দুজন শিক্ষকের অনৈতিকতার দায় একজনের ওপর কেন?

0

সুরমা রহমান:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের প্রভাষক উম্মে কাউসার লতাকে এক বছরের জন্য একাডেমিক সকল কাজ থেকে সরিয়ে দেয়া হলো! তাদের উপর লাগা আরোপের জন্য কী সে একাই দোষী? তাদের অনৈতিক সব কাজের জন্য কি শুধুই উম্মে কাউসার লতা একা দায়ী? ওনার উপর পর পর দুইবার ওই শিক্ষকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠায় তার এ শাস্তি। তাহলে যে শিক্ষককে জড়িয়ে এই অনৈতিকতার অভিযোগ, তাকে কেন শাস্তি দেওয়া হলো না?

ওনি যা করেছেন তা ঠিক করেননি। নাকি ওনারা যা করেছেন তা ঠিক করেননি। আমি মোটেও এসব কাজের পক্ষপাতী না। আমার বিরক্ত লাগে এসব ঘটনা শুনতে। মানুষ পরকিয়া করবে কেন? দাম্পত্য জীবনে সুখী না হলে আলাদা হয়ে যাওয়াই ভালো। আর না হয় বউ ঘরে রেখে এসব কাজ করা আসলেই চরম নিন্দনীয়। তবে গত ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আকিব উল হকের রুমে উম্মে কাউছার লতাকে তালাবদ্ধ করে রেখে তাকে এভাবে অপদস্থ করার যৌক্তিকতা কতটুকু আমি জানি না। ওই কক্ষে কি উম্মে কাউসার লতা একাই ছিলেন? দুই দুই বার ওনাদের একই কক্ষ থেকে একই অবস্থায় আটক করা হয়। তবে শাস্তি একজন পাবেন কেন?

আকিব উল হকের স্ত্রী তাহমিনা সুলতানা ওই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছুটির দিনে বিভাগীয় কক্ষে তথাকথিত অনৈতিক কার্যকলাপে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ করে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, এডুকেশনাল ও কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগ ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন।

কথা হচ্ছে, ছুটির দিনে দুইজন এক হয় কীভাবে যদি আগে থেকে Schedule মেলানো না থাকে! তার মানে দুজনের মাঝে বোঝাপড়ার মাধ্যমেই তো দরজা আটকানো হয়েছে। আঙ্গুল তুললে কিংবা বিচার হলে তো দুজনেরই হওয়া উচিত।

আকিব সাহেবের বউ যখন ওনার মুঠোফোনে স্বামীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন, তখন ওপাশ থেকে কোন সাড়া না পেয়ে তিনি হন্তদন্ত করে ছুটে যান স্বামীর অফিসে। ভিতর থেকে দরজা আটকা পেয়ে তিনি কড়া নাড়ার পরও দরজা খোলা হয়নি। মিনিট দশেক পরে দরজা খুলে আকিব সাহেব পালিয়ে গেলেন। ওনি এতো ভাল মানুষ হলে পালালেন কেন?

ওই শিক্ষিকা যদি তাকে Disturb করতো, ওনার তো আগেই তার Department কে জানানো উচিত ছিল। কিংবা যখনই উম্মে কাউসার লতা রুম এ ঢুকেন তখনই চিৎকার চেঁচামেচি করা উচিত ছিল। দরজা ভিতর থেকে আটকালোই বা কে? কিংবা বউ এসে যখন দরজা নাড়ছিল, তখন ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে না থেকে চিৎকার করে বললো না যে ওনার ইজ্জত হনন হচ্ছে। না কি ঘটনা হচ্ছে, ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না টাইপ!

Surma Rahman
Teacher, London
Surma Rahman

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 315
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    315
    Shares

লেখাটি 0 বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.