না, আমি ভিকটিম ব্লেম করছি না

0

ফাহমি ইলা:

‘হুমায়ূন আহমেদকে আমি ভালা পাই। সে আমার আইডল, আমি তার ভিতরে নিমজ্জিত।’ এই ডায়ালগ দিয়ে কেউ হুমায়ুন আহমেদের হিমু ফলো করে, কেউ মিসির আলীকে, কেউ স্বয়ং হুমায়ুন আহমেদের জীবনরে। তাতে আমার কিছু এসে যায় না। কিন্তু এটা ধরে নিলেই চলবে কেনো যে তার সাথে থাকা অপরপক্ষও হুমায়ুন সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হবে?

প্রেম ভালো জিনিষ, স্বাস্থ্যকরও বটে। কিন্তু প্রেম করার সময় খুব গোপনে, ভাবজাগানিয়া ইস্টিকুলুমুলু চলবে আর একপক্ষ ঠিক যখন ‘দ্যা এন্ড’ করতে চাইবে তখন প্রতারণা হইবে কেনো? ইস্টিকুলু সময় দুইজনই পার করছে, সেই সময়ের প্রতারণা/ভালোবাসার ভাগিদার দুইজনই। এইখানে এইধরণের প্রেমে কোন প্রতারণা নাই। প্রতারণা হইলে হইতে পারে দুইপক্ষের পরিবারের সাথে(ইফ এপ্লিকেবল)। যদি পরিবারের সাথে কারো ওপেন রিলেশনশীপের মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকে তাকে আমি সাপোর্ট করি। আর এই প্রেমের মধ্যে যদি প্রতারণা হয় তাহলে সেইটা হইতে পারে-জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক, কোন ধরনের ব্ল্যাকমেইলিং করলে।

প্রেম সারাজীবন ধরে করতে হবে এমন কোন বাঁধাধরা নিয়ম আছে নাকি? প্রেম তো মনের মিল, ভালো লাগার বিষয়, ভালো থাকার বিষয়। যদি আমি ভালোবাসা করলাম অজগজর সাথে কিন্তু তিনদিনের মাথায় দেখলাম অজগজর মতাদর্শের সাথে আমার মতাদর্শের বিস্তর ফারাক! তারপরেও আমার তার সাথে থাকতে হবে? হাও সেলুকাস! ‘ছেড় না ছেড় না হাত, দেবো না দেবো না গো যেতে, থাকো আমার পাশে।’ -এইটা বাংলা সিনেমার গান। বাংলা সিনেমা জীবন না।

ভিক্টিম ব্লেইমিং ভালো জিনিষ না, তবে তথাকথিত অজ্ঞদের অ-নারীবাদের ফিল্টারড চশমা পইরা থাকাও স্বাস্থ্যকর না যেই ফিল্টারের পাকে ময়লা জীবানু হিসেবে সবসময় বাঁধা পড়বে পুরুষ, আর পয়পরিষ্কার হবে শুধু নারী। আমার নারীবাদে আমি যেহেতু নারীর ন্যায্য অধিকারের কথা বলি সেই বাদে পুরুষতন্ত্র আমার শত্রু, মানবপুরুষ বা মানবীনারী যে কেউ এই তন্ত্রের ওম কম্বল পইরা থাকতে পারেন। তাদের যৌক্তিক সমালোচনা করলে অশুচি হয় না। একটা প্রতারণার সালিশে দুইজন প্রতারক থাকাটা অস্বাভাবিক না, আমাদের মাইনা না নেয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

এইবার আসি আরেকটু ভিন্ন প্রসঙ্গে। ফেসবুক এমন এক জায়গা যেইখানে আজ বন্ধু কাল শত্রু, আজ এরে ছিলে ফেলো কাল ওরে কেটে ফেলো পরশু তারে ভালা পাও। ফেসবুকিও বয়কট বোঝায় এখানে সম্পর্ক কতটা ঠুনকো। একজন মানুষের একদিনের একটি ভুল, অপরাধ দিয়ে আমি তার পুরো কর্ম পুরো আদর্শকে খারিজ করে দিতে পারি? নাকি তার স্পেসিফিক সমালোচনা করতে পারি? একবার দেখলাম একজনকে সবাই মিলে মানসিক রোগী বানায়ে সোজা ডাক্তারের চেম্বার দেখিয়ে দিছিলো। আমার তখন প্রশ্ন ছিলো- ‘আপনি যদি এত পিরিতের বন্ধু হোন তাইলে সেই রোগীর হাতটা ধরে নিজেই কেনো ডাক্তারের চেম্বারে নিয়ে যান না? এত ছোট ছোট কারণে ডাক্তারের বাড়ি, হাজতের শিক দেখায় দেয়াটা সস্তা সম্পর্ক ছাড়া কিছু না। এগুলা বন্ধুত্বও না, বালির বাঁধের মত ফেসবুক বন্ধুত্ব।’ কেউ অপরাধী হলে তারে বোঝান, সমালোচনা করেন, বিচার দরকার পড়লে বিচার করেন। কিন্তু এত্তসহজে ‘কুইট’ বলে চলে যাইয়েন না, তাইলে যাইতেই থাকবেন, যাইতেই থাকবেন, কিছুই পাবেন না।

আরেকটা বিষয়- প্রেম করার সময় ফেসবুক ওপিনিয়ন লিডারদের সামনে স্বাক্ষী রেখে যেহেতু প্রেম করা হয় নাই সেহেতু ভেঙে গেলে এইসব ওপিনিয়ন লিডারের দ্বারস্ত হওয়া কেনো? ফালতু! প্রতারণা হইলে প্রতারণার আইন আছে। ফেসবুক কি সালিশের জায়গা? দেশের সকল অবলা নারীদের কে ‘একে চিনে রাখুন’ বলে সতর্ক করার মাঝে প্রতারণার প্রমাণ থাকা জরুরী, প্রকাশ করা জরুরী। ইস্টিকুলুমুলু প্রেমের সুন্দর সময়কে অপবিত্র করা উচিত না। সস্তা সেন্টিমেন্ট যে দীর্ঘদিনের শক্ত সবল আদর্শবাদী চেহারা গুঁড়িয়ে দিতে পারে সেটা কে কে বোঝেন হাত তুলেন!

আমি সারাদিন নারীবাদী, শুধু একটু সময় দুর্বল। কোনসময়? যখন আমার সেন্টিমেন্টের দরকার হয়। সরি, আমি আমি করতেছি বলে আমারে ভেবে নিয়ে আবার কোন তেলেসমাতি হয়!

শোনেন, আমার চোখভরা জল। আমি কাঁদি, কিন্তু দুর্বল না। আমি ভালোবাসি, কিন্তু প্যাতাপ্যাতা না। আমি আবেগী, কিন্তু তার বেগে আমার আদর্শ যেনো ভেসে না যায় সেদিকে খেয়াল রাখার চেষ্টা করি। নিজের ঘটনা বলি- এক ফেসবুক বন্ধু বলছিলো আমারে সে ভালা পায়। আমি বলছিলাম-‘বৌ জানে?’ সে ইতস্তত হয়ে বলছিলো-‘বৌ জানতে হবে কেনো? আমার স্বাধীনতা নাই পছন্দ করার?’ আমি বলছিলাম-‘আলবত আছে। কিন্তু স্বাধীনতার কথা বৌ জানেতো? মানে বৌয়ের এরম স্বাধীনতা আছেতো?’ তিনি আর কোনদিন আমারে ভালা পান নাই!

এনিওয়ে, অনেকক্ষণ প্যাঁচাল পারলাম। কাল থেকে বিভিন্নজনের পোষ্টের কমেন্টে কমেন্টে আমার অবস্থান পরিষ্কার করেছি। কারো কারো কাছে হয়নি বলে আবার করলাম। আপাতত শুনতেছি ‘ছেড় না ছেড় না হাত, দেবো না দেবো না গো যেতে, থাকো আমার পাশে।’

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 331
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    331
    Shares

লেখাটি ২,৬৫৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.