ভালবাসলে নিজেরে ছোট করতে হয় না

জাহানারা নুরী:

শোনো, যদি প্রেম করতে না জানো, কইরো না। আমি জীবনে প্রথম প্রেমে পড়ছিলাম এমন এক লোকের, যিনি সারা দুনিয়ায় বিখ্যাত এক লোকের অন্ধ অনুচর ছিলেন। আমি তাকে ইংরেজিতে আপনি বলতাম, (মানে ইউ বলে ব্রেকেটে বুঝাইয়া দিতাম এইটা বাংলায় আপনি অর্থে) আর তিনি আমাাকে বাংলায় আপনি বলতেন।
স্ত্রী তার দেশে রাত কাটাইতো অন্য জায়গায়।

যেদিন বুঝছি তার ছয় বছরের ছেলে মাকে মিস করে সেদিনই ছেলেকে বলছি মাকে ফোন করে বলো তুমি তারে মিস্ করো। ফোনটা আমিই ধরাইয়া দিই। এই শিশুটা মা আসার পরও কিন্তু সবার সামনে আমারেই গলা জড়াইয়া ধইরা বলতো ’ওয়ান মিলিয়ন, টেন বিলিয়ন’ মানে ’ওয়ান মিলিয়ন, টেন বিলিয়ন’ চুমু দিতে চায় আমারে।
তার মা বলতো, বাট আই ডিড নট গেট এ সিংগেল। পিচ্চু লজ্জা পাইয়া তখনই মাকে চুমা দিতো।

আমি লাস্ট কথা উনাকে বলছিলাম, ‘আই ওয়ান্ট ইউ টু ট্রাই ওয়ান মোর টাইম। ইফ শি ডাজ নট স্টে, এ্যান্ড ইউ ওয়ান্ট টু কাম ব্যাক, ইউ ক্যান।’

তারপর আমি তিনদিন হাসপাতালে।

তার স্ত্রী অন্য কোনও দেশে একটি পরীর মতো মেয়ে জন্ম দেয় এবং মেয়েটির জন্মের পর দুই কপি ছবি পৃথিবীর দুই দিকে উড়াল দেয়, একটা তার ইঞ্জিনীয়ার নানীর কাছে আরেকটা আমার কাছে।
আমরা কমরেড ছিলাম প্রেমেও, বোধেও।

উনি বলেন আমি এতোদূর আসছি কারণ আপনি যন্ত্রণাগুলো একলা বহন করছেন।
আমি উনাকে বলি আপনার যা পাওয়ার তা থেকে কিছুই আপনাকে ফিরাইতে পারতো না। যা স্বাভাবিক তাই ঘটছে।

ওল্ড ফ্যাশন না? হুম!
কিন্তু আমার কাছে এর চেয়ে স্মার্ট আর কিছু মনে হয় না।

ভালোবাসলে নিজেরে ছোটো করা যায় না, ভালোবাসার মানুষটারেও ছোটো করা যায় না। কারণ আর কাউরে ভালোবাসা মানে কিন্তু নিজেরেও, নিজের সিদ্ধান্তরে, নিজের পছন্দ করার ইচ্ছেটারেও – ভীষণ ভীষণ ভালোবাসা।

আমি বলি না এইটা আইডিয়াল। আমি তোমারে আইডিয়াল হইতে বলি না। তুমি ইচ্ছা করলে লুণ্ঠক হও। মেয়েরা পায় না, ত্যাগ করবে কেন, কেড়ে নেবে – বলতে পারো। বলো। করো। কিন্তু যদি সমানাধিকারের কথা বলো, তোমার কথা তোমার মাপকাঠি। তোমার সততার সীমা। তোমাকে বিচার করতে হবে তুমি নিজের ও অন্যের অধিকারের প্রতি সৎ থাকাটা কতোদূর বাস্তবে চর্চা করতে পারবে। সীমাটা তোমাকে ঠিক করতে হবে, ভিতরে দাহ্য হতে হতে।

এইটা কেউ জানতো না আমি ছাড়া, কাছের বন্ধুরাও না। আমি ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করি না। আজ তোমাদের, আমার পরবর্তি প্রজন্মকে জানালাম। তোমরা, তের, চৌদ্দ, ঊনিশ, বিশ বছরি ছেলেমেয়েরা কী লিখো, কী করো, কী ভাবো জীবনকে, কী ভাবো যৌথতাকে? তোমরা এতো বিক্ষিপ্ত, এতো নিজের কাছ থেকে দূরে কেন? তোমাদের কাছে ইউনিয়ন মানে কি? মৌলিক মনুষ্যত্ব ও মানুষের সম্মিলন কি অর্থ বহন করে তোমাদের কাছে? ভেবে দেখবে প্লিজ!

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.