মেনে নেয়া ও মানিয়ে নেয়ার এই জীবন

0

প্রতিভা রানী:

সম্পূর্ণ ভিন্ন মতালম্বী দু’জন নরনারীর সহাবস্থান কখনওই সুখকর হতে পারে না। কিন্তু আমাদের সমাজে এরকম অসংখ্য দম্পতি আছে, যারা ভিন্ন ভিন্ন মতের। যুগের পর যুগ পাশাপাশি থেকেও তারা বহু দূরের। মন যদি মন ছুঁতেই না পারে, তাহলে সেখানে আর সুখ থাকবে কীভাবে?

তবুও সমাজের দোহাই দিয়ে, পরিবারের সম্মানের কথা ভেবে তারা একত্রে জীবনযাপন করে। কারণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে ডিভোর্স ব্যাপারটাকে খুব একটা সু-দৃষ্টিতে কেউ দেখে না। কেউ ডিভোর্সি শুনলেই আশেপাশের উৎসুক লোকদের এমন কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় যেন ডিভোর্স হয়ে যাওয়ায় কোনো বড় অন্যায় কিংবা মহাপাপ করে ফেলছে। ডিভোর্স না নিয়ে বরং মানিয়ে থাকো। এই মানিয়ে নেয়া আর মেনে নেওয়ার দোটানায় পরে কতশত মেয়ে যে জীবন্মৃত অবস্থায় দিন পার করে! কেউবা আদৌ বেঁচে থাকার রসদটুকুও হারিয়ে ফেলে। কী করতে পারে তখন সমাজ? সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সব ভালোমন্দের উপরে চলে যায়। তখন আফসোস করা ছাড়া আর কীইবা করার থাকে!

প্রতিটা মানুষই তার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মে। পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিকতার কারণে কখনও কখনও কিছু আচরণের পরিবর্তন ঘটলেও নিজস্ব স্বকীয়তা কিন্তু লোপ পায় না। তাই প্রতিটা মানুষই অন্যের থেকে আলাদা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের একটা কমন বৈশিষ্ট্য আছে অপরের বিষয়ে নাক গলানো কিংবা নিজের আয়নায় অপরকে দেখা। ব্যতিক্রম যে নাই তা নয়, তবে তা খুবই নগণ্য।

আমাদের অনেকেরই বড় বড় কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী আছে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা শিক্ষিতরা দেশ-বিদেশে বড় বড় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি, কিন্তু সু-শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পেরেছি কজন? প্রতিদিন আমরা নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে পরিচিত হচ্ছি, পোশাক-আশাকেও অনেক পরিবর্তন এনেছি, কিন্তু মনটাকে, মনের ভিতরের অন্ধকারকে আদৌ কতটুকু মুছে ফেলতে পারছি?

আমাদের প্রত্যেকের উচিত অপরের দুঃসময়ে তার পাশে থেকে মানসিকভাবে শক্তি যোগানোর। কারণ বিবেক হচ্ছে মানুষের প্রথম ও প্রধান আদালত। দিনশেষে একবার হলেও নিজের বিবেকের আদালতে দাঁড়াতে হয়। নিজেকেই প্রশ্ন করতে হয়, আর তার উত্তরও নিজেকেই দিতে হয়। এতো গেলো সমাজের কথা, রইলো বাকি বাবা মা তথা পরিবার।

অনেক বাবা মা কিংবা পরিবার তাদের সামাজিক অবস্থানের কথা বিবেচনা করে তাদের সন্তানদেরকে ডিভোর্স নিতে দেন না। ফলস্বরুপ তিক্ততা বেড়েই চলে প্রতিদিন। সমাজ তো সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারে, মনের স্বীকৃতি সমাজ দিতে পারে না। তাই মিথ্যা সমাজের দোহাই না দিয়ে সন্তানের সুখ, সর্বোপরি স্বস্তিতে জীবন কাটানোর নিশ্চয়তাটুকু দিতে পারেন যা সবার জন্যই মঙ্গলময়।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 363
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    363
    Shares

লেখাটি ১,২১২ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.