মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি: ফিরে আসেনি কতো কতো নগেন কাকারা

লুতফুন নাহার লতা:

১৯৭১ সাল। দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধ শেষে ১৬ই ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হয়েছে। ঢাকায় মিত্র বাহিনীর কাছে পাকিস্তানী সেনা বাহিনীর আত্মসমর্পনের খবর পেয়ে আমরা উল্লাসে ফেটে পড়েছি। চিৎকার করে ‘জয়বাংলা’ স্লোগান দিয়ে বাড়ী মাথায় করে তুলেছি।
আমার নানী ছুটে এসে দুই হাতে আমাদের মুখ চেপে ধরেছেন। গ্রামের রাস্তা দিয়ে তখনো পাকিস্তানী মিলিটারির ট্রাক আসা যাওয়া করছে। খুলনা এখনো স্বাধীন হয়নি। খুলনায় তখনো রূপসার বুক চিরে গানবোট থেকে মর্টার শেলিং হচ্ছে। টুটপাড়া থেকে রূপসা, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি, লবনচরা, হরিণটানা, সাচিবুনিয়া, গল্লামারী ফেটে পড়ছে সে শব্দে। আমরা খুলনায় নেই। আত্মীয় স্বজন, পরিচিতজনেরা অনেকেই শহরে নেই। বাবা আমাদেরকে কিছুদিনের জন্যে গ্রামে রেখে আসেন, আবার আমরা সেখান থেকেও পালাতে পালাতে ক্লান্ত হয়ে খুলনায় ফিরে আসি, কিছুদিন পরে আবারও খুলনা থেকে পালিয়ে যেতে হয় আমাদের।

দেশ স্বাধীনের খবর শুনেও বুকে পাথর বেঁধে আরও আটচল্লিশ ঘন্টা গ্রামে পড়ে আছি আমরা। ১৭ই ডিসেম্বর খুলনা স্বাধীন হয়েছে শুনে, মা আমাদেরকে নিয়ে ছুটে বেরিয়েছেন পথে। আমার বাবার খবর পাচ্ছি না অনেক দিন, ধরে নিয়েছি তিনি খুলনায় আছেন। আমার দাদা (বড় ভাই) কোথায় আমরা জানি না। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই বাবা নানা অজুহাতে আর কাজে যোগ দেননি। মে-জুন মাসের দিকে তাকে অফিস থেকে তলব করে নেয়া হলো। সেইবার বাবা যখন একদিন শেষরাতে রূপসার জলে ভেসে ভেসে লবনচরার দিক থেকে কোনমতে জীবন বাঁচিয়ে ফিরেছিলেন, সেই শেষ। কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে আমার বাবাসহ বেশ কয়েকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে রূপসার পারে দাঁড় করিয়ে দেয়। কেমন করে কোন অলৌকিক শক্তির বলে উনি ঝাঁপিয়ে পড়েন রূপসায়, তারপর স্রোতের টানে ভেসে যান দূরে।

যুদ্ধ শুরু হলে আমরা চলে গিয়েছিলাম শহর ছেড়ে গ্রামে, আমার নানীর বাড়ীতে। আমার মামা-মামীরা প্রায় জনা তিরিশ-চল্লিশেক বাইরের মানুষকে আশ্রয় দিয়ে বাঁচিয়েছিলেন। আমরা, আমার খালা এবং তার শ্বশুর বাড়ির লোকজনই শুধু নয়, খালার ননদের শ্বশুর বাড়ীর লোকেরাও ছিল তার ম্ধ্যে। মামা বাড়ীতে প্রতি বেলায় এতো মানুষের খাবার রান্না হচ্ছে, সবাই একসাথে পুকুরে নেমে হল্লা করছে, বাড়ির উঠোনে বসে কথাবার্তা বলছে, বাচ্চারা গায়ে ধুলো মেখে খেলে বেড়াচ্ছে, সন্ধ্যে হলে লেপের ভেতরে ঢুকে স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠান শুনছে। এম আর আখতার মুকুলের চরম পত্র শুনছে। এই এতো সব হৈচৈ দেখে চারিদিকে প্রচার হয়ে গেছে খুলনা থেকে আত্মীয়-স্বজন এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছে।

আমার ১৯৭০ এ ঘরে ঘরে লোকে আওয়ামী লীগে ভোট দিয়েছে। বাঙালীর মুক্তির মার্কা তখন একটাই ‘নৌকা’। সবাই জানে এ বাড়ির লোকেরা বঙ্গবন্ধুর লোক, তাই আমরা কেউই নিরাপদ ছিলাম না সেখানেও। এ গ্রাম, সে গ্রাম ঘুরে ঘুরে আবার সেখানে এসেছি ডিসেম্বরের কনকনে ঠাণ্ডায়। এতো মানুষ একসাথে গাদাগাদি করে থাকাটাও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। ঠিক সেই সময় স্বাধীন হলো দেশ।

স্বাধীনতার উল্লাসে, আনন্দে, অশ্রুতে আমরা যখন ছুটে বেরিয়েছি খুলনায় যাবো বলে, দেখছি পথের দুধার দিয়ে ছুটে চলেছে মানুষ। মানুষ হাসছে, মানুষ কাঁদছে, যে যাকে পারছে জড়িয়ে ধরছে। চিৎকার করে কথা বলছে সবাই। লোকে লোকারণ্য চারিদিক। জয়বাংলা শ্লোগানে আকাশ বাতাস কাঁপছে। সবাই ছুটছে, কিন্তু ঠিক কোথায় যাচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছে না। কেবল ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটছে মানুষ। সে যে কী এক অসাধারণ ঐতিহাসিক মুহুর্ত!

স্বজন হারানোর আহাজারীতে বাতাস ভারী, আনন্দ আর অশ্রু একই ধারায় প্রবাহিত হচ্ছে। মানুষ ছুটছে মুক্তিবাহিনী দেখতে। মানুষ চলেছে মিলিটারি ক্যাম্পগুলোতে, তাদের আপনজন যাদের ধরে নিয়ে গিয়েছিল তাদের যদি জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া যায়, সে আশায়। খুলনার বয়রা, খালিশপুর পাওয়ার হাউস, জেলা স্কুলের মাঠ, ডিসি অফিসের সামনে, পিআইএ (পাকিস্তান এয়ার লাইন্স) অফিসের সামনে, শহীদ হাদিস পার্কের দিকে, লোকে লোকারণ্য। সারা শহরে এতো মানুষ!

সারা বাংলাদেশের বুকের তলায়, পাকিস্তানি নরখাদক বাহিনীর বিরুদ্ধে ১৯৬৯ থেকে গর্জে ওঠা প্রতিবাদের ডিনামাইটটি ফেটে, বঙ্গোপসাগরের উত্তাল তরঙ্গের মতো বয়ে গেছে ১৯৭১ এর দীর্ঘ এই নয় মাস ধরে। আজ আকাশ, বাতাস, ধুলো, মাটি, গাছপালা সব আনন্দে, বিষাদে আর্তনাদ করছে। দেশ স্বাধীন হয়েছে। বাতাস ভারী হয়ে আছে লাশের গন্ধে। থমথম করছে আকাশ।

অগণিত লাশ ভেসে যাচ্ছে রূপসার জলে, বিশেষ করে গল্লামারী ব্রিজের নিচ দিয়ে। মানুষ ঊর্ধশ্বাসে সেদিকে ছুটছে, সবাই বলছে গল্লামারীতে নাকি ঢাকার রায়ের বাজারের মতো বধ্যভূমি বানিয়েছিল খানসেনারা। নদীর দুই ধারে অসংখ্য মানুষের লাশ। লাশের গন্ধে দম ফেলতে পারছে না মানুষ।

শত শত মানুষ নদীর দুই ধারে জড়ো হয়ে তাদের আত্মীয় স্বজনকে খুঁজে ফিরছে। পচে গলে রক্ত মাংস মাটিতে মিলে গেছে এমন সব লাশ এখন আর লাশ নেই কেবল কংকাল। মানুষ জন টেনে টেনে উপরে তুলে সারি দিয়ে রাখছে, তা দেখে চেনার উপায় নেই কোনটা কার। কেবল মাথার খুলি আর খুলি। যতো দূর চোখ যায় কেবল মাথার খুলি আর কংকাল।

মাঝে মাঝে আবার সদ্য মারা লাশ, যাদেরকে এই দিন কয়েক আগে ঘর থেকে ধরে এনে মেরেছে, তাদের দেহাবশেষ এখনো তরতাজা, এতোটুকু মলিন হয়নি। মানুষ নাকে কাপড় চেপে ধরে কেবল বিস্ফারিত দুই চোখ খুলে দেখছে আর ভাল করে চেনার চেষ্টা করছে তার স্বজনের লাশ কিনা।

খুলনা শহরে মুক্তিযোদ্ধারা ঢুকেছে গতকালই। সার্কিট হাউসের মাঠে, পাকিস্তানী মিলিটারীর খুলনার জিওসি খিজির হায়াত খান, বাঙ্গালী মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় যৌথ বাহিনীর প্রতিনিধির কাছে আত্ম সমর্পণ করেছে।

১৯৬৯ এর উত্তাল দিনগুলিতেই আমাদের টুটপাড়ার আশেপাশের অধিকাংশ বাড়িঘর গোপনে গোপনে বিক্রি হতে শুরু করেছে। নোয়াখালীর এক ব্যাংকার কিনে নিলেন আমাদের সরকার পাড়া রোডের সুশীল সরকার কাকার বাড়ির সামনের খোলা মাঠ। যে মাঠে সারা দিনমান খেলে বড় হয়েছি আমরা। এমনি করে একে একে কিছুদিনের মধ্যেই সারা শহর কেমন শুন্য হয়ে যেতে থাকল। মার্চেই টুটপাড়া থেকে সব বনেদি হিন্দু পরিবার গুলো রাতারাতি নিঃশব্দে চলে গেল। টুটপাড়া কালাচাঁদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে নগেন সরকারের বিরাট বড়ো বাড়ি। সাদা ধবধবে টানা বিশাল বারান্দা। বাড়ীর সামনে সারি সারি কাঠমল্লিকা ফুলের গাছ। ফুলে ফুলে ম ম করতো পুরো এলাকা। ও বাড়ীর মেয়েরা বিকেলে দুই বেনীতে রাঙা ফিতের ফুল বেঁধে, ছাদে উঠে এক্কা দোক্কা খেলতো। বৌদের গলায় দুলতো সোনার বিছে হার। তারা বড় বড় পানের বাটা নিয়ে ঐ সাদা টানা বারান্দায় বসে গল্প করতো, আর সেলাই ফ্রেমের ভেতরে বেঁধে, টেবিল ক্লথে নানান রঙের সুতোর কারুকাজ করতো।

রাস্তার দু’পাশে দুটি আটা ভাঙ্গানো, ধান ভাঙ্গানো কল, সারা দিন গোওওও শব্দে পাড়া মাথায় করে রাখতো। কালাচাঁদ স্কুলের (স্থানীয় লোকেরা বলতো কালাচান স্কুল) সামনে স্বর্ণকার অসিত দত্তের বাড়ী, জর্জদাদের বাড়ী, সুশীল কাকার বাড়ি, রাতারাতি কেমন করে সব শূন্য হয়ে গেল। ভূতের বাড়ির মতো পড়ে রইলো সব।
জোড়াকল বাজার থেকে হিন্দু বনেদী ব্যবসায়ীদের দোকানগুলো ৭ মার্চের পরে আর খুললো না। বিরান হয়ে গেল খুলনার ডাক বাংলার মোড়, শান্তিধামের মোড়, তারের পুকুর এলাকা, ডাক্তার অনন্ত মল্লিক আর ডাক্তার নগেন সরকারের বাড়ি। বড় বাজার আর ধর্মসভা এলাকা দাউ দাউ আগুনে জ্বললো। অগণিত মা-বোনেরা রাজাকারদের সহায়তায় নির্মমভাবে বন্দী হয়ে গেল মিলিটারির হাতে। মাত্র ক’দিনের মধ্যে পুরো খুলনা শহর ভৌতিক শহর হয়ে উঠলো। একসময় আমরাও জীবনের ভয়ে খুলনা ছেড়ে যেতে বাধ্য হলাম।

জামাত নেতা মওলানা ইউসুফ ও তার ঘনিষ্ঠ সহচর মোল্লা হারুনুর রশীদ এর বাড়ি আমাদের বাড়ির সাথে প্রায় লাগোয়া। তাদের গঠিত রাজাকার বাহিনী টুটপাড়া কবরস্থানের পিছনে ভূতের বাড়ি আনসার ক্যাম্পে শুরু করলো রাজাকার প্রশিক্ষণ। জামাতি ইসলামি দলের সদস্যরা ছাড়াও পাড়ার দু’চার ঘর গরীব কর্মপোজীবী মানুষ যারা ঠেলাগাড়ী চালাতো বা ঘর তৈরির কাজে কামলা খাটতো, তাদের কেউ কেউ প্রলোভনে পড়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগ দিলো। তবে শুরুতেই খুলনা আলীয়া মাদ্রাসার ছাত্রদেরকে অনায়াসেই রাজাকার বাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করে নেয় মওলানা ইউসুফ ও তার অনুসারীরা।

১৯৭১ এও একটি রমজান মাস এসেছিলো। এসেছিল একটা ঈদ। আমাদের ধান ক্ষেতে বৃষ্টির মতো ঝরেছিল গুলি, চাপ চাপ রক্তে ভেসে গেছিল মামাবাড়ির নদীর ওপারে দাস পাড়া। বড় বাজার, শিতলাবাড়ী, হরিন্টানা, সাচিবুনিয়া, বটিয়াঘাটা, খালিশপুর, দৌলতপুর, ফুলতলা, গিলেতলা চিতলমারি। আমরা কেউ ঈদ বলে টু শব্দও করিনি। আমাদের ঈদ কেটেছে ট্রেঞ্চের ভেতরে লুকিয়ে থেকে। টুটপাড়া পিসকমিটির সেক্রেটারির স্ত্রী প্রতিবেশী খালাম্মার সেই ঈদে সাতখানা নতুন শাড়ী হয়েছিল। একটি তার কাঞ্চিভরম। এই শাড়ীর নাম সেই প্রথম শুনেছিলাম। অনেক বড় বড় স্মৃতি ভুলে যাই কিন্তু ছোট ছোট টুকরো কিছু স্মৃতি বড় কাঁটার মত বিঁধে থাকে।

খুলনা খালিশপুর, দৌলতপুরের চারিদিকে মিলিটারী ক্যাম্প হয়েছে। বয়রা, খালিশপুর পাওয়ার হাউস, গল্লামারী রেডিও স্টেশন, রূপসা ফেরী ঘাট, স্টিমারঘাট, সার্কিট হাউস, পি আই এ অফিস সর্বত্র মিলিটারী আর জামাতী ইসলামি দলের নেতাদের দুরন্ত চলাচল। দিনে দুটি একটি রিকশার টুং টাং আর রাত হলে ভারী গাড়ির আওয়াজ, মাঝে মাঝে নারী কন্ঠের আর্তনাদ, এমনি করে বয়ে চলেছে যারা এখনো খুলনা ছেড়ে যায়নি তাদের জীবন। সবকিছু বন্ধ, বাজার ঘাট দোকান পাসান, কেবল জোড়াকল বাজারের চায়ের দোকান আর দু’একটি মুদিখানা দোকান খোলা। যুদ্ধের দিনগুলোতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে সারা উঠোন জুড়ে বাংকার খোড়া হয়েছে, আর সব বাড়ির সামনের দরজায় লাগানো হয়েছে তালা।

আমার মামা বাড়ির গ্রামের চেনাজানা এক রিকশাওয়ালার রিকশায় করে আমরা খুলনায় যাচ্ছি, মায়ের কোলে একজন আর আমার কোলে একজন, রিকশায় বসে শক্ত করে ধরে আছি রিকশার বাতা। এবড়ো থেবড়ো খানা খন্দ রাস্তা দিয়ে কোনমতে সে আমাদের রূপসা ঘাটে এনে নামিয়ে দিয়ে ফিরে গেলো। আমরা রূপসা নদী পার হয়ে, বেশ দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে বাড়ির সামনে এসেছি, কিন্তু আমাদের পাড়াটি আর চিনতে পারছি না। রাস্তাঘাট খোঁড়া, বাড়ির সামনে সামনে বাংকার, রাস্তায়, খেলার মাঠ, বাড়ির ভিতর কেবল মাটির ঢিবি। আমার বাবাকে বাড়িতে না দেখে মা চিৎকার দিয়ে মাটিতে গড়িয়ে পড়লেন। পাশের বাড়ির একজন খবর দিলেন গোলাগুলি থামার পর খুব সকালেই উনি ওনার বন্ধুর ছেলেকে খুঁজতে বেরিয়ে গেছেন গল্লামারী ব্রিজের নিচে।

বাবা ফিরে এলেন, কিছুদিন পরে গ্রামের বাড়ি থেকে বড় ভাইও, কিন্তু কতো মানুষ যে আর ফিরে এলো না, কতো পরিবার যে হাহাকার নিয়ে অপেক্ষায় রইলো আপনজনের ফেরার, তার ইয়ত্তা নেই। নগেন সরকার, অসিত দত্তের পরিবার, জর্জদা’রা, আর ফেরেনি। ফিরেছিলেন সুশীল কাকারা। আমাদের পাড়ার মেয়ে টেমুদি ফিরে এসেছিল! কিন্তু টেমুদির দেহ ঘিরে কালসাপের ছোবল, ধানক্ষেতে চাপ চাপ রক্ত, বিরান শ্মশানের হাহাকার বুকে নিয়ে।

এইতো আমার দেশ। লাল সবুজের ওই তো আমার পতাকা। ওই তো আমার স্বাধীন দেশের স্বাধীন লাল সূর্য। একদিন বুকের রক্ত ঢেলে এই স্বাধীনতা এনেছিলাম আমরা।

শেয়ার করুন:
  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
    156
    Shares
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.