অস্ট্রেলিয়ার সমপ্রেমিরা পেল বিয়ের অধিকার

0

সাদিয়া রহমান:

সারা বিশ্বে পঁচিশতম দেশ হিসেবে সমপ্রেমিদের বিয়ের অধিকার দিলো “রাষ্ট্র অস্ট্রেলিয়া”। এখন থেকে ধর্ম,বর্ণ,লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাই পাবে বিয়ের জন্য সমান অধিকার। ২০০৪ সালে আইনের মাধ্যমে সমপ্রেমি বিয়ে নিষিদ্ধ করার ১৩ বছর পর আবারো সমপ্রেমীরা অর্জন করলো বিয়ের বৈধতা।
এইবার জরিপের মাধ্যমে দেশটির সব মানুষের মতামত গ্রহণ করা হয় যেখানে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত হয় সমপ্রেমিদের বিয়ের অধিকারের দাবি। পরবর্তিতে বিলের মাধ্যমে উত্থাপন করা হয় এই দাবি এবং সেটিও কোনো সংশোধনী ছাড়াই গৃহীত হয়।

টনি স্মিথ যিনি সংসদের প্রথম সমপ্রেমি সদস্য, তিনিই এই বিল উত্থাপন করেন। তিনিই ঘোষণা দেন যে বিলটি গৃহিত হয়েছে, কেননা এর বিরোধিতাকারীরা সংখ্যায় পাঁচ জনেরও কম। তিনি বলেন, এই বিজয় সমস্ত অস্ট্রেলিয়ার সব মানুষের বিজয়। স্মিথ আলোকপাত করেন এই বিষয়ের ওপরেও যে মানুষ কিছু সময়ের জন্য যদি তাদের ভিন্নতাকে গৌণ করে দেখে, তাহলে তা থেকে অনেক ভালো ফলাফল আসতে পারে। তিনি বিশেষভাবে কৃতিত্ব দেন সেই সব আইনজীবীদের, যারা বহু বছর ধরে এই অধিকারের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। সবাই উল্লসিত হয়ে ওঠে, এমনকি অনেকে অস্ট্রেলিয়ার বেসরকারি জাতীয় সংগীতও গেয়ে উঠেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জর্জ ব্র্যান্ডিস সুখবর দেন যে ৯ ডিসেম্বর থেকে সমপ্রেমীরাও বিয়ের আবেদনপত্র জমা দিতে পারবে। লৌকিক আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে মাসখানেক সময় লাগতে পারে তা শেষ করে তারা নতুন বছরে বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। এই আইন পাশ হবার সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তারাও স্বীকৃতি পাবে যারা অন্যান্য দেশে বিয়ের কাজ সেরেছেন।

অর্থাৎ রেইনবো পরিবারের মুখপাত্র টমলিন ও সারাহ এবং জ্যাসন টুজন ও আড্রিয়ান যারা ২০০৪ সালে কানাডাতে বিয়ে করেছিলেন, তারাও স্বীকৃতি পাবেন স্বাভাবিকভাবেই। প্রবাসে বিয়ে নিয়ে কেস সর্বপ্রথম টমলিনই উত্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, এই সময়টা তার এবং তার পুরো পরিবারের জন্য অনেক দীর্ঘ একটা যাত্রা ছিলো। অন্যদিকে জ্যাসন টুজন আইন পাশ হওয়ার প্রক্রিয়াকে সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, প্রক্রিয়াটি সন্তান জন্মদানের মতই দীর্ঘ এবং কষ্টের এবং একই সঙ্গে তা অসম্ভব গর্বের এবং আনন্দের।

এই বিজয় উদযাপন করতে রাজধানী ক্যানবেরাতে হাজির হয়েছিলেন সাতারু ইয়ান থর্প, ড্যানিয়েল কোয়ালস্কি, অভিনেতা মাগদা যুবানস্কি এবং অধিকার কর্মী কেরী ফেল্পস।

জর্জ ব্যান্ডিস বলেন, সমপ্রেমীদের বিয়ের অধিকার ম্যালকম টার্নবুলের নেতৃত্ব এবং তার দল ন্যাশনাল কোয়ালিশন সরকারের জন্য এক অবিনশ্বর পদক্ষেপ হয়ে থাকবে। যদিও এর কৃতিত্ব বিরোধী দল লেবার পার্টিকেও দিতে হবে। তারাও সমানভাবে সমপ্রেমি বিয়ের জন্য প্রচারণা চালিয়েছে এবং ভোট দিয়েছে।

যখন টার্নবুল ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন তিনি সমপ্রেমি বিয়ের জন্য একটি গণভোটের প্রস্তাব তুলেছিলেন এবং সমালোচিত হয়েছিলেন। মানবাধিকার এবং এলজিবিটি কর্মীদের বক্তব্য ছিলো, মানুষের অধিকার কখনো গণভোটের ভিত্তিতে নেয়া হতে পারে না। পরবর্তীরে ম্যালকম সরকারই জরিপের ব্যবস্থা করে জনগণকে মতামত দেয়ার সুযোগ করে দেয়। ফলাফল স্বরূপ ৬১.৬% শতাংশ মানুষ ভোট দেয় সমপ্রেমী বিয়ের পক্ষে। বাকিরা মনে করে, এই অধিকার ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

কিন্তু সব নেতিবাচক মন্তব্যকে দূরে সরিয়ে দিয়ে সমপ্রেমীদের বিয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সম্পর্কে বিরোধী দলের নেতা বিল শর্টেন বলেন, “এটাই নতুন অস্ট্রেলিয়া, আরো ব্যাপক এবং আরো সাম্যবাদী”। তিনি আরো বলেন, এটাই বিয়েতে সমতা পাওয়ার উপযুক্ত সময়, এবং সব নাগরিকের অধিকার আছে তা উপভোগ করার। প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম তার বক্তব্যে আবেগী হয়ে বলেন, এই বিজয় অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের, কেননা তাদের সিদ্ধান্তেই এটি হয়েছে। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার সবাই ভালোবাসার পক্ষে রায় দিয়েছে। এটাই সময় আরো ভালোবাসার, নতুন প্রতিজ্ঞা করার।

সবশেষে তিনি বলেন “এটাই অস্ট্রেলিয়া, যেখানে মানুষগুলোর মাঝে পক্ষপাতিত্ব নেই। ভিন্নতা আছে এবং ভিন্নতা মেনে নিয়ে তারা ভালোবাসতে এবং শ্রদ্ধা করতে জানে”।

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  • 88
  •  
  •  
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    91
    Shares

লেখাটি ৩৭৫ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.