ছেলেরা, তোমরা সম-অধিকার জানো তো!

লাবণ্য লিপি:

উন্মুক্ত জায়গায় আপনি ধূমপান করেন? জ্বি, আমার তাতে আপত্তি আছে। আপনি নারী না পুরুষ- এ নিয়ে আমার কোনও মাথা ব্যথা নেই। আপনি নিজের টাকায় খান না বাবা- মার টাকায় খান, সেটা জানার আগ্রহও আমার নেই। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, রাস্তাঘাট, স্কুলের সামনের দোকানেসহ যে কোনও খোলা জায়গায় ধূমপান করলে আমার আপত্তি আছে। এমনকি খোলা জায়গা বলেই না,

শুধু ধূমপানেই না, এই যে আপনারা নিজেদের পাবলিক প্লেসের ইজারাদার ভেবে যেখানে-সেখানে জিপার খুলে পানি নিষ্কাশনের কাজটি করতে বসে যান, তাতেও আমার বেজায় আপত্তি।

ধূমপান করে আপনার নিজের ফুসফুসের বারোটা আপনি বাজাতেই পারেন। কিন্তু আমার ছোট শিশু এবং অধূমপায়ীদের ফুসফুস আক্রান্ত করার অধিকার কেউ আপনাকে দেয়নি। এমনিতেই ধুলো- দুষণ, গাড়ির কালো ধোঁয়া তার অনেক ক্ষতি করছে। সবটা আটকাতে না পারলেও আপনাকে থামতে বলার অধিকার আমার কিন্তু আছে!

এবার আসি ভিডিও প্রসঙ্গে। ঐ যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে ভিডিওটা ভাইরাল হয়েছে, যে ভিডিওতে দেখানো হয়েছে পুরুষ ধূমপান করলে সমস্যা বা আপত্তি নেই। কিন্তু নারী করলে আছে। কেন বাবা? হ্যাঁ তোমাকে বাবাই বলছি, যে ভিডিওটা বানিয়েছো। কারণ তুমি আমারই মতো একজন নারীর গর্ভে জন্মেছো। আমরা তো মায়ের জাত, সন্তান যতোই বখে যাক, তাকে তো আর ফেলে দিতে পারি না! তা বাবা, ভিডিও বানাতে হলে তো একটু জানতে হবে, বুঝতে হবে, নাকি!

সমাজকে তুমি কী ম্যাসেজ দিতে চাচ্ছো, সেটা তোমার নিজের কাছে কতোটা ক্লিয়ার? সম অধিকার জিনিসটা কী, জানো তো? টি-শার্ট খুলে ফেলা নয় নিশ্চয়ই! ভিডিও বানাতে চাইলে কতো বিষয় আছে- সুন্দরবন ধবংস হয়ে যাচ্ছে, গাছ কেটে নগরায়ন হচ্ছে, প্রকাশ্যে নারীদের উত্যক্ত করা হচ্ছে, খাবারে ভেজাল মেশানো হচ্ছে, রাস্তার পাশে কিছু অসচেতন (অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষ) মানুষ ছোট- বড় প্রাকৃতিক কাজ সেরে রাস্তা নোংরা করছে, শীতে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে- এসব নিয়ে বানাও না বাবা! এই যে যশোর রোডের দুই হাজার গাছ কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ, জানো কিছু এ ব্যাপারে? মাথায় ঢোকে, এই গাছগুলো আমাদের হৃদয়ের অংশ? এগুলো কেটে ফেললে প্রকৃতির ভারসাম্য কতোটা নষ্ট হয়ে যাবে? ভাবো কিছু এ নিয়ে? নাকি খালি ‘মেয়েদের’ মেয়েমানুষই দেখো?

আর ঐ যে ছোট ছেলেটা মাকে বললো, মা দ্যাখো মেয়েটা সিগারেট খাচ্ছে! শুনে মা ভালো মানুষটি বললেন, ওদিকে তাকাস না বাবা! আপনাকে বলছি, মা, ছেলেকে পলায়নবাদী করে বড় করতে চান? বরং ওকে শেখান না, খোলা জায়গায় বসে সিগারেট খাওয়াই অন্যায়। সেখানে একটি মেয়ে হলেই তাকে দেখে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আর যে বাবা- মা ভিডিও বানাতে পারে এমন ক্রিয়েটিভ ছেলের জন্ম দিয়েছেন তাদের বলি, ছেলে কম্পিউটার চায়, ল্যাপটপ চায়, স্মার্টফোন চায়, ওয়াইফাইয়ের কানেকশন চায়, দিন না! ছেলেকে তো পড়াশোনা করতে হবে। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি আর কী করে, সে খবরও মাঝে- মধ্যে নেবেন!

ছেলেটা যদি গরুই হয়ে থাকে তাহলে নিজের গোয়ালেই রাখুন না। অন্যের ফসল নষ্ট করতে কেন বাইরে যেতে দিয়ে! কী শেখাচ্ছেন ওদের? বা ওরা কী শিখছে, খবর রাখেন তো? মেয়েদের সম্মান করার বিষয়টা কিন্তু আপনার-আমার ঘর থেকেই আসে, আপনি যদি ঠিকমতো শিখিয়ে থাকেন, তাহলে আজ এইসব যাচ্ছেতাই ভিডিও নিয়ে কথাই বলতে হতো না আমাদের!

শেয়ার করুন:
  • 224
  •  
  •  
  •  
  •  
    224
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.