বিয়ে-প্রেম-পরকীয়া-ওপেন রিলেশন; কিছু ‘বৈধ’ প্রশ্নের ‘অবৈধ’ উত্তর

শেখ তাসলিমা মুন:

কোনো বিষয় নিয়ে লেখা মানে আমি সেটি সাজেস্ট করছি বা কোনো রেসিপি দিচ্ছি, এটা ভাবা অমূলক এবং নির্বুদ্ধিতার। একটি বিষয়ের বহুবিধ দিকগুলো খোলসা করা, খোলসা হওয়া মানুষের মেধার দাবী। ‘পরকীয়া’ কী বা সেটি আদৌ এক্সিস্ট করে কিনা সেটি লিখতে গেলে যদি আমাকে প্রশ্ন করা হয়, আমি পরকীয়া করি কীনা, তাহলে বলবো, কিছু লিখতে গেলে যদি সেটি ‘হতে হয়’ তাহলে মানুষকে এক জীবনে কত কী হতে হয়? এতো ‘হওয়া’ কি এক জীবনে সম্ভব?

ফেসবুকে সমকামিতা কি এটি নিয়ে লিখতে গিয়ে কতবার যে শুনেছি, ‘আমি সমকামী’! হাসতে হাসতে বলেছি, ‘নারে ভাই, তেমন কিছু এখনও টের পাই নাই! এখনও পুরুষ মানুষই টানে!’ হিন্দুদের উপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে লিখতে গিয়ে শুনেছি, ‘ঐ মহিলা নির্ঘাত হিন্দু, তার উপর সিঁদুর পরে!’ হেসে বলেছি, আমাদের গোঁড়া আদতে মুসলিম আছিলো না! কয় জেনারেশনের মছলমান আমরা! তার আগে ডোম, শুদ্র ছিলাম। এলিট হিন্দুদের কাছে মাইর খাইতাম, এলায় মছলমান হয়ে যাই।

যাক আজকের বিষয়ে লিখতে গিয়ে সমকামী বিষয়ে শুধু আর একটি কথা বলে শেষ করবো। সমকামী  বিষয়ে লিখতে গেলেই এক বিশাল জনতা ক্ষেপে মারতে আসতো। আমি তাদের বলেছি, ভাইরে, হোমো সেক্সুয়ালিটি কোনো মুভমেন্ট না। ছোঁয়াচে রোগও না। পানিবাহিত মহামারীও না। আপনি সমলিঙ্গে আকর্ষণ বোধ না করলে আপনি ‘সেইফ’! টেনশন নিয়েন না। যারা ঐডা যারা তাদের উপর বিষয়টা ছাইড়া দেন। হোমো প্রিটেনশন করে হওয়া যায় না। আবার একজন হোমোকে জোর করে ‘স্ট্রেইট’ বানাইলেও, সে স্ট্রেইট থাকতে পারে না। গুটি বসন্তের মতো আসল বিষয় বের হয়েই পড়ে। চুপায় রাখা যায় না।

কেন এ বিষয়টি আলোচনায় আনছি, বলছি। কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা মেধাবী মানুষের একটি মেধার ক্ষুধা। একটি বিষয়ে বদ্ধমূল ধারণায় মানুষ কোনদিন থাকেনি। তাহলে আজ আমরা যেখানে, সেখানে থাকতাম না। আমরা সেই গাছের পাতা পরিধান করিয়া শীত নিবারণ করিতাম। শরীরের ভিত্রে কী আছে, সেইডা নিয়া যদি ডাক্তাররা কাটা ছিঁড়া না করতো, তাইলে রোগও নির্ণয় করা যাইতো না। রোগ কোথায় বাস বাঁধিয়াছে তাও জানা হইতো না এবং তার প্রতিকারও কেউ আবিষ্কার করতে পারতো না। পাতলা পায়খানায়ই মারা পড়তো গ্রামকে গ্রাম।

এবার আসল কথায় আসি। ‘পরকীয়া’  কী তা বিশ্লেষণ করলে তাকে পরকীয়া করতে হয় না। এমনিতেই এ বিষয় নিয়ে জানার আগ্রহ জন্মাতে পারে। কারণ ‘বাঁচতে হইলে জানতে হইবে’ সহজ ফিলসফি।

মার্ক্স-এঙ্গেলস অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণ থিওরি দিয়ে উন্মোচন করে দিয়ে গেছেন। তার সব থিওরির পক্ষে-বিপক্ষে আজও আলোচনা থেমে নেই। ফ্রয়েড মনোজগত উন্মোচন করে গেছেন। তার পক্ষে ও বিপক্ষেও আলোচনা থেমে নেই। Friedrich Nietzsche ‘ঈশ্বর মৃত’ বলে ঘোষণা দিয়ে নিজেই মরার জোগাড় করেছিল। এখন সে কথা বলে এ যুগেও আমাদের ঘাড়ে মাথা থাকতেছে না। সিমোন দ্য বুভুয়া উন্মোচন করেছিল নারী কিভাবে ‘দ্বিতীয় লিঙ্গ’। আজও নারীবাদের কপালে ডাল ঘণ্ট রান্না হচ্ছে, শীল পাটায় বাটা হচ্ছে।

তাহলে কী দাঁড়াচ্ছে? এতো ঘণ্ট ঘুটার পরও আলোচনা কিন্তু থামিয়ে রাখা যাচ্ছে না। এটা মানুষের চরিত্রের ভেতরে একটি আচরণ, জন্মগত। প্রথাভিত্তিক বিষয়গুলো নেড়েচেড়ে দেখা। ভেতরে প্রবেশ করা। বিশ্লেষণ করা। এটা সাজেশন নয়। উপদেশ নয়। এটা দৃষ্টিভঙ্গি। একই বিষয়ের মাল্টিপল দিক। চয়েস ইজ ইয়ুরস! যা ভালো লাগে, তা ভালো লাগে। যা লাগে না, তা লাগে না। বিষয়গুলো এর থেকে জটিল নয়।

পৃথিবীতে যদি আট বিলিয়ন মানুষ হয় ধরে নেই, তাহলে এই আট বিলিয়ন মানুষের লাইফ স্ট্যান্ডার্ড এক নয়। বিশাল এক জনগোষ্ঠী মিনিমাম জীবন যাপনের মানেই পৌঁছুতে পারেনি। ক্ষুধা আর অন্ন নিয়ে যাদের যুদ্ধ। জানি, তবু এটাও তো সত্য যে, মানুষ এন্টার্কটিকার স্বাস্থ্য নিয়েও ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। মহাশূন্যের গবেষণাও বন্ধ রাখতে পারছে না। প্রযুক্তি গবেষণাও থামাতে পারছে না।

ঠিক একইভাবে মানুষের একটি বিরাট অংশ এখনও অন্ধকার দর্শনের ছায়ায় বাস করছে। একটি প্যাটার্নে বাস করছে। তাদের সুখ দুঃখ উন্নয়ন সেই ফর্মুলা ও ডায়াস অনুযায়ী ঘুরছে। যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে, তার কারণ ও সমাধানও সেই ফর্মুলা ডিজাইনের ভেতর চলছে। এখন তার বাইরের কোনো আলোচনা আছে কিনা সেটা নিয়ে ভাবনা এবং আলোচনার পথ উন্মোচন করতে গেলেই একটি বিরাট ঝাঁকুনি লাগছে। আক্রমণ চলছে।

এটা সত্য, যা আমি ‘ধারণা’গতভাবে নিজের ভেতর গ্রহণ করেছি, সেটি আমার পায়ের নিচের একটি ভিত। ফাউন্ডেশন। আমার হোল এক্সিস্টেন্স। আমার বেঁচে থাকার অর্থপূর্ণতা। সে প্লাটফর্ম আমার জীবনের অক্সিজেন। হঠাৎ সে অক্সিজেন চলে গেলে শ্বাসরোধ হয়ে আসে। নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়। পায়ের নিচের মাটি সরে যায়। মনে হয় যা আমার শক্তি, যা আমার জীবনের অর্থ ও নোবলনেস,  সেটি না থাকলে আমি কীভাবে নিজেকে চিনবো? কোন আয়নায়? কীভাবে বাঁচবো? কী আঁকড়ে ধরে? 

আমি বলবো, সেটি একটি ভাঙচুর। একটি ট্রানজিশন। এর বেশি নয়।  প্রতিবার ট্রাভেল করার সময় যখন একটি মিডল কান্ট্রির এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে হয়, সে ট্রানজিশনটি একটু ক্লেশের হয়। কিন্তু সেটি হলো পুরনো প্লেস থেকে নতুন প্লেসে যাওয়ার একটি অবস্থান। নতুন একটি দেশে পৌঁছুতে যাত্রা বিরতি। নতুন একটি দেশে এসে তখন নতুন সব দৃশ্য জায়গা ভাবনা অভ্যেস মানুষকে আবারও একটি নতুন অস্তিত্ব দেয়। সে আবারও তাকে চিনতে শুরু করে, নতুন আলোয় নতুন আয়নায়। কিন্তু ট্রানজিশনকে চিরকাল মানুষের ভয়।

বলছিলাম, বাংলাদেশের পারিবারিক প্রথা সমস্ত সমাজের ভিত। সেখানে সম্পর্কগুলো আত্মিক থেকে প্যাটার্নে গড়া। একজন মানুষ সেখানে মাত্র একটি মানুষকে বিয়ে করে না। মানুষ বিয়ে করে সমস্ত পরিবারটিকে। এটা ওয়ার্ক করলে স্বর্গ। ওয়ার্ক না করলে যাবজ্জীবন নরক। কিন্তু থাকতে হবে ভাগ্য মেনে। ভাঙলে শেকড় বাকড় নাড়ি ভুঁড়ি ধরে টান। এতো সাহস কার? কিন্তু সেজন্য বাইপাস হয়ে নাড়ির পাশে নাড়ি তৈরি হয়ে বেরিয়ে যায়। শাখার প্রশাখা হয়ে যায়। থামানো যায় না। যতক্ষণ অন্তরালে থাকবে, ততক্ষণ কোনো সমস্যা নেই। প্রকাশ হয়ে পড়লেই বিপর্যয়।

এ ডিজাইনগুলোতে প্রেম নয়, সম্পর্ক দরকারি। আর এ সম্পর্ক দু ধরনের।  এক রক্তের, আরেক বৈবাহিক। দুটোই দৈব এবং চেপে থাকে বা থাকতে হবে আমৃত্যু। এই যখন চিত্র, সেখানে সম্পর্কের বুহুদিক আলোচনার অবকাশ কোথায়? আমার বক্তব্য, যা উপরে বললাম অবকাশ না থাকলেও বিষয়টি কিন্তু এক্সিস্ট করে। তাকে কার্পেটের নিচে ঝাড়ু দিয়ে চাপা দিয়ে রাখার চেষ্টা করাই যায়, কিন্তু বিষয়টি কার্পেটের নিচেও থেকে যায়, থাকে। প্রশ্ন,  আমরা কি সেটা সেখানেই থাকতে দেবো? না সেটি কী, তা নিয়ে কৌতূহলি হবো? বের করে এনে দেখতে চাইবো সেটি আসলে কী?

‘ভালবাসা’ ‘বিবাহ’ ‘পরকীয়া’ ‘প্রেম’ ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ‘ফেইথফুলনেস’ ‘প্রতিশ্রুতি’ ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ ‘মুক্তি’  এর সবগুলোই হিউম্যান নেচার ও তার অ্যাক্ট। মানুষের স্বভাবগত আচরণ। একে আসলে কোনো ইনজেকশন পুশ করে আটকে রাখা যায় না। কার কোনটা হবে এবং হবে না, সে বিষয়ে কোনো পূর্ব রুটিন দেওয়া যায় না। দিলেও রুটিনভঙ্গ হয়। আর তখন আমরা কথা বলি। ওহ আহ উহ কীভাবে কী রূপে, কেন, এমন অনেক প্রশ্নবাণে জর্জরিত হই এবং অন্যকে জর্জরিত করি।

সিমোন দ্য বুভুয়া এবং সার্তে ৫১ বছর একটি ‘ওপেন রিলেশনশিপে’ ছিলেন। কিন্তু সেজন্য এখনও ঘরে ঘরে ‘ওপেন রিলেশন’ হয়ে যায়নি। সত্য কথা বলতে পৃথিবীব্যাপী এখনও ‘ওপেন রিলেশনশিপ’ নিয়ে ধারণাটিই পরিষ্কার হয়নি। এখনও সিমোন দ্য বুভুয়া এবং সার্তের রিলেশন ব্যাপক অস্পষ্টতার ভেতর এবং মিস আন্ডারস্টুড। এবং একই সাথে এখনও তারা এ সময়ের সবচাইতে মডার্ন কাপল।

কনসেপ্টটি খুব জটিল কিছু নয়। মানুষ মানুষকে ভালবাসে বলে তার ওনারশিপ নিয়ে নেয় না। এটাই বিষয়টির মূল বক্তব্য। মানুষ মানুষকে পজেজ করে না বা চাইলেও তা করা সম্ভব হয় না। ভালবাসা এক, আর আমাকে, আমার আমাকে, আমার শরীর মনকে কেউ ওউন করে না, সেটি আরেক। এবং সেক্সুয়ালিটিকেও কেউ ওউন করে না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ। আমি রিপিট করছি, মানুষ মানুষের সেক্সুয়ালিটিকে ওউন করতে পারে না। এ কনসেপ্টটি ক্লিয়ার হওয়া খুবই দরকারি।

এর মানে বহুগামিতার সনদপত্র এনশিওর করা, সেটি ভাবলে বিষয়টির সরলীকরণ যেমন হয়, একইভাবে বিষয়টির অভ্যন্তরে প্রবেশ ঘটেনি, সেটিও প্রমাণ হয়। ‘বহুগামিতা এখানে ভিত্তিপ্রস্তর নয়, ভিত্তিপ্রস্তর হলো তোমার সেক্সুয়ালিটি সম্পূর্ণ তোমার। সম্পর্ক মানেই তাকে কাউকে দস্তখৎ করে দেওয়া হয়নি। এবং তা দিয়েছি বলে যতো আমরা প্রিটেন্ড করবো, ততো সেটি ফেইল করবে। ততো সেটি ভেঙে পড়বে। ‘অপরাধ’ জমবে। কাজগুলো নিজের কাছেই অন্যায় ও অপরাধ হয়ে নিজেকে ও অন্যকে দূষিত করে তুলবে।  যখন তুমি এ বিষয়ে কোন দস্তখত না দেবে, তত তোমার দায়িত্ববোধ আপন জীবনযাপন করতে পারবে। বাধ্যবাধকতায় নয়, সে তখন যা করবে নিজ দায়িত্বজ্ঞানে করবে।

এটা সৎ সাহসী মানুষেরাই রিয়ালাইজ করে এবং মোকাবেলা করে। সিমোন দ্য বুভুয়া এবং সার্ত এটি রিয়ালাইজ করেন এবং তারা একে অপরের কোনকিছু পজেজ না করে একত্র জীবন যাপন করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি একটি স্বেচ্ছা অ্যাক্ট। স্বেচ্ছা সিদ্ধান্ত। কেউ কাউকে বাধ্য করবেনা। কেবল মনের নির্দেশে তারা তাদের কাছে আসবে। এভাবে তারা ৫১ বছর কাপল জীবন কাটিয়ে যায় সার্তের মৃত্যু অবধি। এ সম্পর্কটি ‘ওপেন রিলেশন’ এর এখনও একটি একক উদাহরণ। যা এখন ফেসবুকের রিলেশন স্ট্যাটাসে অপশন হিসেবে দেখা যায়। আলোচনা সমালোচনায় যার যেমন খুশি ব্যাখ্যা দিয়ে যায়।

মানুষ হয় মুক্ত, নয়তো মুক্ত নয়। হয় সে নিজেকে একটি ডিজাইন বা একটি প্যাটার্নে দেখে, নতুবা নয়। পৃথিবীর স্টাব্লিস্টমেন্ট একদিনে গড়ে উঠে নাই। মগজের পরতে পরতে সেগুলো ঢুকে আছে। মানুষকে সামন্ততন্ত্র থেকে শুরু করে আজকের পুরুষতন্ত্র পর্যন্ত যুদ্ধ করতে হচ্ছে, আর এ তন্ত্রগুলোর যোগসূত্রতা আবিষ্কার করা একটু ভাবলেই সম্ভব। এক বন্দিত্ব থেকে এমান্সিপেটেড হয়ে আরেকদিকে বন্দিত্বের জয়গান গেয়ে যাই আমরা, কারণ সেখানটার ডিজাইনটা এখনও মগজে বলবৎ রয়ে গেছে। সেখানটার বন্ধনমুক্তি ঘটেনি। শৃঙ্খল মুক্তি ঘটেনি। সব মুক্ত হয়েও যতক্ষণ পর্যন্ত একটিমাত্র জায়গায়ও একটি পাথরে ঠেকে আছি, মনে করতে হবে ঠেকে আছি। ডান-বাঁ পাশ থেকে পানি ছুটছে, কিন্তু আমার সবটা নিয়ে আমি রান করতে পারছি না ঐ পাথরটা সরে না যাওয়া পর্যন্ত। ঐ পাথরটা সরে না যাওয়া পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতেই হবে হুড়মুড়িয়ে বেরিয়ে যাবার জন্য।

মূলত মার্কস-এঙ্গেলসের অর্থনৈতিক মুক্তির কথা যদি বুঝতে পারি, তাহলে ফ্রয়েডের মনোমুক্তির কথা বুঝতে পারবো, রুশোর শৃঙ্খলমুক্তি যদি বুঝতে পারি, তাহলে অভিজিত রায়ের ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ থেকে মুক্তি কী, বুঝতে পারবো। নিৎসের গড কেন মরেছে তাও বুঝতে পারবো। বুঝতে পারবো লিঙ্গ মুক্তির কথা। বৈষম্যের কথা। যেকোনো বিষয় যখন এস্টাব্লিস্টমেন্ট হিসেবে আমাদের মগজের মাথায় চেপে বসে, তখন বুঝবে মানুষ কোনো না কোনভাবে তার দ্বারা শৃঙ্খলিত, কোন না কোনভাবে তাকে ‘পাথরচাপা’ দিয়ে রাখার চেষ্টা সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে।

মানুষকে, মানুষের ক্ষমতা ও স্বাধীনতাকে সীমিত ও খর্ব করে রাখা হয়েছে। তা কখনও তন্ত্র, কখনও সিস্টেম, কখনও বিধান, কখনও ধর্ম, কখনও মূল্যবোধ, কখনও সবলের সুবিধার জন্য দুর্বলের ভিক্টিম অবস্থাকে জিইয়ে রাখার ষড়যন্ত্র। সে ষড়যন্ত্র ঘাড়ের উপর মগজের উপর বিভিন্নভাবে আদর্শায়িত। যদি একটি বৈষম্যকে অনুধাবন করে থাকো, তাহলে পরিষ্কার দেখবে সকল বৈষম্যের সাথে সকল বৈষম্যের যোগ সম্পর্ক। এর মূল কারণ এক্সপ্লয়টেশন।

তখনই বুঝবে বিবাহ-প্রতিশ্রুতি-Infidelity-প্রেম-পরকীয়া শব্দগুলো এস্টাব্লিস্টমেন্টের তৈরি। এর কোনো মূল্য আসলেই নেই। নিজেকে এসব শব্দের দাস ভাবার প্রশ্ন তখনই আসে, যখন আমি আমার জীবন এখনও স্বাধীনভাবে বুঝে নেইনি। আমি এখনও আমার ক্ষমতা ও দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জানি না। এখনও অন্যের বানানো ছকে পা দিয়ে আমাকে জীবন গুজরান করতে হচ্ছে।  নিজের  ছক নিজে কীভাবে বানাতে হয় আমার জানা নেই। নতুনদার মতো আমার জীবন ষোল আনাই মিছে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.