রমা চৌধুরীর সাথে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী

rama maউইমেন চ্যাপ্টার (২৬ জুলাই): একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর হাতে নির্যাতিত চট্টগ্রামের রমা চৌধুরীর সাথে দেখা করার আগ্রহ দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল উইমেন চ্যাপ্টারকে বলেন, এখনও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি, তবে আগামী দু’একদিনের মধ্যেই দেখা করানোর ব্যবস্থা হতে পারে। শাকিল আরও জানান, তিনি নিজেও চট্টগ্রামে ফোন করে রমা চৌধুরীর সাথে কথা বলেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের বিষয়ে শাকিল বলেন, বর্তমান সময়ে রমা মাসীমার মতোন এমন একজন মানুষ পাওয়া খুবই দুর্লভ, যিনি কোন সাহায্য চান না। এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে স্পর্শ করেছে। তাছাড়া রমা চৌধুরীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার ছাত্রী ছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেও একই বিভাগের ছাত্রী। এ বিষয়ে রমা চৌধুরী একটি অনলাইন পত্রিকাকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন। আমি বলেছি, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে না, আমি দেখা করবো বঙ্গবন্ধুর কন্যার সঙ্গে। আমি কারও করুণা চাই না। কিন্তু আমার সব দু:খ-কষ্টের কথা আমি হাত ধরে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে বলতে চাই’।

তিনি আরও বলেন, ‘ জীবনের শেষ বয়সে এসে কারও করুণায় আমাকে বাঁচতে হবে, এ আমি চাই না। কেউ কি আমার জীবনের হারিয়ে যাওয়া সময়গুলো ফিরিয়ে দিতে পারবে? আমার সন্তানদের কি কেউ ফিরিয়ে দিতে পারবে? আমার বুকের ভেতর অনেক কষ্ট, অনেক যন্ত্রণা’।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামের বীরাঙ্গনা ও লেখক রমা চৌধুরীর খবরটি প্রকাশের পর তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোকে ব্যাপক আলোড়ন হয়। দেশ-বিদেশের অনেকেই তাঁকে সহায়তার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। রমা চৌধুরী ওরফে রমা মাসীমা কারও সহায়তা নিতে চান না জীবন সায়াহ্নে এসেও। তিনি বই লিখেন এবং সেই বই বিক্রি করে যা পান তাই দিয়েই কোনরকমে চালান নিজেকে। তাঁর একটাই কথা, ‘বই কিনে আমাকে সহায়তা করা যায়’।

একাত্তরে দুই সন্তানের জননী রমা চৌধুরীর ওপর অত্যাচার চালায় পাকবাহিনী। এই ঘটনার পর মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া এই জননীর দুই সন্তানও অসুখে ভূগে, অবহেলায়, বিনা চিকিৎসায় মারা যায় এক মাসের ব্যবধানে। স্বামীর ঘরও ভেঙ্গে যায়, সমাজের ধমকি-ধামকি তো ছিলই। কয়েক বছর পর আবার নতুন করে জীবন শুরু করলেও তা টেকেনি। সেই সংসারের এক ছেলেও মারা যায় সড়ক দুর্ঘটনায়। হিন্দু শাস্ত্রমতে শবদাহের প্রথা থাকলেও রমা চৌধুরী তা মানেননি। তিনি তিন ছেলেকেই কবর দেন। কিন্তু যে মাটির তলে শুয়ে আছে ছেলেরা সেই মাটির ওপর দিয়ে তিনি কোনদিন জুতা পায়ে হাঁটতে পারেননি। সেই থেকেই তিনি খালি পায়ে বই ফেরি করে চলেন। এখনও লিখেই চলেছেন।

শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.