‘বিবাহিতের প্রেমে পড়া হিসেবি মানুষের কম্মো নয়’

পিংকি মাইতি:

সমবয়সি, সুদর্শন তরুণ যুবার প্রেমে পড়া খুব সহজ, কিন্তু নিঃসঙ্গ বিবাহিত প্রৌঢ়ের প্রেমে পড়তে হলে, সুন্দর ‘হৃদয়’ থাকতে হয়, সংস্কারমুক্ত মন থাকতে হয়; মোদ্দা কথায়-বুকের পাটা থাকতে হয়, দম থাকতে হয়। এ আমার-আপনার মতো কট্টর বাস্তবাদী, হিসেবি, আত্মকেন্দ্রিক সাধারণ মানুষের কম্মো না।

খুব পরিণত মন না থাকলে, মহৎ হৃদয় না থাকলে, কেউ এই ধরনের অসমপ্রেমে পড়ে না।
যেখানে শারীরিক চাহিদাটা মুখ্য নয়, বরং মুখ্য হয়ে ওঠে আবেগ, সরলতা,বিশ্বাস- বন্ধুত্ব। অসম প্রেমে পড়া যত না কঠিন, তারও চেয়ে কঠিন-বিশ্বাস, ভালোবাসা,ভরসার ‘সার-জল’ দিয়ে এই সমস্ত সম্পর্কগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা।

দু’জনের উদ্দেশ্য যদি এক না হয়, উভয়পক্ষ থেকে যদি সমান ত্যাগ-তিতিক্ষা না থাকে, তবে একজনের বিশ্বাস, সততা, হৃদয় উজাড় আবেগকে সুযোগ সন্ধানীরা ভালোবাসা নয়, ‘সুযোগ’ হিসেবে নেয় মাত্র।

লোক সমাজের পরোয়া না করে, এইধরনের সম্পর্কে জড়ানোর চ্যালেঞ্জটা যদি নিয়ে নিতেই পারো মেয়ে, তবে সেই সমাজের কাছেই আবার ‘স্বপ্নভঙ্গের’ বিচার চাও কোন্ আশায়?

বিচার যদি না-ই চাও, তবে অন্যকে সাবধান করার বিন্দুমাত্র দায়ও তোমার নেই; কারণ আবারও যে এই ‘সর্বনাশা প্রেমে’ পড়বে, সে তোমার ওই স্ক্রিনশটের তোয়াক্কা না করেই পড়বে।
আর এই ধরনের ভণ্ড, প্রতারক, বিশ্বাসঘাতক, মুখোশধারী, ‘সৃজনশীল’ মানুষের অতীব সৃজনশীলতায় সব প্রমাণ এক ফুঁ-ফুৎকারে উড়ে গিয়ে তোমার গায়েই ‘নষ্টা’ মেয়ের ট্যাগ লাগাতে কতক্ষণ!

বরং হাসিমুখে এর দায়টা স্বীকার করতে শেখো; তাতে অন্তত এইধরনের ক্যালকুলেটিভ, প্র্যাক্টিক্যাল মানুষগুলোর কাছে চা-এর সাথে টা-এর মতো মুচমুচে মুখরোচক চানাচুর হয়ে উঠবে না।

দাঁতে দাঁত চেপে শাওয়ারের নিচে দাঁড়াও, বালিশে মুখ গোঁজো; এই নিষ্ঠুর হিসেবি সমাজ তোমার চোখের জলের দাম দেবে না মেয়ে!

আমরা ‘বিবাহিত’ বুঝি, ‘বাপের বয়সি’ বুঝি। কিন্তু এটা বুঝি না-প্রেমহীন, ভালোবাসার উত্তাপহীন শীতল দাম্পত্যের মতো বড়ো বালাই আর হয় না। সেখানে শুধু থাকে দায়-দায়িত্ব আর কর্তব্য; সেখানে আর যাই হোক ‘প্রেম’ থাকে না।

এই সো-কল্ড সমাজের মুখে লাথি মেরে বেরিয়ে আসার সাহস কিংবা উপায় হয়তো সবার থাকে না, তাই বলে প্রেম-ভালোবাসা, আবেগ-ইমোশনগুলো তো আর নিঃশেষ হয়ে যায় না।

একজন নিঃসঙ্গ, অসহায়, প্রৌঢ়কে দয়িতের স্থান দিয়ে বুকে টেনে নিতে শুধুমাত্র যৌন চাহিদা নয়, বরং স্নেহ-মায়া-মমতায় সিক্ত কিঞ্চিৎ বাৎসল্য প্রেমেরও প্রয়োজন হয়।

এরা ‘বিবাহিত’ বোঝে, ‘বাপের বয়সি’বোঝে, ‘হর্সপাওয়ার’বোঝে, ‘হাল-চাষ’ বোঝে, ‘ভায়াগ্রা’ বোঝে,
‘কলিকাতা হার্বাল’ও বেশ ভালোই বোঝে, কিন্তু ‘কুয়োর’ বাইরে বেরিয়ে আর কিছু বুঝতে চায় না, বোঝার চেষ্টাটুকুও করে না। আর তাই, শত-শত তরুণ-যুবার আশায় জল ঢেলে, তাদের রাতজাগা দীর্ঘশ্বাসের কারণ হয়ে, এখন আর তাদের তুমি তোমার ওই ‘বুড়ো-দামড়া’র সাথে ‘খামচা-খামচি’র স্ক্রিনশট দেখাতে এসো না।

একবার যখন বুক ফুলিয়ে প্রচলিত ধ্যান-ধারণাকে তুড়ি মেরে, স্রোতের বিপরীতে হাঁটার সাহস দেখিয়েছো, তখন অন্তত এই চলাটুকু থামিয়ে দিও না। স্ক্রিনশট-টটের মতো বোকা বোকা ব্যাপারগুলো আসলেই তোমাকে ঠিক মানায় না মেয়ে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.