ভারতের মিসাইল কন্যা- লড়াইয়ের অন্যতম অগ্রদূত

0

আবদুল্লাহ আল মাসুদ:

টেসি থমাস, অাবদুল কালামের পর ভারতের অারেক গর্ব। নারীর জন্য গর্ব। মিসাইল কন্যা দেখিয়েছেন, নারীরাও পারে।
অাচ্ছা, বিজ্ঞানময় গ্রন্থের অনুসরণে যে সকল নারী নিজেদেরকে ‘খাবার’ মনে করে, তারা যেন কী কী অাবিষ্কার করেছে?!
কালো পলিথিনওয়ালারা কি অাবিষ্কার করতে পেরেছে কিছু?

এখনকার মেয়েরা পারে – রান্না করতে, মিসাইল বানাতে, ধর্ষকের অন্ডকোষ ফাটাতে, প্রয়োজনে লম্পট স্বামীকে পেটাতে!
মেয়েরা পারবে, সব পারবে। মোল্লা স্বামীর মোল্লাগিরি ছুটিয়ে দিতে পারবে। ইভটিজারের জিভ টেনে ছিঁড়তে পারবে। বোরকার ফেরিওয়ালা তেঁতুলিষ্টদের হাবিয়া দোজখে পাঠাতে পারবে।

নারী দেখলেই যাদের অনুভূতি অতিরিক্ত সম্প্রসারিত হয় তাদের সম্প্রসারিত অঙ্গের ব্যবচ্ছেদ করতেও পারবে।
হে নারী, জেগে ওঠো, প্রস্তুত হও, লড়াইয়ের ময়দানে নামতে হবে তোমারও।
তুমি শুধু রান্নাঘরের শোভা নও, তুমি রণাঙ্গনের সেনাপতিও। তুমি শুধু পুরুষের তলে থাকার নও, পুরুষকে তলে ফেলতেও পার।
তুমি পুরুষের খাবার নও যে, খাবার ঢেকে রাখতে হবে। বরং লম্পট মোল্লাকে তোমার খাবার বানাও, এবং মোল্লাকে বোরকা পরাও।
বোরকা না পরলে মোল্লাকে ধর্ষণ করতে হবে, গণধর্ষণ। ধর্ষণ করে মোল্লার বিচি ফাটাতে হবে।
বোরকার ফেরিওয়ালা মোল্লাকে ঝাড়ুপেটা করতে হবে, সাহস অাছে কি টেসি থমাসের উত্তরসূরিরা? সাহস হবে কি বেগম রোকেয়ার শিষ্যরা?

অার নয় চুপ থাকা, এবার ৭২ হুরের লোভী লম্পটগুলিকে জুতাপেটা করতে হবে, পারবে তো নারী?
‘লজ্জাই নারীর ভূষণ’ – এসকল ছাগলামি মার্কা কথা দিয়ে তাবিজ বানিয়ে তা মোল্লার পশ্চাতে ঢুকাতে হবে।
‘সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’ – এসকল অাবলামি কথা বললে স্বামী নামক অাসামির স্বামীত্ব ছুটিয়ে দিতে হবে।
স্বামী মানে মালিক, ‘স্বামী’ বলতে কোন শব্দ থাকা উচিত না।

সিনেমার কমন দৃশ্য – নায়িকা ভিলেন কর্তৃক ধাওয়াকৃত, বাঁচাও বাঁচাও চিৎকার…..নায়ক হাজির, ভিলেনরা ধরাশায়ী!
নারী কেন বাঁচাও বাঁচাও বলে চেঁচাবে? নারী নিজেই নিজেকে বাঁচাবে, ধর্ষকদের প্রত্যেকের অন্ডকোষ ধ্বংস করতে হবে।
হে নারী, নিজেকে বাঁচানোর জন্য প্রস্তুত হও, অনুভূতি-জীবীর অনুভূতি ধুলিস্যাৎ করে দাও।

অামরাও অাছি, সম্মিলিত শক্তিতে নস্যাৎ করা হবে হুরকামী লুচ্চাদের লুম্পেনইজম।
তেঁতুলিষ্টরা দুর্বলতায় ভোগে, তাই নারীকে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে রেখে ফায়দা লুটতে চায়।
তেঁতুলিষ্টরা সফল হবেনা, যদি জেগে ওঠে নারীরা। নারীর শক্তি পুরুষের চেয়ে কম নয়, এটা প্রমাণ করার সময় এসেছে।

মূল খবরটি হলো:

টেসি থমাস প্রথম ভারতীয় নারী, যাঁর নেতৃত্বে মিসাইল প্রজেক্ট হয়েছে ভারতে। এজন্য তাঁকে ভারতের ‘মিসাইল কন্যা’ হিসেবেও অভিহিত করা হয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিআরডিওতে অগ্নি-৪ মিসাইল প্রজেক্টের ডিরেক্টর তিনি। লাল বাহাদুর শাস্ত্রী জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত এই নারী ৩০০০ কিলোমিটার পাল্লার অগ্নি-৩ মিসাইলের সহকারী প্রজেক্ট ডিরেক্টর ছিলেন। ২০১১ সালে অগ্নি সিরিজের একটি মিসাইল অগ্নি-৪ এর সফল উৎক্ষেপণ করা হয়, এই প্রজেক্টের ডিরেক্টর ছিলেন টেসি থমাস। এরপর ২০১২ সালে ৫০০০ কিলোমিটার রেঞ্জের অগ্নি-৫ এর সফল উৎক্ষেপণ করা হয় এই প্রজেক্টেরও ডিরেক্টর ছিলেন ভারতের মিসাইল কন্যা টেসি থমাস।

১৯৬৩ সালের এপ্রিল মাসে কেরলের আলাপুঝাতে জন্ম নেন টেসি। তাঁর বাবার ছোট ব্যবসা ছিল। তিনি যেখানে ছোটবেলা কাটিয়েছেন সেখানে ছিল একটি রকেট লাউন্চিং স্টেশন। সেখান থেকে তাঁর আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন শুরু। তিনি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, থ্রিসুর থেকে গ্রাজুয়েশান করেন। ডিফেন্স ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্সড টেকনোলজি থেকে গাইডেড মিসাইলে এমটেক্ করেন টেসি থমাস।

ভারতের এই মিসাইল কন্যা শুধু একজন সফল বিজ্ঞানীই নন, তিনি একজন সফল স্ত্রী এবং একজন আদর্শ মাও বটে। টেসি থমাস সরোজ কুমারের স্ত্রী যিনি ভারতীয় নৌবাহিনীতে একজন কমান্ডারের পদে কর্মরত। তাদের পুত্র তেজস ফোর্ড টেকনোলজিতে একজন ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কর্মরত। 

লেখাটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  • 1
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    1
    Share

লেখাটি ৩৪১ বার পড়া হয়েছে


উইমেন চ্যাপ্টারে প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। এই সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় উইমেন চ্যাপ্টার বহন করবে না। উইমেন চ্যাপ্টার এর কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না।

Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.