ভালবাসার রকমফের

0

তানিয়া ওয়াহাব:

শহীদের আজ প্রণ্ড মন খারাপ, সাথে মেজাজও। অফিসে অস্থিরভাবে পায়চারি করছে সে। সব স্টাফকে বলে দেয়া আছে, কোনভাবেই তাকে যাতে ডিস্টার্ব না করা হয়। আজ প্রায় দুই দিন হলো জেসিকার সাথে তার দেখা নাই। জেসিকাকে সে কবে থেকে এতো ভালবাসে, সে নিজেও জানে না।

কাজে-কর্মে জেসিকা যেমন পারদর্শী, ঠিক তেমনি স্মার্টনেস আর চেহারাতেও অপূর্ব। জেসিকাকে নিয়ে কোথাও গেলে পুরুষগুলো যখন হা করে দেখে, তখন খুব খারাপ লাগে না শহীদের। বরং সে উপভোগই করে। এরকম একটা মেয়ে তার পাশে।! যদিও মেয়েটার খোলামেলা পোশাক নিয়ে সমালোচনা যে হয় না, তা নয়, তবে জেসিকাকে এসব পোশাক দারুণ মানিয়েও যায়। শহীদের মন মানসিকতা যে খুব আধুনিক তা নয়, তবে জেসিকার ক্ষেত্রে সে কিছু মনে করে না।

জেসিকার সাথে শহীদের পরিচয় তাদের অফিসের পাশের কফির দোকানে। দুজনেই দুই টেবিলে কফি খেতে এসেছিল।সেখানে প্রথম দেখাতেই অজানা জেসিকাকে দেখে সে মুগ্ধ। অবশ্য শহীদকে পাত্তাও দেয়নি জেসিকা সেদিন। ধীরে ধীরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছিল, শহীদের অফিসের পাশেই জেসিকা মোটামুটি বেতনে চাকরি করে। সব খোঁজ নিয়ে নিজের অফিসেই জেসিকাকে চাকরির অফার দিয়ে বসে শহীদ। যদিও তার অফিসে কোনো পোস্ট খালি ছিল না, তবুও অফিসের মালিক বলে কথা। জেসিকার জন্যই আলাদা করে ব্যবস্থা করা হলো। বেতনও বেশ ভালো, জেসিকার না বলার কোনো কারণ নেই।

প্রথম দিন কফি শপে জেসিকা শহীদকে পাত্তা না দিলেও খুব দ্রুতই তাদের মধ্যে ভাল একটা সম্পর্ক হয়ে গেল। অফিসে তো দেখা হতোই, ছুটির দিনেও ভিডিও কল বা দেখা করে যোগাযোগটা ঠিকই রাখতো। অফিসের কাজে দেশের বাইরে গেলেও জেসিকা সাথে থাকতো। গত এক বছরে এমন একটা দিন নেই যেদিন তাদের কথা বা দেখা হয়নি। সেই জেসিকাকে সে দুই দিন দেখে না।

নাহ, শহীদ আর ভাবতে পারছে না।

জেসিকার স্বামী তাদের এ সম্পর্কের কথা জেনে গেছে। মোবাইলে বিভিন্ন কনভারসেশন দেখে ফেলেছে। বোকা মেয়ে, সে এগুলা ফোনে রাখতে গেল কেন? সে ডিলিট করবে না? উফফফফ….কই তার বৌ নিতু তো এতোদিনেও কোনো কিছু বের করতে পারলো না।

নিতু যে সন্দেহ করতো না, তা নয়… কিন্তু প্রমাণ পেয়েছে কোনো? অবশ্য নিতুকে এখন দুই পয়সা দাম দেয় না সে। তাদের বিয়েটাও প্রেমের বিয়েই ছিল। ক্যাম্পাসের জনপ্রিয় মুখ যখন জুটি বাঁধলো, তখন সবাই খুশিই হয়েছিল।তাদের ক্যারিয়ারও খুব খারাপভাবে শুরু হয়নি। দুজন দুজনকে সাহায্য করতো খুব। দুজন দুজনকে নিয়ে গর্বও করতো।অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে অবশেষে তারা বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিল। দিনগুলি খুব খারাপ কাটছিল না।

খুনসুটি, ঝগড়া, মান-অভিমান, তার মধ্যেই দিন চলছিল। প্রথমদিকে টাকা-পয়সা না থাকলেও শহীদের আস্তে আস্তে উন্নতি হতে লাগলো। শখ করে গাড়িও কিনে ফেললো। নিতু তার পরিবারের প্রায় সবার মন জয়ও করে ফেলেছিল। জীবনে বিলাসিতা আসার পর শহীদের হঠাৎ করেই সব একঘেয়ে লাগছিল। বন্ধুদের মুখেও বিভিন্ন রগরগে কাহিনী শুনে নিজের জীবনটা পানশে লাগছিল তার। সেই সময়ই জেসিকা এলো তার জীবনে। হঠাৎ করেই যেন জীবনের অর্থ খুঁজে পেল সে।জেসিকাই তার সব এখন। মাঝে মাঝে সে চিন্তা করে কেন আরো আগে জেসিকার সাথে তার দেখা হলো না! জেসিকার পেছনে টাকা খরচ করতে কোন কার্পণ্য করতো না সে। এমনকি জেসিকার স্বামী, শ্বশুর বাড়িতেও সে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দামি উপহার পাঠাতো। যাতে তারাও খুশি থাকে।

শহীদ শুনেছে, জেসিকার স্বামী আরিফ ওর গালে চড় মেরেছে। ব্যাপারটা জেনে সে ফোন করে আরিফকে বলেছে, ওর গায়ে যদি আর কোনো ফুলের টোকাও পড়ে, তাহলে আরিফকে সে নির্বংশ করে দেবে। হুমকিতে কাজ হয়েছে কিনা কে জানে!

এই টেনশনের মাঝখানে নিতুর ভাই বার বার ফোন করছে। না ধরতে চেয়েও একরাশ বিরক্তি নিয়ে ফোনটা ধরলো। নিতুর ভাই জানালো, নিতুর অবস্থা ভালো নেই, প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে। নিতুর ব্লিডিং হচ্ছে, এটা তাকে জানানোর কী আছে? সে কি ডাক্তার? নাকি তার ব্লাড গ্রুপ এক? আজব, কোথায় রক্তদাতা খুঁজবে, না তাকে বার বার ফোন করে বিরক্ত করা হচ্ছে।! হসপিটালের বিলের সময় ফোন করে জানালেই হবে, সে বিল পাঠিয়ে দিবে। তার তো আর দায়িত্ববোধ মরে যায়নি।

কত টাকা যে বিল আসবে! মরিশাসে তার আর জেসিকার ঘুরতে যাবার জন্য যে টাকা আলাদা করে রেখেছিল, সেটাতে টান পড়বে কিনা কে জানে!

তবে নিতুরই বা এতো রিএক্ট করার কী দরকার ছিল? জেসিকার বদমাশ স্বামী না হয় ওকে সব স্ক্রিনশট পাঠিয়েছে….তাতে কী হয়েছে? দুনিয়া উল্টে গেছে? এতোটুকু ধৈর্য্য মেয়ে মানুষের থাকবে না? আর নিতু তো জানে সে রেগে গেলে তার হুঁশ থাকে না।

নিতু কেন “তার” জেসিকাকে নিয়ে নোংরা কথা বলতে গেল? রেগে গিয়ে নিতুকে সে কীভাবে মেরেছে তাও তার মনে নেই। হসপিটাল থেকে আবারো ফোন আসছে বার বার। অবস্থা খুব ভাল নয় নিতুর।

শহীদের মাথায় অবশ্য এই মূহুর্তে একটাই চিন্তা, আরিফের থাপ্পরে জেসিকার গাল ফুলে যায়নি তো!

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 270
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    270
    Shares

লেখাটি ২,৩৬০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.