে সব ধরনের নির্যাতন থেকে রেহাই পায়, সেই আশ্বাস চাই সর্বাধিনায়কের কাছ থেকে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.