টিপাইমুখ প্রকল্পের ছাড়পত্র না দেয়ার পরামর্শ

tipaimukh-damউইমেন চ্যাপ্টার ডেস্ক: ভারতের বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে টিপাইমুখ বাঁধ প্রকল্পকে ছাড়পত্র না দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রণালয়টির অধীন ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি। (খবর: বিবিসি)

কমিটির সাস্প্রতিককালের বৈঠকে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে বলা হয় এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে ৭৮ লক্ষ গাছ কাটতে হবে, ২৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি বনাঞ্চল ধ্বংস হবে, যা ভারতের আগের মোট ৪৯৭ টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরিতে ধ্বংস হওয়া বনাঞ্চলের ২০ গুণ বেশি।

ক্ষতির পরিমাণ বিশাল মাত্রায় হলেও সেই অনুপাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে না বলেও জানানো হয়েছে ওই পরিসংখ্যানে। কমিটির হিসাব মতে, প্রতি মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১৬ হেক্টর করে বন ধ্বংস হবে – যেটা চালু জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির তুলনায় অনেকটাই বেশী।

কমিটি জোর দিয়ে বলে, বন দপ্তরের ছাড়পত্র না পেলে এই প্রকল্পটির ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তবে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি এই এডভাইসরি কমিটি বিশালায়তন বাঁধের বদলে ছোট বাঁধ তৈরির বিষয় খতিয়ে দেখতে পরামর্শ দেয়ার কথা বলেছেন।

তাদের হিসাবমতে এই বিশালায়তন বনাঞ্চল ধ্বংস হলে সেই অঞ্চলের অনেক বিরল প্রজাতির প্রাণীরও অস্তিত্ব সংকটে পড়বে – যার অনেকগুলিই বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী বিরল প্রজাতির বলে চিহ্নিত।
এ প্রসঙ্গে মনিপুরের প্রধান মুখ্য বনপালের দেওয়া একটি প্রতিবেদন উল্লেখ করে ফরেস্ট এডভাইসরি কমিটি বলছে, “ যে পরিমাণে বনাঞ্চল, প্রাণী ও পরিবেশ ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করা কোনওভাবেই সম্ভব না, যদি বনাঞ্চলের বাইরের জমিতে নতুন করে ব্যাপক আকারে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা না করা হয়। আর ওই ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবসম্মতও হবে না।”

শুধু বনাঞ্চলের ক্ষতির মধ্য দিয়েই এই ক্ষতির বিবরণ শেষ নয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ওই অঞ্চলের ১২টি গ্রামের দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য এই জনগোষ্ঠিকে সরিয়ে নিতে হবে। যদিও প্রকল্পে কাজ পাবে মাত্র ৮২৬ জন।

এডভাইসরি কমিটির সিদ্ধান্ত মতো যদি টিপাইমুখ বাঁধের ব্যাপারটি ভারতে অনিশ্চিত হয়ে যায় তাহলে একে ঘিরে দুদেশের মধ্যে সৃষ্ট জটিলতা এবং বিতর্কেরও অবসান ঘটবে।

শেয়ার করুন:
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.