পাব্লিক প্লেসের ইজারাদার পুরুষ

শাশ্বতী বিপ্লব:

ব্রেকিং নিউজ! ব্রেকিং নিউজ!!

হায়াত মাহমুদ রাহাত নামে এক মহাজ্ঞানী তেঁতুল হুজুরের চ্যালার আবির্ভাব ঘটিয়াছে। যিনি সকল পাব্লিক প্লেসের ইজারা লইয়াছেন। আজ হইতে পাবলিকলি কিছু করিতে হইলে তাহার অনুমতি লইতে হইবে। বিভ্রান্ত হইবেন না জনগণ। সকলকে নহে, কেবল ধূমপায়ী মেয়েমানুষদের (!) জন্য এই ফরমান প্রযোজ্য। তিনার ভয়ে ধূমপায়ী মেয়ে মানুষেরা নিজ নিজ গৃহে পিতামাতা, বোন-ভ্রাতা ও পতিদেবের সহিত পারিবারিক পরিবেশে ধূমপান করিবেন বলিয়া মনস্থির করিয়াছেন।

হায়াত নামের এই মহাজ্ঞানীর মতে, পাব্লিক প্লেস মানে হইলো গিয়া পাব্লিকের জন্য প্লেস, মানে পুরুষের জন্য প্লেস আরকি। কিন্তু এই সাধারণ জিনিসটা কিছু উগ্র মেয়েমানুষ কিছুতেই বুঝিতেসে না! হুটহাট সিগারেট ফুঁকিয়া পরিবেশ নষ্ট করিতেছে। কী আস্পর্দা! কী আস্পর্দা!!

উগ্র আপারা, একটু বুঝিতে চেষ্টা করেন গো প্লিজ। আপনারা পাব্লিক প্লেসে গেলে পুরুষ মানুষের অসুবিধা হয়গো আপারা। তিনাদের মাথা ঘুরায়, বমি বমি লাগে। আপনাদের দিলে কি রহম নাই? আপনাদের ঘরে কি বাপ ভাই নাই? তাইলে পুরুষমানুষের পাব্লিক প্লেসে কি করিতেছেন আফারা? যান, যান, ঘরে গিয়া বিড়ি সিগারেট ফুঁকিবার ব্যবস্থা করেন, পাব্লিক প্লেসে পরিবেশ নষ্ট করিবেন না। এই কর্মটি করিবার জন্য পুরুষ একাই একশো।

পাব্লিক প্লেসে পুরুষেরা নাচিবে-কুদিবে, যখন তখন প্যান্টের জিপার খুলিয়া হিসু করিবে, মেয়েদের উত্যক্ত করিবে, সিগারেট, গাঞ্জা, ডাইল-ডুইল খাইবে, গায়ের কাপড় খুলিয়া নধর শরীর প্রদর্শন করিবে, পারলে একটা দুইটা ধর্ষণও করিতে পারে, তাহাতে আপনাদের এতো সমস্যা কেন গো আফারা? আপনারা কি পারিবেন পাব্লিক প্লেসে জামা খুলিতে? পারিবেন যত্র তত্র মূত্র ত্যাগ করিতে? পারিবেন নাতো? ইহাকেই বলে সমানাধিকার, বুঝিলেন? শিখেন, শিখেন, এই আধুনিক তেঁতুল হুজুরের নিকট হইতে সমানাধিকারের সংজ্ঞা শিখেন।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ধুমপান ক্ষতিকর, সেইটা ব্যাপার না আফা। পাব্লিক প্লেসে ধূমপান করা উচিত না, সেইটাও ব্যাপার না। ব্যাপার হইলো গিয়া মেয়েমানুষ। আপনি মেয়েমানুষ হইয়া পাব্লিক প্লেসে ধুমপান করিতে চাহেন, সেইখানেই প্রবলেম, মানে হায়াত মাহমুদ সাহেবের অসুবিধা আরকি। হায়াত সাহেবের মা গ্রাম হইতে যদি ঢাকায় অকস্মাৎ আসিয়া পড়েন, এবং আসিয়া যদি হঠাৎ পার্কে বেড়াইতে যান, তাহইলে কী মনে করিবেন ভাবিয়াছেন একবার? আপনারা খ্রাপ, খুবই খ্রাপ।

এই দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধী দলের নেত্রীও নারী। তথাপি আপনাদের মন ভরে না কেন? তারপর ধরেন, বাসে মেয়েদের আলাদা সিট রহিয়াছে, স্কলারশিপ মলারশিপও আপনারা বাগাইয়া লইতেছেন। কই, হায়াত সাহেব তো তখন সমান অধিকার চাহেন না? আহারে, বেচারা! বাসের বাকি সিটগুলায় হায়াত সাহেবরে কোনদিন বসিতে দেখিয়াছেন? দেখেন নাই। কেমনে দেখিবেন? ঐগুলাতো জম্বিদের জন্য বরাদ্দ রহিয়াছে, ঐখানে জম্বিরা বসে। আর সিংহভাগ স্কলারশিপও এলিয়েনদের দেয়া হইতেছে। হায়াত সাহেবদের জন্য কিসসু রাখে নাইগো আফা। কী দুঃখ! কী দুঃখ!!

আমার এই জ্ঞানী ভাইসাহেবকে কিছু বলিবার নাই। আমি বরং নারীমুক্তির দিকপাল যে আফা পার্কে সিগারেট ফুঁকিতে ফু্ঁকিতে বাণী দিয়াছেন, তাহাকে নিয়া কিঞ্চিত চিন্তিত। বন্ধুর মহৎ কর্মে সামিল হইয়া কি অর্জন করিলেন গো আফামনি? কোন মুক্তির ঘন্টা বাজাইলেন?

“মেয়েরা শক্তি সামর্থ্য সবদিক দিয়া দুর্বল, আর তাই তাদের এইসব সুবিধা (!) দেয়া হইসে” – এইটা আপনারে কে কইসে আফা? মানে, এই মহাজ্ঞান আপনি কোথায় পাইয়াছেন? আপনার জ্ঞানী বন্ধুর নিকট হইতে বুঝি? তো আপনিও তো দেখি ব্যাপক জ্ঞানী মানুষ!

থুক্কু, জ্ঞানী মেয়েমানুষ! এতো জ্ঞানী লইয়া জাতি কী করিবে? তো আফামনি, ভালো কিছু করিবার যোগ্যতা অর্জন করিতে না পারেন, অসুবিধা নাই। খালি খারাপের সঙ্গ দিয়েন না আরকি। খালি মেয়েমানুষ হইয়া আর কতদিন থাকিবেন? একটু মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.