ধর্ষণের শিকার শিশুর মনস্তত্ত্ব

মালবিকা শীলা:

সব ধর্ষকই সম্ভবত ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্সে ভোগে। ভালোবাসা পাওয়ার যার ক্ষমতা নেই, তারাই ক্ষমতা প্রদর্শন করতে চায় শক্তি, জোর, ভীতি, লোভ অথবা মিথ্যাচারের মাধ্যমে।
পুরুষ ধর্ষক আমরা অহরহ দেখি। তবে ছোট ছেলে বাচ্চারাও অনেক সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়। শিকারিদের দলে নারী পুরুষ দুই-ই আছে।

আমি যে কয়জন পুরুষ অথবা নারীর শৈশবে যৌন নির্যাতনের কথা জেনেছি, সেই নির্যাতকদের কেউই দূরের মানুষ নয়। কাজিন, মামা, চাচা, দুলাভাই, ভাবী, বেবি সিটার, প্রাইভেট টিউটর, কাজের লোক, ড্রাইভার, প্রতিবেশী, স্কুল টিচার, ওপরের ক্লাসে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী এরকম যে কারো কাছ থেকে এইরকম দুঃখজনক ঘটনা ঘটতে পারে।

যারা ভাবে, “বাচ্চা মানুষ, কিছু বুঝবে না, তাই মনেও রাখবে না।” এরা সম্পূর্ণ বোকার রাজ্যে বসবাস করছে। বাচ্চাটি যেহেতু শারীরিক বা মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত নয়, তাই এরকম ঘটনা তার কোমল মনে একটা ভীতিকর দাগ কেটে যাবে। যার ছাপ থেকে যাবে আজীবন।
এরকম ঘটনা থামাতে হলে কিছু জিনিশ বাবা মা আর পরিবারের অন্যান্যদের মাথায় রাখতে হবে,

১) বাচ্চাটি কারো সামনে যেতে অনাগ্রহ অথবা বিরক্তি প্রকাশ করছে। (নিজের মতো করে সবাই থাকতে চায়, কাউকে বিভিন্ন কারণেই অপছন্দ করতে পারে, অপছন্দের সবাই যে সম্ভাব্য ধর্ষক, ঠিক তা নয়, কিন্তু হতেও তো পারে।) তাকে অযথা জোর করবেন না।
২) হঠাৎ করে বাচ্চাটি চুপচাপ হয়ে গেছে।
৩) রাগ, জেদ বেড়ে গেছে।
৪) গোপন করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে।

এগুলোর পিছনে অন্য অনেক কারণই থাকতে পারে, তবুও কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

ক) বাচ্চাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখুন। যাতে তাদের যে কোনো সমস্যা তারা আপনাকে জানাতে পারে।
খ) অন্য কারো কাছে বাচ্চাকে নিশ্চিন্তে ছেড়ে রাখবেন না, সজাগ থাকুন।
গ) বাচ্চারা কার সাথে মেশে, কাদের বাড়ি যায়, সেই বিষয়ে সাবধান থাকুন।
ঘ) আচরণগত পরিবর্তন দেখলে কথা বলুন, বাচ্চাদের বুঝিয়ে দিন, বাবা মা হচ্ছে সন্তানের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য বন্ধু।

শৈশবে ঘটে যাওয়া এরকম কোনো দুর্ঘটনা শিশুটিকে আমূল পাল্টে দিতে পারে। পিতামাতার সামান্যতম উদাসীনতায় কিছু ঘটলে, শিশুটি মনে মনে মা বাবাকেই দায়ী করবে। কাজেই, আপনার সন্তানকে সময় দিন। তাকে বুঝতে শিখুন। তাকে বুঝিয়ে দিন, তার প্রয়োজনে আপনি পাশেই আছেন। সন্তান আর পিতামাতার সম্পর্ক ভালো হলে অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটারই সুযোগ পাবে না। প্রতিটি শিশুর শৈশব হোক নির্মল, আনন্দময়। এরাই তো আমাদের আগামীর কর্ণধার।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.