ভাইরাসে আক্রান্ত মধ্যপ্রাচ্য, ঝুঁকির তালিকায় বাংলাদেশ

old hajiউইমেন চ্যাপ্টার: সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ছড়িয়ে পড়া মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) করোনা ভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

কানাডার একটি বিশেষজ্ঞ দল সৌদি আরবে এবছরের হজ্ব যাত্রীর সংখ্যা ও আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে আটটি দেশকে এই রোগ বিস্তারের ঝুঁকির সম্ভাবনার মধ্যে ফেলেছেন। তার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে।

কানাডা থেকে প্রকাশিত অনলাইন পত্রিকা নতুনদেশ এ খবর জানিয়েছে।

সম্প্রতি এই ভাইরাস সংক্রমণের খবর প্রকাশের পরপর সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ এবছর বয়োজ্যেষ্ঠ এবং অসুস্থ মুসলিমদের হজ পালন না করার অনুরোধ জানান। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এক বিবৃতিতে এ অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, মার্স ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় ১৩ জুলাই পর্যণ্ত ৩৮ জন মারা গেছে সৌদি আরবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া হজ এবং ওমরাহ হজ পালন করতে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে যাদের হৃদরোগ, কিডনি, শ্বাসকষ্ট এবং ডায়াবেটিস আছে, সেই রোগীদের।

নতুন দেশ জানায়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ধরনের এই রোগটিকে জনস্বাস্থ্যের হুমকি বিবেচনায় ‘ইমার্জেন্সি’ হিসেবে ঘোষণা না করলেও রোগটি ইতিমধ্যে যথেষ্ট আতংক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কি কারণে রোগটি হচ্ছে, কিভাবে এর বিস্তার কিংবা সংক্রমণ ঘটছে তা এখনো আবিষ্কৃত না হওয়ায় আতংক আরো বাড়ছে।

এই পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যে ৮৮জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪৫ জনই মারা গেছে। শতকরা হিসেবে এটি অর্ধেকেরও বেশি।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, কেউ একজন এই রোগে আক্রান্ত হলে দ্রুতই তার পাশের লোকটি আক্রান্ত হচ্ছেন। এমনকি যে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন, সেই হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সরাও আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

কানাডার সেন্ট মাইকেল হাসপাতালের চিকিৎসক ড. কামরান খানের নেতৃত্বে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দল কারোনা ভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন।
ড. কামরান খান এ ব্যাপারে বলেন, আসন্ন হজ্ব মৌসুমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই ভাইরাসটি ছড়িয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রমজানের সময় ওমরাহ করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কোটি কোটি লোক সৌদি আরবে জমায়েত হয়। সবচেয়ে বড় জমায়েত হয় পবিত্র হজের সময়।

ড. খান বলেন, ওমরাহ বা হজ্ব করতে আসা বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা সৌদি আরবে অবস্থানকালে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে নিজেরাও আক্রান্ত হতে পারেন। পরে সেই আক্রান্ত ব্যক্তি আবার এই জীবাণু নিয়েই নিজ দেশে ফিরে যাবেন। এতে করে এটি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে।

কানাডিয়ান গবেষকদের গবেষণায় বলা হয়, সার্স এ প্রায় ৮০০ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কানাডাসহ বিশ্বের উন্নত দেশের নাগরিকরা সার্স আক্রান্ত দেশে ভ্রমণ করে আক্রান্ত হয়েছে। কিন্তু হজ মৌসুমে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রমণকারীদের সিংহভাগই অর্থনৈতিকভাবে অনুন্নত দেশের নাগরিক।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা গেছে, গত বছর ১.৭৪ মিলিয়ন লোক হজ্ব করতে সৌদি আরব গিয়েছে। তারমধ্যে ৬৫ ভাগেরও বেশি স্বল্পোন্নত দেশের নাগরিক।
ড. খান বলেন, স্বল্পোন্নত বা দরিদ্র দেশগুলোর সম্পদ এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির অপ্রতুলতা রয়েছে। কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও অনেকদেশেই তাৎক্ষণিকভাবে রোগটি শনাক্ত করে উঠতে পারবে না। আবার অনেকদেশেই এর চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই।

কানাডিয়ান গবেষকদের ঝুঁকির তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভারত, মিশর, পাকিস্তান, ব্রিটেন, কুয়েত, বাংলাদেশ, ইরান এবং বাহরাইন।এ ই দেশগুলোর মধ্যে ১২টি শহর সবচেয়ে ঝুকিঁপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে, কায়রো, কুয়েত সিটি, লন্ডন, বাহরাইন, বৈরুত, মুম্বাই, ঢাকা, করাচি, ম্যানিলা কোজিখুদে, ইস্তাম্বুল এবং জাকার্তা। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় মার্স (মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ায় দেশটির সরকার হজযাত্রীদের জন্য কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এতে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক হজযাত্রী এবছর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.