চুরি করা ছবি ভাইরাল করা কতোটা যৌক্তিক?

0

সুরমা রহমান:

উন্নত দেশগুলো প্রতিটা স্তরেই দিনকে দিন এগিয়ে যাচ্ছে। ছেলেমেয়ে সমান তালে কাজ করে যাচ্ছে। অগাধ শ্রদ্ধাবোধ একে অন্যের প্রতি। তো! এসব জেনে আমাদের লাভ কী? আমরা তো যেই লাউ সেই কদু! কিন্তু রিচার্ড রোজ বলছেন, “যে শিখতে চায় বর্তমান বিশ্বে অন্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে তার অনেক কিছু শেখার আছে, বিশেষ করে নীতিনির্ধারকদের।” পাবলিক পলিসিতে তিনি এর নাম দিয়েছেন ‘Lesson-Drawing’.

আমরা পশ্চিমা দেশ ফলো করতে করতে নিজেদের ভুলতে বসেছি। পশ্চিমা দেশ যদি এতোই প্রিয়, পশ্চিমা কাপড়-চোপর, পশ্চিমা গান, পশ্চিমা ভাষা, পশ্চিমা রীতিনীতি, তো পশ্চিমা নিয়মটা শিখবো কবে? নাকি সেটা আউট অফ সিলেবাস?

পশ্চিমা দেশে একটা মেয়েকে রাতে একা রাস্তায় পেয়ে আপনাদের (সব ছেলে না) মতো কেউ ধর্ষণ করে না। পশ্চিমা দেশে বাসে উঠে আপনাদের মতো বখাটেরা মেয়েদের গা ঘেষে না। আট বছরের শিশু বাচ্চাকে টেনে হিঁচড়ে খায় না। আর কোনো মেয়ের অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলার তো প্রশ্নই আসে না।

পশ্চিমা দেশে আপনাদের মতো বউয়ের সাথে বনিবনা না হলেও তাকে বন্দি দাসীর মতো লাত্থিগুতা দিতে চায় না। আঙ্গুল তোলে না সিংগেল মায়েদের উপরে। একজন সিংগেল মা কিভাবে সংসার সামলান তা তাদের কাছ থেকে জেনে নিন একবার আঙ্গুল তোলার আগে। কোনো মেয়েই চায় না সংসার ভেংগে নিজের ঘাড়ে একটা বোঝা নিয়ে একা থাকতে। তাকে গালি দেয়ার আগে তার কারণ খুঁজে ঐ জায়গায় নিজেকে একবার দাঁড় করিয়ে তারপর লম্বা বুলি দিয়েন।

মেয়েদের কেন বাসে আলাদা সিট? মেয়েরা কেন প্রকাশ্যে সিগারেট টানবে? মেয়েরা কেন রাতে বাইরে যাবে? মেয়েরা কেন সমান অধিকার পাবে? মেয়েরা কেন সিংগেল প্যারেন্ট হবে? মেয়েরা কেন অপদার্থ জামাইর লাত্থিগুতা খেয়েও জড় পদার্থ হয়ে জামাইয়ের নরকখানায় পড়ে না থেকে নিজের ও সন্তানের ভালোর পথ বেছে নিবে?

ওরে বাবা! বাসে মেয়েদের আলাদা সিট থাকার পরও কি রেহাই পাচ্ছে ওরা! ওদের জামার পিছনে-সামনে এতোদিন A টু Z দেখে যার যার মতো করে কমেন্ট ছুঁড়েছেন। তাতেও শান্ত না হয়ে এখন শুরু হয়েছে ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা। কেন? এর ভিতরে কী আছে যে ছিঁড়ে দেখতে হবে? এটা কোন ধরনের বেয়াদবি/অভদ্রতা?

প্রকাশ্যে মেয়েরা সিগারেট টানবে কেন? ধুমপান স্বাস্হ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই ছেলেমেয়ে কাউকেই সিগারেট প্রকাশ্যে কেন, গোপনেও টানা ভালো না। তারপরও যদি কেউ টানে, সেটা তার ব্যাপার। আপনি মেয়েদের প্রকাশ্য সিগারেট টানটা দেখলেন, আর আপনি যে চুরি করে তার ফটো তুলে সেটাকে পাবলিক প্লেসে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিলেন, সেটা কে দেখবে? এর বিচার তো অবশ্যই আপনাকে পেতে হবে। নাকি বলেন?

কতো আইনজীবী, কতো ডাক্তার, কতো রং-বেরং এর পেশার মানুষকে দেশে ফেরত যেতে দেখা যায় উন্নত দেশে অনেক বছর থাকার পর। অথচ আজ পর্যন্ত শুনলাম না কেউ দেশের জন্য কিছু করেছে। শুধু এক-দুইটা নিষিদ্ধ শব্দ ছাড়া আর কিছু ওরা শিখে যায় বলে আমার মনে হয় না। চোখের সামনে খুন হচ্ছে, ধর্ষণ হচ্ছে, মেয়েরা অপমানিত হচ্ছে। কেউ দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছে, আর কেউ তুলছে সেলফি। প্রতিবাদের বালাইটা পর্যন্ত এ সমাজ থেকে উঠে গেছে।

২০১৮ সালের প্রথম মাস শেষ না হতেই শুরু হয়েছে ধর্ষণ, খুন, মেয়েদের পাব্লিকলি অপমান, অনুমতি ছাড়া তাদের ছবি পাব্লিক প্লেসে আপলোডসহ সব নিয়মমাফিক অপকর্ম। এর শেষ ততদিন পর্যন্ত হবে বলে মনে হয় না যতদিন না এ অপদার্থগুলো মানুষ হবে। আর এর জন্য অবশ্যই উপযুক্ত বিচার ব্যবস্থা প্রয়োজন।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 109
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    109
    Shares

লেখাটি ৩৫৮ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.