ঢাবি’র ঘটনায় শিক্ষকটি কি নির্দোষ?

0

নাদিয়া বিনতে কবির:

কিছু ঘটনাকে শুধুমাত্র নারী বিষয়ক বলা হলে অনেকটা একপাক্ষিক হয়ে যায়। কিন্তু বিষয়গুলো মোটেও একপাক্ষিক নয়। ঘটনার পেছনে নারীর সঙ্গে সমানতালে থাকেন পুরুষও। এবং সত্যিকারভাবে সেখানে নারীর চাইতে পুরুষটির ভূমিকা বেশি। কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক শব্দ ভাণ্ডারে এ ধরনের ঘটনাকে নারীঘটিত ঘটনা বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা হয়। এটাকে নিয়মও বলা যেতে পারে। পুরুষটির ভূমিকা যতোই জোরালো হোক ঘটনায়, তবু তা চেপে যেতেই ভালোবাসি।

গত কিছুদিনে বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক এবং শিক্ষিকার মধ্যকার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চয়ই অামাদের সবার নজরে এসেছে। শিক্ষক এবং শিক্ষিকাকে ছুটির দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একই কক্ষে পাওয়া যায়। এবং সেই শিক্ষকেরই স্ত্রী খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে এসে স্বামীকে উদ্ধার করেন, তবে ওই স্বামী শিক্ষকটি রুম থেকে ছাড়া পেয়েই পালিয়ে যান ঘটনাস্থল থেকে এবং অভিযুক্ত শিক্ষিকাটি ওই কক্ষে তালাবন্দী হোন। এই ঘটনায় ওই শিক্ষকের স্ত্রীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শাস্তি হিসেবে শুধুমাত্র নারী শিক্ষিকাকে এক বছরের জন্যে অব্যাহতি দিয়েছেন। শিক্ষকটি শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেয়ে গেছেন কোনো এক শক্তিবলে।

অামার খুব অাগ্রহ শিক্ষকের কী শাস্তি হলো সেটি জানার, যদিও অামার কাছে দুজনের কেউ অপরাধী নয়। কারণ দুজনই বয়ো:প্রাপ্ত মানুষ। অথচ শিক্ষিকাকে অামাদের মিডিয়া, অামাদের প্রশাসন যেভাবে সবার নেক নজরে এনেছেন, সেরকমভাবে কিন্তু শিক্ষককে নিয়ে কথা হচ্ছে না! কিন্তু কেন? জানি না শিক্ষিকা সামাজিক এবং মানসিকভাবে কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তবে কিছুটা অান্দাজ করতে পারি।
এ ধরনের ঘটনাগুলো বাররবার চোখের সামনে প্রমাণ করে দেয় সমাজপতিদের চিন্তায় এখনও পুরুষতন্ত্রের বীজ কতোটা বিরাজমান!

যাই হোক পুরাতন কথায় না যাই। অামার প্রশ্ন হলো দুজন শিক্ষক কী প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন না? যদি প্রাপ্তবয়স্ক এবং বিবেকবান হয়ে থাকেন, তাহলে কেন অামরা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে টানা হ্যাঁচড়া করছি! এটি অামার বোধগম্য নয়! অারও তো বিষয় অাছে।

অামাদের মন সিমেন্ট দিয়ে বাঁধাই করা নয়, অামাদের ভালোলাগা, ভালোবাসা সব ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই, এবং তা বিয়ের আগেই শেষ করতে হবে, এমনও নয়! দুজন মানুষের ভেতর ভালোবাসা মানেই অসুস্থ কিছু নয়। এতো এতো অরাজকতা, এতো বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে প্রতিদিন, অথচ তখন অামাদের কথা বলার মুরোদ নেই, কিন্তু এ একটা বিষয় নিয়ে অামরা সুবিধাজনক অবস্থানে বসে সমাজ উদ্ধারে নেমে পড়ি। ব্যক্তিকে শ্রদ্ধা করা শেখার সাথে সাথে ব্যক্তির ব্যক্তিগত বিষয়কেও তো শ্রদ্ধা করতে জানতে হবে।

অার সেই শিক্ষকের স্ত্রী’র কথাই বলি! কেমন ব্যক্তিত্ববোধ, কেমন রুচি যে স্বামীকে উদ্ধারে দলবল নিয়ে হাজির তার ডিপার্টমেন্টে! এটি হচ্ছে অামাদের মেরুদণ্ডহীন নারী কূলের অন্য অারেক মূর্তি। ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ থাকলে অামি মনে করি দুজনের ভেতর অালোচনা করে মীমাংসা করে নেয়াই যায় যেকোনো বিষয়ে। তার মানে নারীরা এখনও একা হওয়াকে ভয় পায়! যে যেতে চায় তাকে যেতে দিন না….কী লাভ বনের পাখিকে ঘরমুখো করার! জোর করে স্বামীকে না-হয় আজ ফেরালেন এক জায়গা থেকে, সারাজীবন পাহারা বসাবেন তার ওপর! এভাবে চলে জীবন!

হৃদয়ের জয় হোক…। সবার সুমতি হোক।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 199
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    199
    Shares

লেখাটি ১,০০০ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.