নারীর অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কতটুকু?

0

রামিছা পারভীন প্রধান:

ঈদকে সামনে রেখে ঘরের পর্দাগুলো যদি বদলাতে পারতাম, ঘরের ওই কর্নারে যদি ওই ফার্নিচারটা রাখতে পারতাম, হঠাৎ করে ছেলেমেয়েদের জন্য কোনো জিনিস পছন্দ হলো, কিনতে মন চাইছে, কিন্তু কিনতে পারছে না, ইচ্ছে হলো আজকে সবাইকে নিয়ে বাইরে খাবেন, কিন্তু চিন্তা করছেন কীভাবে সম্ভব? এই সবকিছু চাওয়া নির্ভর করছে আপনার অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ওপর। আপনার অনেকগুলো ইচ্ছে আপনি নিজে পূরণ করতে পারবেন, যদি আপনার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থাকে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আপনি শক্তিশালী থাকলে মানসিক দিক দিয়েও আপনি অনেক শক্তিশালী হবেন, এটা অবধারিত।

কিন্তু একটা প্রশ্ন হলো যে আপনার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আছে কিনা! একজন গৃহিণী কিন্তু অনেক সময় স্বামীর টাকা স্বাধীনভাবে খরচ করতে পারে, যদি তার স্বামী তাঁকে সে স্বাধীনতা দেয়। কিন্তু আমাদের সমাজে বেশির ভাগ বিবাহিত নারী এই স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত। অনেক পুরুষ আছে, যারা তাদের স্ত্রীদের মিনিমাম মাসিক হাত খরচটাও দেয় না। আবার পরিবারের মাসিক খরচ স্ত্রীকে চালাতে দিলেও তা মাস শেষে কড়ায় গণ্ডায় হিসাব নেয়া হয়। অনেক সময় হিসেব দিতে একটু এদিক-ওদিক হলে সেই নারীকে নানান ধরনের নির্যাতনের শিকারও হতে হয়।

একটি পরিবারে দুজনে গুরুত্বপূর্ণ শ্রম দিচ্ছে। দুজনের ভূমিকাই অন্যতম। পাথর্ক্য একজন বাসায় শ্রম দেয়, অন্যজন বাইরে। তাই প্রত্যেক পুরুষের উচিত তাদের স্ত্রীকে মাসের প্রথম দিকে তাদের বেতনের কিছু অংশ তাদের হাতে তুলে দেওয়া। দেখবেন, আপনি যে টাকা স্ত্রীকে দিচ্ছেন, সে টাকা থেকে সে আবার প্রতি মাসে সঞ্চয়ও করছে। আবার সেই টাকাই আপনার বিপদে আপনাকে দিয়ে দিচ্ছে।

স্বামীর আয়ের উপর স্ত্রীর পূর্ণ অধিকার থাকা উচিত। অনেক শিক্ষিত মেয়ে আছে, পারিবারিক সমস্যার কারণে জব করে না তারা, কিন্তু ইচ্ছা করলেই ভালো জব পেতো, আবার স্বামীর কাছে টাকা চাইতেও তাদের খারাপ লাগে যদি তাদের স্বামী নিজের ইচ্ছায় না দেয়। অথচ সেই স্বামীর কথাতে তাকে চাকরি ছাড়তে হয়। আবার অনেক গৃহিণী আছে স্বামীর কাছে টাকা চাইলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

অন্যদিকে শিক্ষিত চাকরিজীবী অনেক মেয়েই তাদের উপার্জিত আয় কিছুটা হলেও নিজের ইচ্ছামতো খরচ করতে পারে। আমি মনে করি আমার মতো অনেকেরই সে স্বাধীনতা আছে। বরং সেই স্বাধীনতার তারা অপব্যবহার করে না, উল্টা টাকা জমিয়ে সংসারের উন্নতি করে। আবার স্বামী বিপদে পড়লে নারী সেই সংসারের হাল টেনে ধরে।

আবার অনেক চাকরিজীবী মেয়েদেরও তাদের উপার্জিত অর্থ ব্যয় করার স্বাধীনতা থাকে না। অনেকে আছে তাদের বেতনের সব টাকা তাদের স্বামীর হাতে তুলে দেয়, এমন নয় যে স্বামীর আয় কম। না দিলে দিনে দিনে পারিবারিক কলহ বেড়ে যায়। ফলে মেয়েটা তার বাবা-মা-ভাইবোনকে তার উপার্জিত আয় থেকে কোন কিছু উপহার দিতে চাইলেও পারে না। অনেকে লুকিয়ে লুকিয়ে মায়ের পরিবারকে সাহায্য করে। এতে বোঝা যায় নারীদের নিজের উপার্জিত অর্থও বাবা-মাকে দেওয়া বা তাদের ইচ্ছামতো খরচ করার স্বাধীনতা নেই। সত্যি মেয়ে তুমি সংসারে যতই ছাড় দাও তোমার হিসাবের খাতা শুন্য।

মেয়েদের চাকরি করা প্রয়োজন এজন্যই যে, তাহলে হয়তো হীনমন্যতায় না থেকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বেড়ে যাবে দ্বিগুণ। কারো ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না। উচ্চশিক্ষিত মেয়েদের আত্মর্মযাাদা একটু বেশি থাকে বলে তারা কারও কাছ থেকে টাকা চাইতে দ্বিধাবোধ করে। আসলে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না থাকলে নারীমুক্তির সব দরজাই বন্ধ থাকে।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 275
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    275
    Shares

লেখাটি ৮০১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.